1. ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাRead more

    ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাজি থাকলে এবং সাক্ষী রাখলেই বিবাহ হয়ে যায়, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং সুন্নাহ পরিপন্থী।
    কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরুষদেরকে সরাসরি বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ
    অর্থ: “আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক স্বাধীন নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিবাহ দিয়ো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২১]
    এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের ক্ষেত্রে ‘লা তানকিহু’ (تَنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ করো না) ব্যবহার করেছেন, যা নিজে বিবাহ করার নির্দেশ। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ‘লা তুনকিহু’ (تُنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ দিয়ো না) ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নারীদের বিবাহ দেয়।
    সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মুহাদ্দিসীনদের মত হলো, অভিভাবক ছাড়া নারীর বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সহিহ হাদিস রয়েছে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ
    অর্থ: “অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ
    অর্থ: “যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৩; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ১১০২; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    আর যে নারী নিজেই নিজের বিবাহ দেয়, তার ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে:
    لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِيَ الَّتِي تُزَوِّجُ نَفْسَهَا
    অর্থ: “এক নারী অন্য নারীকে বিবাহ দিতে পারবে না, আর কোনো নারী নিজেও নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারবে না। কেননা ব্যভিচারিণী নারীই কেবল নিজেই নিজের বিবাহ দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৮২; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    হানাফি মাজহাবে অভিভাবক ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার কথা বলা হলেও, আহলে হাদিস ও সালাফদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুযায়ী উপরের সহিহ হাদিসগুলোর ভিত্তিতে অভিভাবকহীন বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি অভিভাবক ছাড়া এমন বিবাহ হয়েও যায়, তবে পরবর্তীতে অভিভাবক যদি সম্মতি দেন, তাহলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুনরায় শরয়ি আকদ করতে হবে।
    পরিশেষে, পালিয়ে বিবাহ করার বিষয়টি শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম। কারণ পালিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়ের মাঝে পূর্ব থেকেই অবৈধ যোগাযোগ, অবাধ মেলামেশা এবং হিজাবের বিধান লঙ্ঘন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা ইসলামে জিনার (ব্যভিচার) দরজা খুলে দেয়। একজন মুমিন নারী ও পুরুষের জন্য এমন ঘৃণ্য পথ অবলম্বন করা কখনোই বৈধ নয়। উপযুক্ত সময়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী দেখে বিবাহ করাই ইসলামের সুন্দরতম বিধান।

    See less
  2. দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা 'ইস্তিকামাত' লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলRead more

    দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা ‘ইস্তিকামাত’ লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলে ধরা হলো:
    ১. তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করা:
    দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং জীবনে কোনো প্রকার শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটতে না দেওয়া। যাবতীয় ইবাদত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সহিহ তরিকা অনুযায়ী পালন করতে হবে।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
    إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।” [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]
    ২. ফরজ ইবাদত পালন ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
    নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে। কারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে।
    হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
    অর্থ: “আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২]
    ৩. বেশি বেশি দোয়া করা:
    অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাই তাঁর কাছে সর্বদা দোয়া করতে হবে।
    আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন:
    يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
    অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
    رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
    অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” [সূরা আলে ইমরান: ৮]
    ৪. অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখা:
    যিকির অন্তরকে সজীব রাখে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
    অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আর-রাদ: ২৮]
    ৫. আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
    যেকোনো মূল্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ গুনাহের কারণে অন্তর থেকে ঈমানের নূর কমে যায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
    পরিশেষে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর ইস্তিকামাত নসিব করুন।

    See less
  3. আযানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মুয়াজ্জিন যা বলেন, আযানের জবাবে শ্রোতারও হুবহু তা বলা সুন্নাহ। এর দলিল হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَRead more

    আযানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মুয়াজ্জিন যা বলেন, আযানের জবাবে শ্রোতারও হুবহু তা বলা সুন্নাহ। এর দলিল হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
    إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ
    অর্থ: “যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তার অনুরূপ বলবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৩]
    এই সহিহ হাদিসের ব্যাপকতার ভিত্তিতে, ফজরের আযানে মুয়াজ্জিন যখন “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” (ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম) বলবেন, তখন এর জবাবে শ্রোতাকেও হুবহু “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বলতে হবে। আমাদের সমাজে অনেকেই এই বাক্যের জবাবে “সাদাকতা ওয়া বারারতা” বলে থাকেন। কিন্তু সালাফে সালেহীন ও মুহাদ্দিসীনদের মতে এই শব্দগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই, তাই এটি বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, ইকামতের জবাবের বিষয়টি। উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ তাহকিক অনুযায়ী, ইকামতের আলাদা কোনো জবাব শরিয়তে সাব্যস্ত নেই।
    ইকামতের সময় “ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ” এর জবাবে “আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা” বলার যে রেওয়ায়েতটি আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী তা যয়িফ বা দুর্বল। শায়খ আলবানি (রহ.) সুনান আবু দাউদের (হাদিস নম্বর: ৫২৮) তাহকিকে এই বর্ণনাটিকে যয়িফ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
    যেহেতু ইকামতের নির্দিষ্ট জবাবের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো সনদের দিক থেকে দুর্বল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইকামতের জবাব দেওয়ার কোনো সহিহ আমল প্রমাণিত নয়, তাই ইকামতের সময় চুপ থাকাই বিশুদ্ধ সুন্নাহ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ জানার এবং তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  4. যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِRead more

    যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়।
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই সাদাকা (যাকাত) হচ্ছে ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস বা বন্দি মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদে) এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৬০]
    আয়াত অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত হলো:
    ১. ফকির (দরিদ্র ব্যক্তি যার জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই)।
    ২. মিসকিন (অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি, যার কিছু সম্পদ থাকলেও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়)।
    ৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী (যাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায়, সংরক্ষণ ও বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়)।
    ৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, যেমন নওমুসলিম)।
    ৫. দাস বা বন্দি মুক্তি।
    ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যে হালাল প্রয়োজনে ঋণ করেছে কিন্তু পরিশোধে অক্ষম)।
    ৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় (দ্বীনের বিজয়ের জন্য জিহাদরত মুজাহিদ)।
    ৮. মুসাফির (সফর অবস্থায় যে ব্যক্তি সম্পদহীন হয়ে পড়েছে)।
    যাকাতের অর্থ এই আটটি খাতের যেকোনো একটিতে অথবা একাধিক খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়। তবে আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী আয়াতে প্রথম ৪টি খাতের শুরুতে ‘লাম’ (لِ) অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যা মালিকানা (তামলীক) বোঝায়। আর শেষের ৪টি খাতের শুরুতে ‘ফি’ (فِي) ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাত্র বা ক্ষেত্র (যরফ) বোঝায়। এর মাধ্যমে শেষের খাতগুলোতে, বিশেষ করে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে যাকাত ব্যয়ের বিশালতা ও গুরুত্বকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
    যাকাত আদায় ও বণ্টনের মূল দায়িত্ব হলো ইসলামী রাষ্ট্রের। ইসলামী রাষ্ট্র জনগণের যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব রাখবে এবং বছর পূর্ণ হলে তা সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সময়ের চাহিদানুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বণ্টন করবে। আর যাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন এই যাকাতের ফান্ড থেকেই দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন:
    تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
    অর্থ: “তাদের ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯]
    যদি কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তার থেকে জোরপূর্বক যাকাত আদায় করার এবং শাস্তিস্বরূপ তার সম্পদের একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করার। মূল উত্তরে উমর (রা.) এর কথা বলা হলেও, এটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্পষ্ট নির্দেশ।
    হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ
    অর্থ: “যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত আদায় করবে, সে তার প্রতিদান পাবে। আর যে তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমরা তার কাছ থেকে তা জোরপূর্বক আদায় করব এবং সাথে তার অর্ধেক সম্পদও জরিমানা হিসেবে নিয়ে নেব। এটি আমাদের রবের অবশ্য পালনীয় নির্দেশাবলির একটি।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৭৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]
    সুতরাং, যাকাত কোনো সাধারণ দান নয়, বরং এটি আল্লাহর ফরজ বিধান, যা নির্দিষ্ট খাতগুলোতেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  5. গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে ব্যাপক হারে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং এর জন্য ষাঁড়গুলোকে ঢালাওভাবে খাসি করে ফেলা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় এবং অনুচিত কাজ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি প্রাণীর প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধির জন্য একটি প্রাকৃতিক নিয়ম নির্ধারণ করেRead more

    গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে ব্যাপক হারে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং এর জন্য ষাঁড়গুলোকে ঢালাওভাবে খাসি করে ফেলা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় এবং অনুচিত কাজ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি প্রাণীর প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধির জন্য একটি প্রাকৃতিক নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই স্বাভাবিক নিয়মকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা শয়তানের প্ররোচনার একটি অংশ হতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা শয়তানের একটি চক্রান্তের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে শয়তান বলেছিল:
    وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ
    অর্থ: “এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।” [সূরা আন-নিসা: ১১৯]
    যদিও অনেক ফকিহ গবাদিপশুর মাংস বা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট প্রয়োজনে কৃত্রিম প্রজনন বা খাসি করাকে মুবাহ (বৈধ) বলেছেন, কিন্তু যখন এটি প্রাকৃতিক ধারাকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার পর্যায়ে চলে যায় এবং এটিকে একমাত্র পন্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তা সৃষ্টির স্বাভাবিকতা নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে যায়। বিনা প্রয়োজনে ঢালাওভাবে প্রাণীদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করা বা খাসি করা ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে।
    আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
    نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ إِخْصَاءِ الْخَيْلِ وَالْبَهَائِمِ
    অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া এবং অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুকে খাসি (প্রজনন ক্ষমতাহীন) করতে নিষেধ করেছেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৬৩৮৩; আল্লামা শুয়াইব আরনাউত (রহ.) সনদটিকে শক্তিশালী বলেছেন]
    আধুনিক যুগে অধিক মুনাফার আশায় গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে কেবল কৃত্রিম উপায়ের ওপর নির্ভর করার কারণে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে এবং খাবারে আগের মতো রহমত ও বরকত থাকছে না। আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে মানুষ যখনই অপচেষ্টা চালিয়েছে, তখনই সমাজে ও প্রকৃতিতে নানা ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
    অর্থ: “মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যেন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।” [সূরা আর-রূম: ৪১]
    সারসংক্ষেপ হলো, আল্লাহর সৃষ্টিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। একান্ত বাধ্যগত কোনো পরিস্থিতি ছাড়া ঢালাওভাবে গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং সৃষ্টির ধারা পরিবর্তন করা থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less
  6. ইহূদী, খ্রিষ্টান বা অন্যান্য অমুসলিমদের সাথে শরিয়তসম্মত সাধারণ বৈধ ব্যবসা বাণিজ্য বা লেনদেন ইসলামে জায়েজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সাথে পার্থিব লেনদেন করেছেন। কিন্তু অনলাইনে তাদের বিয়ের ঘটকালি বা ম্যাচমেকিং এর মতো কাজের সাথে যুক্ত হওয়া একজন মুসলিমের জন্য নাজায়েজ এবং এ থেকে নRead more

