আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝেRead more
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝে আছে বলে কেউ বিশ্বাস করে তাহলে সে হবে মুশরিক। আল্লাহর এই সিফাতি নামগুলো খাস করে বিশ্বাস- পোষণ করে এর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করলেই জান্নাত লাভ করা যাবে। শুধু নামগুলো মুখস্থ করলেই নয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই-এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে।
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিRead more
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ইদ্দতান্তে কোনো দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। মহিলাটি তো চরম উদারতা দেখিয়েছে। স্বামীকে অন্য বিবাহের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। এ সমাজে কয়জন মহিলাই এমন উদারতা দেখাতে পারে? যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহে আসক্ত হয়ে আছে এমন পাপিষ্ঠের সাথে কোনো দ্বীনদার মহিলার না থাকাই উচিত।
মহান আল্লাহ বলেন,
الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [সূরা নূর: আয়াত:৩]
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন। বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা'বার কাছে থাকতেই লোকজন উRead more
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন।
বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা’বার কাছে থাকতেই লোকজন উনাকে চিনে ফেলবে আর উনার কাছে বাইআতের জন্য তারা পীড়াপিড়ি করবে। প্রথমত, তিনি লোকদের বাইআত নিতে অস্বীকার করবেন। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আওয়াজ দেওয়া হবে –
هذا خَلِيفَةُ الله المهدي
ইনিই আল্লাহর খলীফাহ মাহদী, অবশেষে তিনি জিহাদের দায়িত্ব নিবেন এবং উনার নেতৃত্বেই জিহাদ পরিচালিত হবে।
“বরফের পাহাড়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাঁর (মাহদির) কাছে পৌঁছে তাঁর সঙ্গে যোগ দাও” — এই কথাটি সাধারণত ইমাম মাহদি (আঃ)-এর প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
এই বর্ণনাটির উৎসমূল ও মান :
এই হাদিসটি পাওয়া যায় ইবন মাজাহ-এর সুনান গ্রন্থে,
কিতাবুল ফিতান, باب خروج المهدي,
হাদিস নম্বর: 4084 (কিছু সংস্করণে 4082)।
আরবিতে বর্ণনাটি হলো:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
“يَقْتَتِلُ عِندَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ، ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ، فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ – ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ – فَقَالَ: فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ”
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের জন্য তিনজন খলিফার পুত্র যুদ্ধ করবে… তারপর পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাধারীরা আসবে… তারপর নবী ﷺ বললেন: ‘যদি তোমরা তাঁকে (মাহদিকে) দেখতে পাও, তবে বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়েও তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে বায়আত করো, কারণ তিনি আল্লাহর খলিফা মাহদি।”
হাদিসের মান (দুর্বল বা সহীহ?)
কেউ কেউ এই হাদীসের রাবিকে সত্যবাদী বলেছেন। আবার কেউ কেউ কোন কোন রাবির দুর্বলতা তুলে ধরেছেন।
ইবন হাজর, আলবানী, শু’আইব আল-আর্নাউত প্রমুখ হাদিস সমালোচকরা বলেছেন —
সনদে থাকা ‘আলী ইবন যায়েদ ইবন জুদআন’ দুর্বল বর্ণনাকারী, ফলে হাদিসটি দুর্বল।
🔹 শায়খ আলবানী (সিলসিলা আল-আহাদিস আল-দাইফাহ, হাদিস ৮৫) একে দুর্বল বলেছেন।
🔹 শু’আইব আল-আর্নাউত (তাহকীক, সুনান ইবন মাজাহ) মন্তব্য করেছেন: “إسناده ضعيف” — “এর সনদ দুর্বল।”
তবে অর্থগতভাবে (মাতন) হাদিসটির ভাব সহীহ,
যদিও সনদ দুর্বল, তবুও বিষয়বস্তু ইমাম মাহদি সম্পর্কে অন্যান্য সহীহ হাদিসের সাথে মিল রাখে— যেমন মাহদির আগমন, পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী বাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদিস রয়েছে (যেমন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ইত্যাদিতে)।
তবে “বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে যাও”— অংশটি বিশেষভাবে দুর্বল সূত্রে এসেছে।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা দেখে মনে হয় ইমাম মাহদির আগমন সন্নিকটে। কারণ হাদিসে বর্ণিত কিয়ামতের ছোট ছোট আলামতগুলো প্রায় প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর কিয়ামতের বড় আলামত ইমাম মাহদির আত্ম প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হবে।والله أعلم
ক্রয়কারীর সাথে কোনো প্রকারের প্রতারণা করা যাবে না। কাপড় যেই পরিমাণ দিবেন সেই পরিমাণ বলবেন মিথ্যা বলা যাবে না। বেচা-কেনা হবে পরস্পরের সম্মতি ও সন্তষ্টির ভিত্তিতে। সে কিছু কম দিলে যদি আপনার ক্ষতি হয় তাহলে তাঁর কাছে মাল বিক্রি করবেন না। কোনো প্রকারের মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে ব্যবসা আর হালাল থাRead more
ক্রয়কারীর সাথে কোনো প্রকারের প্রতারণা করা যাবে না। কাপড় যেই পরিমাণ দিবেন সেই পরিমাণ বলবেন মিথ্যা বলা যাবে না। বেচা-কেনা হবে পরস্পরের সম্মতি ও সন্তষ্টির ভিত্তিতে। সে কিছু কম দিলে যদি আপনার ক্ষতি হয় তাহলে তাঁর কাছে মাল বিক্রি করবেন না। কোনো প্রকারের মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে ব্যবসা আর হালাল থাকবে না,বরকত থেকে বঞ্চিত হবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ (ثلاثًا) الإشراك بالله. وعقوق الوالدين. وشهادة الزور (أو قول الزور)» وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم متكئًا فجلس. فما زال يكررها حتى قلنا: ليته سكت
আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? এ কথাটি তিনি বার বার বললেন। (সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন) আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন; এবার সোজা হয়ে বসলেন। তিনি কথাগুলো বার বার বলতেই থাকলেন; এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, আর যদি তিনি না বলতেন। (বুখারী ২৬৫৪, ৬২৭৩, ৬৯১৯, মুসলিম ৮৭, তিরমিযী ১৯০১, ২৩০১, আহমাদ ১৯৮৭২, ১৯৮৮১।)
সামনের ব্যক্তি উঠে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সামনে থেকে উঠে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়, বরং সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অর্থাৎ আসা অথবা যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসে مر শব্দ এসেছে যা অতিক্রম করাকে বুঝায়। আবূ জুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: لَوْ يَعْلَمُ الْـمَارّRead more
সামনের ব্যক্তি উঠে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সামনে থেকে উঠে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়, বরং সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অর্থাৎ আসা অথবা যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসে مر শব্দ এসেছে যা অতিক্রম করাকে বুঝায়।
আবূ জুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَوْ يَعْلَمُ الْـمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْـمُصَلِّيْ مَاذَا عَلَيْهِ، لَكَانَ أَنْ يَّقِفَ أَرْبَعِيْنَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَّمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُوْ النَّضْرِ: لَا أَدْرِيْ قَالَ: أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً.
‘‘যদি নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা ব্যক্তি জানতে পারতো তার কতটুকু গুনাহ্ হচ্ছে তা হলে তার জন্য চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম বলে বিবেচিত হতো নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটার চাইতে। হাদীস বর্ণনাকারী আবুন্ নায্র বলেন: আমি সঠিকভাবে জানি না চল্লিশ দিন না কি মাস না কি বছর’’। (মুসলিম ৫০৭)
আবূ সা’ঈদ্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّيْ فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلْيَدْرَأْهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ.