    ইহূদী, খ্রিষ্টান বা অন্যান্য অমুসলিমদের সাথে শরিয়তসম্মত সাধারণ বৈধ ব্যবসা বাণিজ্য বা লেনদেন ইসলামে জায়েজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সাথে পার্থিব লেনদেন করেছেন। কিন্তু অনলাইনে তাদের বিয়ের ঘটকালি বা ম্যাচমেকিং এর মতো কাজের সাথে যুক্ত হওয়া একজন মুসলিমের জন্য নাজায়েজ এবং এ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা অপরিহার্য।
    প্রথমত, বর্তমান সময়ে অমুসলিমদের ঘটকালি বা অনলাইনে ম্যাচমেকিং বলতে সাধারণত পশ্চিমা সংস্কৃতির ‘ডেটিং’, অবাধ মেলামেশা বা লিভ টুগেদার এর মতো হারাম সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করাকে বোঝায়। তাদের সম্পর্কগুলো ইসলামী বিবাহের পবিত্র নিয়মে হয় না, বরং কুফরি রীতিনীতি বা নিছক প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে থাকে।
    দ্বিতীয়ত, অনলাইনে এই ধরনের কাজ করতে গেলে অগণিত গায়রে মাহরাম নারী পুরুষের ছবি দেখতে হয়, তাদের প্রোফাইল ঘাঁটতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অশ্লীলতার সম্মুখীন হতে হয়। ইসলামে গায়রে মাহরামের দিকে দৃষ্টিপাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আন-নূর: ৩০)।
    তৃতীয়ত, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হারাম ও পাপের কাজে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন:
    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
    অর্থ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২]
    চতুর্থত, এটি ‘আল ওয়ালা ওয়াল বারা’ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই বিদ্বেষ পোষণ) এর আকিদাহর সাথে সম্পর্কিত। অমুসলিমদের সাথে মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের কাজে যুক্ত থাকলে একজন মুসলিমের নিজের আকিদাহ, আখলাক এবং দ্বীনদারিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
    তাই সামাজিক বা জাগতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে শরিয়তে কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে বৈধতা থাকলেও, তাদের বিয়ের ঘটকালির মতো কাজ, যা শরিয়ত পরিপন্থী উপাদানে ভরপুর, তা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে রাখা একজন সাচ্চা মুমিনের দায়িত্ব। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আরও অসংখ্য হালাল ও পবিত্র কাজের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে হালাল রিজিকের সন্ধান করতে হবে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই তুমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই বর্জন করবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩০৭৪; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    সুতরাং, নিজের দ্বীন ও ঈমানকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে এই ধরনের কাজ বর্জন করা আবশ্যক। আল্লাহ আমাদের হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  7. সুদভিত্তিক বা হারাম লেনদেনের সাথে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে (যেমন গতানুগতিক সুদী ব্যাংক) যেকোনো ধরনের চাকরি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ বা হারাম। হোক তা সরাসরি সুদের হিসাবরক্ষক বা ম্যানেজার, কিংবা পিয়ন বা দারোয়ান। কারণ ছোটখাটো চাকরি হলেও এর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে একটি হারাম প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাRead more

    সুদভিত্তিক বা হারাম লেনদেনের সাথে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে (যেমন গতানুগতিক সুদী ব্যাংক) যেকোনো ধরনের চাকরি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ বা হারাম। হোক তা সরাসরি সুদের হিসাবরক্ষক বা ম্যানেজার, কিংবা পিয়ন বা দারোয়ান। কারণ ছোটখাটো চাকরি হলেও এর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে একটি হারাম প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি সহযোগিতা করা হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন:
    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
    অর্থ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২]
    সুদী ব্যাংকের দারোয়ান মূলত সুদের অর্থ এবং সুদী কারবারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আর পিয়ন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেই প্রতিষ্ঠানের কাজকে সহজ ও সাবলীল করতে সহায়তা করে। সুতরাং তারা সরাসরি সুদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর না করলেও, সুদী কারবারে সহায়তা করার পাপে পরোক্ষভাবে তারাও অংশীদার হয়ে যায়।
    জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে:
    لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
    অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তিপত্র লেখক এবং সুদের দুই সাক্ষীর উপর লানত (অভিশাপ) করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, “পাপের দিক থেকে তারা সকলেই সমান।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮]
    আরবের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম এবং ‘ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ (আল-লাজনা আদ-দাইমা, সৌদি আরব) এর ফতোয়া অনুযায়ী, সুদী ব্যাংকে পিয়ন, দারোয়ান বা নাইট গার্ড হিসেবে চাকরি করা নাজায়েজ। কারণ এটি হারাম কাজে সহযোগিতা এবং হারামকে পাহারা দেওয়ার শামিল।
    একান্ত নিরুপায় না হলে না করাই উচিত। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরিয়তে “নিরুপায়” বা “জরুরাত” (الضرورة) এর সংজ্ঞা অত্যন্ত কঠোর। জীবননাশের আশঙ্কা বা চরম বাধ্যবাধকতা ছাড়া সুদের মতো ভয়াবহ হারামের সাথে যুক্ত হওয়া জায়েজ নয়। সাধারণ বেকারত্ব বা আর্থিক অনটন কখনো সুদী প্রতিষ্ঠানে চাকরির বৈধতা দেয় না। মুমিনদের সর্বদা হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই তুমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই বর্জন করবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩০৭৪; শায়খ আলবানি ও শুয়াইব আরনাউত (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    অতএব, কোনো মুসলিমের জন্যই সুদী ব্যাংকে পিয়ন বা দারোয়ান হিসেবে চাকরি করা বৈধ নয়। যার এ ধরনের চাকরি রয়েছে, তার উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করে দ্রুত হালাল রিজিকের সন্ধান করা এবং এই হারাম চাকরি পরিত্যাগ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  8. কুরআনুল কারীমের সূরা আল-মুমিনূন এর ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী মুমিনদের মৌলিক গুণাবলির কথা বর্ণনা করেছেন। সালাফে সালেহীনদের তাফসীর (যেমন তাফসীর ইবনে কাসীর) অনুযায়ী সূরা আল-মুমিনূন এবং সূরা আল-ফুরকানে বর্ণিত 'ইবাদুর রহমান'দের বৈশRead more