‘‘যখন তোমাদের কেউ নামায পড়ে তখন সে যেন কাউকে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে না দেয়। বরং কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে সাধ্য মতো বাধা দিবে। যদি তাতেও কোন ফায়েদা না হয় তা হলে তার সাথে প্রয়োজনে লড়াই করবে। কারণ, সে তো শয়তান’’। (মুসলিম ৫০৫)
সুতরাং কোন ব্যক্তি নামাজরত ব্যক্তির ঠিক মাথা বরাবর অবস্থান করে তাহলে সে ইচ্ছে করলে ডান অথবা বাম পাশে সরে যেতে পারে।
যদি মাথা থেকে ডান দিকটায় বেশি থাকে তাহলে ডান পাশে আর বাম দিকটায় বেশি থাকলে বাম পাশে আর ঠিক মাঝ বরাবর থাকলে ডান-বাম যে দিকে ইচ্ছা সরে যেতে পারে। এটা নাজায়েজ বা গুনাহের কারণ নয়। কারণ এভাবে ডানে-বামে সরে যাওয়াটা হাদিসে নিষিদ্ধ ‘অতিক্রম’ এর মধ্যে গণ্য হবে না। والله أعلم
চুল পাকা সাধারণত বয়স বৃদ্ধি পাওয়ারই আালামত। তবে কারো কারো অল্প বয়সেও চুল পেকে যায়। মুমিনের সব সময়ই মৃত্যুর প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। চুল পাকলে পরপারে যাওয়ার নোটিশ মনে করে প্রস্তুতি আরো বাড়ি দেয়া প্রয়োজন। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বিশেষ দ্রষ্টব্য: পাকা চুল ও দাড়িRead more
চুল পাকা সাধারণত বয়স বৃদ্ধি পাওয়ারই আালামত। তবে কারো কারো অল্প বয়সেও চুল পেকে যায়। মুমিনের সব সময়ই মৃত্যুর প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। চুল পাকলে পরপারে যাওয়ার নোটিশ মনে করে প্রস্তুতি আরো বাড়ি দেয়া প্রয়োজন। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: পাকা চুল ও দাড়ি উঠানো যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা পাকা চুল তুলে ফেলো না। কেননা পাকা চুল হ’ল মুসলমানের জ্যোতি। কোন মুসলমানের একটি চুল পেকে গেলে আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লিখেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি পাপ মোচন করেন। (নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৫৮ ‘সনদ হাসান’)।
আকীকা ৭ম দিনে দেওয়ায় নিয়ম। তবে সঙ্গত কোন কারণে যদি সময়মত করা সম্ভব না হয়, পরবর্তীতে সুযোগ মত যেকোন সময় তা আদায় করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, তুহফাতুল মাওদূদ ৬৩ পৃঃ; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং- ১৯৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ১৭৭৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ২৫/২১৫)। শাফেঈ বিদ্বানগণেরRead more
আকীকা ৭ম দিনে দেওয়ায় নিয়ম। তবে সঙ্গত কোন কারণে যদি সময়মত করা সম্ভব না হয়, পরবর্তীতে সুযোগ মত যেকোন সময় তা আদায় করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, তুহফাতুল মাওদূদ ৬৩ পৃঃ; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং- ১৯৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ১৭৭৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ২৫/২১৫)।
শাফেঈ বিদ্বানগণের মতে সাত দিনে আক্বীক্বার বিষয়টি সীমা নির্দেশ মূলক নয় বরং এখতিয়ার মূলক। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, সাত দিনে আকীকার অর্থ হ’ল, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সাত দিনের পরে আকীকা করবে না (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬১ পৃঃ)।
সুতরাং এখন আকীকা দিতে পারবে। তবে যদি আকীকা না দেন তাহলে গুনাহগার হবেন না। কারণ সে সময় উনি অক্ষম ছিলেন। আর অক্ষম ব্যক্তি উপর আকীকা আবশ্যক নয়।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মূলত সেবামূলক সংস্থা। এতে চাকরী করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন এই সংস্থার সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা মিশনারীর চিন্তা থেকে অনেক কাজ করে থাকে এবং অনেক ক্ষতিকর ভ্যাক্সিন তারা তৈরী করে মুসলিম বাচ্চাদের উপর প্রয়োগ করে। এটা তাদের ইসলাম বিদ্বেষের কারRead more
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মূলত সেবামূলক সংস্থা। এতে চাকরী করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন এই সংস্থার সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা মিশনারীর চিন্তা থেকে অনেক কাজ করে থাকে এবং অনেক ক্ষতিকর ভ্যাক্সিন তারা তৈরী করে মুসলিম বাচ্চাদের উপর প্রয়োগ করে। এটা তাদের ইসলাম বিদ্বেষের কারণে এজন্য চাকরী করলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَنَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلَاةِ الْعَتَمَةِ شَهْرًا يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ ” اللَّهُمَّ نَجِّ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ”. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : وَأَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمْ يَدْعُ لَهُمْ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ” وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ‘ইশার সলাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করেছেন। তিনি কুনূতে বলেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন! হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনি কঠোর হোন! হে আল্লাহ! তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দিন যেমন দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ)-এর যুগে।’’ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, একদিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর দুর্বল ও নির্যাতিত মুমিনদের জন্য দু‘আ না করায় আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ তুমি কি তাদেরকে (নির্যাতিত মুসলিমদের) দেখছো না যে, তারা মাদীনায় ফিরে এসেছে? (সুনান আবু দাউদ তাহাকিক আলবানী হাদিস নং ১৪৪২)