    কুরআনুল কারীমের সূরা আল-মুমিনূন এর ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী মুমিনদের মৌলিক গুণাবলির কথা বর্ণনা করেছেন। সালাফে সালেহীনদের তাফসীর (যেমন তাফসীর ইবনে কাসীর) অনুযায়ী সূরা আল-মুমিনূন এবং সূরা আল-ফুরকানে বর্ণিত ‘ইবাদুর রহমান’দের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে জান্নাতীদের ১২টি প্রধান গুণ উল্লেখ করা হয়েছে।
    আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সফলতার ঘোষণা দিয়ে বলেন:
    قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।” [সূরা আল-মুমিনূন: ১]

    এরপর জান্নাতী মুমিনদের গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে:

    ১. সালাতে খুশু-খুজু বা বিনয়াবনত থাকা:
    (الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ)
    যারা তাদের সালাতে বিনয়াবনত। সালাতে একাগ্রতা, আল্লাহর ভয় এবং স্থিরতা বজায় রাখা জান্নাতীদের অন্যতম প্রধান গুণ।

    ২. অনর্থক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ)
    যারা অনর্থক ও অসার কাজকর্ম বা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ শিরক, পাপাচার এবং যেসব কথা ও কাজে দুনিয়া বা আখিরাতের কোনো ফায়দা নেই, তারা তা এড়িয়ে চলে।

    ৩. যাকাত আদায় করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ)
    যারা যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে সক্রিয়। এখানে মালের যাকাত এবং আত্মার পরিশুদ্ধি উভয়টিই উদ্দেশ্য।

    ৪. লজ্জাস্থানের হিফাজত করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ)
    যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। অর্থাৎ তারা ব্যভিচার এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে নিজেদের পবিত্র রাখে।

    ৫. কেবল বৈধ সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা:
    (إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ)
    তারা কেবল তাদের স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথেই সম্পর্ক রাখে, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। অর্থাৎ তারা শরিয়ত অনুমোদিত হালাল পন্থায় নিজেদের চাহিদা পূরণ করে এবং এর বাইরে কোনো অবৈধ পথ খোঁজে না।

    ৬. আমানত রক্ষা করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ)
    যারা তাদের আমানতসমূহ বিশ্বস্ততার সাথে রক্ষা করে। এটি আল্লাহর হক এবং বান্দার হক উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

    ৭. প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা:
    তারা তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি নিষ্ঠার সাথে পালন করে। কারো সাথে ওয়াদা করলে তারা তা ভঙ্গ করে না।