আমভাবেও মুসলিমদের জন্য দু’আ করা যায় এবং কাফিরদের জন্য বদ দু’আ করা যায় এবং নিজের জন্য দু’আ করা যায়।
সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষী এরা সকলেই সুনিশ্চিতভাবে হারামের সাথে রয়েছে। ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো জীবিকা হালাল হওয়া। সূদ ভক্ষণকারীর ইবাদাত কবুল হয় না। এ মর্মে রাসূল সা. বলেন: «إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْRead more
সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষী এরা সকলেই সুনিশ্চিতভাবে হারামের সাথে রয়েছে। ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো জীবিকা হালাল হওয়া। সূদ ভক্ষণকারীর ইবাদাত কবুল হয় না।
এ মর্মে রাসূল সা. বলেন:
«إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) [المؤمنون: 51] وَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) [البقرة: 172] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»
‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআল পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্ত্তই গ্রহণ করেন। তিনি মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ তিনি দিয়েছিলেন রাসূলগণের।’’ আল্লাহ তা’আলা বলেন : ‘‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসেবে দান করেছি।’’ অতঃপর রাসূল সা. এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধুসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছেঃ হে আমার প্রভূ! হে আমার প্রভূ! অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে। তার প্রার্থনা কিভাবে কবুল হবে?’’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১০১৫।)
তাই বলে কাউকে ইবাদাত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা যাবে না। ইবাদাত করতে থাকলে হয়তো কোনো সময়ে হারাম পথ ছেড়ে দেয়ার সুযোগ হতে পারে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা। আমাদের দেশও সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। সেহেতু সূদ থেকে বাঁচতে হলে সরকার সংক্রান্ত কোনো কিছুর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরাসরি সূদ থেকে বাঁচতে হলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পারিশ্রমিক লাভ করা, কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অথবা সরাসরি বৈধ পণ্য কেনা-বেচার ব্যবসা করা ইত্যাদির মাধ্যমে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«كسب الحلال فريضة بعد الفريضة »
‘‘ফরয আদায়ের পর হালাল পন্থায় উপার্জনও ফরয।’
(আবূ বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী, সুনান আল-বায়হাকী, সম্পাদনায়: আব্দুল কাদির আতা (মক্কা আল-মুকাররমা: মাকতাবাতু দারুল বায, ১৪১৪ হি/১৯৯৪ খ্রী.) খ. ৬, পৃ. ১২৮।)
প্রশ্ন নং ৩৩ ‣ আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস্ত করলেই কি জান্নাত পাওয়া যাবে?
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝেRead more
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝে আছে বলে কেউ বিশ্বাস করে তাহলে সে হবে মুশরিক। আল্লাহর এই সিফাতি নামগুলো খাস করে বিশ্বাস- পোষণ করে এর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করলেই জান্নাত লাভ করা যাবে। শুধু নামগুলো মুখস্থ করলেই নয়।
See lessعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই-এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে।
প্রশ্ন নং ৩২ ‣ যিনাকারী পুরুষের ক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী?
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিRead more
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ইদ্দতান্তে কোনো দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। মহিলাটি তো চরম উদারতা দেখিয়েছে। স্বামীকে অন্য বিবাহের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। এ সমাজে কয়জন মহিলাই এমন উদারতা দেখাতে পারে? যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহে আসক্ত হয়ে আছে এমন পাপিষ্ঠের সাথে কোনো দ্বীনদার মহিলার না থাকাই উচিত।
See lessমহান আল্লাহ বলেন,
الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [সূরা নূর: আয়াত:৩]
প্রশ্ন নং ৩১ ‣ ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের লক্ষণ কি কি? তার আগমন কি সন্নিকটে?
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন। বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা'বার কাছে থাকতেই লোকজন উRead more
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন।
See lessবাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা’বার কাছে থাকতেই লোকজন উনাকে চিনে ফেলবে আর উনার কাছে বাইআতের জন্য তারা পীড়াপিড়ি করবে। প্রথমত, তিনি লোকদের বাইআত নিতে অস্বীকার করবেন। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আওয়াজ দেওয়া হবে –
هذا خَلِيفَةُ الله المهدي
ইনিই আল্লাহর খলীফাহ মাহদী, অবশেষে তিনি জিহাদের দায়িত্ব নিবেন এবং উনার নেতৃত্বেই জিহাদ পরিচালিত হবে।
“বরফের পাহাড়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাঁর (মাহদির) কাছে পৌঁছে তাঁর সঙ্গে যোগ দাও” — এই কথাটি সাধারণত ইমাম মাহদি (আঃ)-এর প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
এই বর্ণনাটির উৎসমূল ও মান :
এই হাদিসটি পাওয়া যায় ইবন মাজাহ-এর সুনান গ্রন্থে,
কিতাবুল ফিতান, باب خروج المهدي,
হাদিস নম্বর: 4084 (কিছু সংস্করণে 4082)।
আরবিতে বর্ণনাটি হলো:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
“يَقْتَتِلُ عِندَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ، ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ، فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ – ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ – فَقَالَ: فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ”
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের জন্য তিনজন খলিফার পুত্র যুদ্ধ করবে… তারপর পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাধারীরা আসবে… তারপর নবী ﷺ বললেন: ‘যদি তোমরা তাঁকে (মাহদিকে) দেখতে পাও, তবে বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়েও তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে বায়আত করো, কারণ তিনি আল্লাহর খলিফা মাহদি।”
হাদিসের মান (দুর্বল বা সহীহ?)
কেউ কেউ এই হাদীসের রাবিকে সত্যবাদী বলেছেন। আবার কেউ কেউ কোন কোন রাবির দুর্বলতা তুলে ধরেছেন।
ইবন হাজর, আলবানী, শু’আইব আল-আর্নাউত প্রমুখ হাদিস সমালোচকরা বলেছেন —
সনদে থাকা ‘আলী ইবন যায়েদ ইবন জুদআন’ দুর্বল বর্ণনাকারী, ফলে হাদিসটি দুর্বল।
🔹 শায়খ আলবানী (সিলসিলা আল-আহাদিস আল-দাইফাহ, হাদিস ৮৫) একে দুর্বল বলেছেন।
🔹 শু’আইব আল-আর্নাউত (তাহকীক, সুনান ইবন মাজাহ) মন্তব্য করেছেন: “إسناده ضعيف” — “এর সনদ দুর্বল।”
তবে অর্থগতভাবে (মাতন) হাদিসটির ভাব সহীহ,
যদিও সনদ দুর্বল, তবুও বিষয়বস্তু ইমাম মাহদি সম্পর্কে অন্যান্য সহীহ হাদিসের সাথে মিল রাখে— যেমন মাহদির আগমন, পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী বাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদিস রয়েছে (যেমন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ইত্যাদিতে)।
তবে “বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে যাও”— অংশটি বিশেষভাবে দুর্বল সূত্রে এসেছে।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা দেখে মনে হয় ইমাম মাহদির আগমন সন্নিকটে। কারণ হাদিসে বর্ণিত কিয়ামতের ছোট ছোট আলামতগুলো প্রায় প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর কিয়ামতের বড় আলামত ইমাম মাহদির আত্ম প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হবে।والله أعلم
প্রশ্ন নং ৩০ ‣ কাপড় ব্যবসায় টাকা আদায়ের লক্ষ্যে অতিরিক্ত হিসাব দেয়া কি জায়েজ?
ক্রয়কারীর সাথে কোনো প্রকারের প্রতারণা করা যাবে না। কাপড় যেই পরিমাণ দিবেন সেই পরিমাণ বলবেন মিথ্যা বলা যাবে না। বেচা-কেনা হবে পরস্পরের সম্মতি ও সন্তষ্টির ভিত্তিতে। সে কিছু কম দিলে যদি আপনার ক্ষতি হয় তাহলে তাঁর কাছে মাল বিক্রি করবেন না। কোনো প্রকারের মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে ব্যবসা আর হালাল থাRead more
ক্রয়কারীর সাথে কোনো প্রকারের প্রতারণা করা যাবে না। কাপড় যেই পরিমাণ দিবেন সেই পরিমাণ বলবেন মিথ্যা বলা যাবে না। বেচা-কেনা হবে পরস্পরের সম্মতি ও সন্তষ্টির ভিত্তিতে। সে কিছু কম দিলে যদি আপনার ক্ষতি হয় তাহলে তাঁর কাছে মাল বিক্রি করবেন না। কোনো প্রকারের মিথ্যা বা প্রতারণার আশ্রয় নিলে ব্যবসা আর হালাল থাকবে না,বরকত থেকে বঞ্চিত হবেন।
See lessরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
ألا أنبئكم بأكبر الكبائر؟ (ثلاثًا) الإشراك بالله. وعقوق الوالدين. وشهادة الزور (أو قول الزور)» وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم متكئًا فجلس. فما زال يكررها حتى قلنا: ليته سكت
আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহগুলো সম্পর্কে অবহিত করব না? এ কথাটি তিনি বার বার বললেন। (সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন) আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি হেলান দিয়ে বসেছিলেন; এবার সোজা হয়ে বসলেন। তিনি কথাগুলো বার বার বলতেই থাকলেন; এমনকি আমরা বলতে লাগলাম, আর যদি তিনি না বলতেন। (বুখারী ২৬৫৪, ৬২৭৩, ৬৯১৯, মুসলিম ৮৭, তিরমিযী ১৯০১, ২৩০১, আহমাদ ১৯৮৭২, ১৯৮৮১।)
প্রশ্ন নং ২৯ ‣ নামাজ পড়া ব্যক্তির সামনে থেকে উঠা যাবে কি?
সামনের ব্যক্তি উঠে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সামনে থেকে উঠে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়, বরং সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অর্থাৎ আসা অথবা যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসে مر শব্দ এসেছে যা অতিক্রম করাকে বুঝায়। আবূ জুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: لَوْ يَعْلَمُ الْـمَارّRead more
সামনের ব্যক্তি উঠে যেতে কোনো সমস্যা নেই। সামনে থেকে উঠে যাওয়া নিষিদ্ধ নয়, বরং সামনে দিয়ে অতিক্রম করা অর্থাৎ আসা অথবা যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা হাদিসে مر শব্দ এসেছে যা অতিক্রম করাকে বুঝায়।
See lessআবূ জুহাইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَوْ يَعْلَمُ الْـمَارُّ بَيْنَ يَدَيِ الْـمُصَلِّيْ مَاذَا عَلَيْهِ، لَكَانَ أَنْ يَّقِفَ أَرْبَعِيْنَ خَيْرًا لَهُ مِنْ أَنْ يَّمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ أَبُوْ النَّضْرِ: لَا أَدْرِيْ قَالَ: أَرْبَعِيْنَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً.
‘‘যদি নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটা ব্যক্তি জানতে পারতো তার কতটুকু গুনাহ্ হচ্ছে তা হলে তার জন্য চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম বলে বিবেচিত হতো নামাযীর সামনে দিয়ে হাঁটার চাইতে। হাদীস বর্ণনাকারী আবুন্ নায্র বলেন: আমি সঠিকভাবে জানি না চল্লিশ দিন না কি মাস না কি বছর’’। (মুসলিম ৫০৭)
আবূ সা’ঈদ্ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّيْ فَلَا يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلْيَدْرَأْهُ مَا اسْتَطَاعَ، فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ، فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ.
‘‘যখন তোমাদের কেউ নামায পড়ে তখন সে যেন কাউকে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে না দেয়। বরং কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চাইলে তাকে সাধ্য মতো বাধা দিবে। যদি তাতেও কোন ফায়েদা না হয় তা হলে তার সাথে প্রয়োজনে লড়াই করবে। কারণ, সে তো শয়তান’’। (মুসলিম ৫০৫)
সুতরাং কোন ব্যক্তি নামাজরত ব্যক্তির ঠিক মাথা বরাবর অবস্থান করে তাহলে সে ইচ্ছে করলে ডান অথবা বাম পাশে সরে যেতে পারে।
যদি মাথা থেকে ডান দিকটায় বেশি থাকে তাহলে ডান পাশে আর বাম দিকটায় বেশি থাকলে বাম পাশে আর ঠিক মাঝ বরাবর থাকলে ডান-বাম যে দিকে ইচ্ছা সরে যেতে পারে। এটা নাজায়েজ বা গুনাহের কারণ নয়। কারণ এভাবে ডানে-বামে সরে যাওয়াটা হাদিসে নিষিদ্ধ ‘অতিক্রম’ এর মধ্যে গণ্য হবে না। والله أعلم
প্রশ্ন নং ২৮ ‣ কারও চুল পাকলে কি মরণের চিঠি আসে?
চুল পাকা সাধারণত বয়স বৃদ্ধি পাওয়ারই আালামত। তবে কারো কারো অল্প বয়সেও চুল পেকে যায়। মুমিনের সব সময়ই মৃত্যুর প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। চুল পাকলে পরপারে যাওয়ার নোটিশ মনে করে প্রস্তুতি আরো বাড়ি দেয়া প্রয়োজন। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। বিশেষ দ্রষ্টব্য: পাকা চুল ও দাড়িRead more
চুল পাকা সাধারণত বয়স বৃদ্ধি পাওয়ারই আালামত। তবে কারো কারো অল্প বয়সেও চুল পেকে যায়। মুমিনের সব সময়ই মৃত্যুর প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। চুল পাকলে পরপারে যাওয়ার নোটিশ মনে করে প্রস্তুতি আরো বাড়ি দেয়া প্রয়োজন। তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনাটি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
See lessবিশেষ দ্রষ্টব্য: পাকা চুল ও দাড়ি উঠানো যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা পাকা চুল তুলে ফেলো না। কেননা পাকা চুল হ’ল মুসলমানের জ্যোতি। কোন মুসলমানের একটি চুল পেকে গেলে আল্লাহ তার জন্য একটি নেকী লিখেন, একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি পাপ মোচন করেন। (নাসাঈ, মিশকাত হা/৪৪৫৮ ‘সনদ হাসান’)।
প্রশ্ন নং ২৭ ‣ সপ্তম দিনে আকীকা দিতে অক্ষম হলে পরবর্তীতে দেওয়া যাবে কি?
আকীকা ৭ম দিনে দেওয়ায় নিয়ম। তবে সঙ্গত কোন কারণে যদি সময়মত করা সম্ভব না হয়, পরবর্তীতে সুযোগ মত যেকোন সময় তা আদায় করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, তুহফাতুল মাওদূদ ৬৩ পৃঃ; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং- ১৯৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ১৭৭৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ২৫/২১৫)। শাফেঈ বিদ্বানগণেরRead more
আকীকা ৭ম দিনে দেওয়ায় নিয়ম। তবে সঙ্গত কোন কারণে যদি সময়মত করা সম্ভব না হয়, পরবর্তীতে সুযোগ মত যেকোন সময় তা আদায় করবে (ইবনুল ক্বাইয়িম, তুহফাতুল মাওদূদ ৬৩ পৃঃ; আলবানী, সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর, অডিও ক্লিপ নং- ১৯৯; ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা, ফৎওয়া নং ১৭৭৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া উছায়মীন ২৫/২১৫)।
See lessশাফেঈ বিদ্বানগণের মতে সাত দিনে আক্বীক্বার বিষয়টি সীমা নির্দেশ মূলক নয় বরং এখতিয়ার মূলক। ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, সাত দিনে আকীকার অর্থ হ’ল, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ সাত দিনের পরে আকীকা করবে না (নায়লুল আওত্বার ৬/২৬১ পৃঃ)।
সুতরাং এখন আকীকা দিতে পারবে। তবে যদি আকীকা না দেন তাহলে গুনাহগার হবেন না। কারণ সে সময় উনি অক্ষম ছিলেন। আর অক্ষম ব্যক্তি উপর আকীকা আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন নং ২৬ ‣ NGO তে চাকুরী করা কি জায়েজ হবে?
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মূলত সেবামূলক সংস্থা। এতে চাকরী করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন এই সংস্থার সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা মিশনারীর চিন্তা থেকে অনেক কাজ করে থাকে এবং অনেক ক্ষতিকর ভ্যাক্সিন তারা তৈরী করে মুসলিম বাচ্চাদের উপর প্রয়োগ করে। এটা তাদের ইসলাম বিদ্বেষের কারRead more
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান মূলত সেবামূলক সংস্থা। এতে চাকরী করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন এই সংস্থার সাথে খৃষ্টান মিশনারীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তারা মিশনারীর চিন্তা থেকে অনেক কাজ করে থাকে এবং অনেক ক্ষতিকর ভ্যাক্সিন তারা তৈরী করে মুসলিম বাচ্চাদের উপর প্রয়োগ করে। এটা তাদের ইসলাম বিদ্বেষের কারণে এজন্য চাকরী করলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
See lessপ্রশ্ন নং ২৫ ‣ কুনুতে নাজেলা কী, এটি কখন পড়তে হয়?
কোনো বিপদে পতিত হলে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কূনুতে নাযেলাহ পড়তে হয়। কূনুতে নাযেলাহ নিম্নরুপঃ للَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ ، اللّRead more
কোনো বিপদে পতিত হলে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য কূনুতে নাযেলাহ পড়তে হয়। কূনুতে নাযেলাহ নিম্নরুপঃ
للَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ ، اللَّهُمَّ الْعَنْ كَفَرَةَ أَهْلِ الْكِتَابِ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكَذِّبُونَ رُسُلَكَ ، وَيُقَاتِلُونَ أَوْلِيَاءَكَ اللَّهُمَّ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمَ ، وَزَلْزِلْ أَقْدَامَهُمْ ، وَأَنْزِلْ بِهِمْ بَأْسَكَ الَّذِى لاَ تَرُدُّهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُثْنِى عَلَيْكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ ، وَلَكَ نُصَلِّى وَنَسْجُدُ ، وَلَكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ ، نَخْشَى عَذَابَكَ الْجَدَّ ، وَنَرْجُو رَحْمَتَكَ ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَنَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلَاةِ الْعَتَمَةِ شَهْرًا يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ ” اللَّهُمَّ نَجِّ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ، اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ، اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ، اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ”. قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : وَأَصْبَحَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمْ يَدْعُ لَهُمْ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ ” وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মাস পর্যন্ত ‘ইশার সলাতে দু‘আ কুনূত পাঠ করেছেন। তিনি কুনূতে বলেছেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! সালামাহ ইবনু হিশামকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন! হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনি কঠোর হোন! হে আল্লাহ! তাদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দিন যেমন দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ)-এর যুগে।’’ আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন, একদিন ভোরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর দুর্বল ও নির্যাতিত মুমিনদের জন্য দু‘আ না করায় আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ তুমি কি তাদেরকে (নির্যাতিত মুসলিমদের) দেখছো না যে, তারা মাদীনায় ফিরে এসেছে? (সুনান আবু দাউদ তাহাকিক আলবানী হাদিস নং ১৪৪২)
See lessআমভাবেও মুসলিমদের জন্য দু’আ করা যায় এবং কাফিরদের জন্য বদ দু’আ করা যায় এবং নিজের জন্য দু’আ করা যায়।
প্রশ্ন নং ২৪ ‣ সুদের সাথে লিপ্ত ব্যক্তির আমল কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষী এরা সকলেই সুনিশ্চিতভাবে হারামের সাথে রয়েছে। ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো জীবিকা হালাল হওয়া। সূদ ভক্ষণকারীর ইবাদাত কবুল হয় না। এ মর্মে রাসূল সা. বলেন: «إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْRead more
সুদ দাতা, গ্রহীতা, লেখক, সাক্ষী এরা সকলেই সুনিশ্চিতভাবে হারামের সাথে রয়েছে। ইবাদাত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো জীবিকা হালাল হওয়া। সূদ ভক্ষণকারীর ইবাদাত কবুল হয় না।
See lessএ মর্মে রাসূল সা. বলেন:
«إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ) [المؤمنون: 51] وَقَالَ: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ) [البقرة: 172] ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»
‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআল পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্ত্তই গ্রহণ করেন। তিনি মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ তিনি দিয়েছিলেন রাসূলগণের।’’ আল্লাহ তা’আলা বলেন : ‘‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসেবে দান করেছি।’’ অতঃপর রাসূল সা. এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধুসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছেঃ হে আমার প্রভূ! হে আমার প্রভূ! অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে। তার প্রার্থনা কিভাবে কবুল হবে?’’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ১০১৫।)
তাই বলে কাউকে ইবাদাত থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা যাবে না। ইবাদাত করতে থাকলে হয়তো কোনো সময়ে হারাম পথ ছেড়ে দেয়ার সুযোগ হতে পারে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থা সুদভিত্তিক পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা। আমাদের দেশও সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। সেহেতু সূদ থেকে বাঁচতে হলে সরকার সংক্রান্ত কোনো কিছুর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সরাসরি সূদ থেকে বাঁচতে হলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে পারিশ্রমিক লাভ করা, কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া অথবা সরাসরি বৈধ পণ্য কেনা-বেচার ব্যবসা করা ইত্যাদির মাধ্যমে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা প্রয়োজন।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«كسب الحلال فريضة بعد الفريضة »
‘‘ফরয আদায়ের পর হালাল পন্থায় উপার্জনও ফরয।’
(আবূ বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী, সুনান আল-বায়হাকী, সম্পাদনায়: আব্দুল কাদির আতা (মক্কা আল-মুকাররমা: মাকতাবাতু দারুল বায, ১৪১৪ হি/১৯৯৪ খ্রী.) খ. ৬, পৃ. ১২৮।)