    ৮. সালাতের পূর্ণ হিফাজত করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ)
    এবং যারা তাদের সালাতসমূহের যথাযথ হিফাজত করে। অর্থাৎ তারা সঠিক ওয়াক্তে, সঠিক নিয়মে, রুকু-সাজদাহ পূর্ণ করে এবং জামাতের সাথে সালাত আদায় করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান থাকে।

    এই গুণাবলির পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তাআলা বলেন:
    (أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ * الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ)
    “তারাই হলো উত্তরাধিকারী। যারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” [সূরা আল-মুমিনূন: ১০-১১]

    এছাড়াও সূরা আল-ফুরকানের ৬৩ থেকে ৬৫ নম্বর আয়াতে জান্নাতীদের আরও কয়েকটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

    ৯. নম্রতা ও বিনয়:
    (وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا)
    রহমান এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে ও অহংকারমুক্ত হয়ে চলাফেরা করে।

    ১০. মূর্খদের সাথে তর্কে না জড়ানো:
    (وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا)
    অজ্ঞ বা মূর্খরা তর্কে লিপ্ত হতে চাইলে তারা শান্তিপূ্র্ণ কথা বলে তাদের এড়িয়ে যায়।

    ১১. তাহাজ্জুদ ও রাতের ইবাদত:
    (وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا)
    যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সাজদাহবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে (সালাতে) রাত অতিবাহিত করে।

    ১২. আল্লাহর শাস্তির ভয়:
    (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا)
    যারা আল্লাহর কাছে সর্বদা দোয়া করে, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের আজাব দূর করে দিন, নিশ্চয়ই এর আজাব এক অবিচ্ছিন্ন শাস্তি।

    সারসংক্ষেপ হলো, জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ করতে হলে একজন মুমিনকে অবশ্যই কুরআন সুন্নাহতে বর্ণিত এই গুণাবলি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  9. জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত এবং এটি ইসলামের চূড়া (সনামুল ইসলাম)। একজন মুসলিম সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, জিহাদ সম্পর্কে অবগত না থাকাটা তার জন্য ইবাদত থেকে দূরে থাকার কোনো শরয়ি অজুহাত হতে পারে না। কারণ, যে ইবাদতগুলো পালন করা ফরজ, সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্Read more

    জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত এবং এটি ইসলামের চূড়া (সনামুল ইসলাম)। একজন মুসলিম সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, জিহাদ সম্পর্কে অবগত না থাকাটা তার জন্য ইবাদত থেকে দূরে থাকার কোনো শরয়ি অজুহাত হতে পারে না। কারণ, যে ইবাদতগুলো পালন করা ফরজ, সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। জিহাদ মূলত সক্ষম সকল মুসলিমের উপর তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ। অবস্থার প্রেক্ষিতে এটি কখনো ফরজে আইন (ব্যক্তিগতভাবে ফরজ) আবার কখনো ফরজে কিফায়া (সামষ্টিকভাবে ফরজ) হয়। তবে সার্বিকভাবে সকল মুসলিমকেই কোনো না কোনোভাবে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। সশস্ত্র জিহাদে হয়তো সকলে সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, জিহাদ শুধুমাত্র সরাসরি যুদ্ধ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। কেউ নিজের জান দিয়ে জিহাদ করবে, কেউ নিজের সম্পদ দিয়ে, কেউ মুজাহিদদের পরিবারের বিশ্বস্ততার সাথে দেখাশোনা করার মাধ্যমে, কেউ মুজাহিদদের অস্ত্র, পোশাক, খাদ্য, যানবাহন, তথ্য ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে, আবার কেউ নিজের লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই মহান ইবাদতে অংশ নিবে।
    এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন:
    انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
    অর্থ: তোমরা হালকা ও ভারী সকল অবস্থায় বেরিয়ে পড় এবং তোমাদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। [সূরা আত-তাওবাহ: ৪১]
    সম্পদ এবং জবানের জিহাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন:
    جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ
    অর্থ: তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, জীবন এবং জবান দ্বারা জিহাদ করো। [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৫০৪; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    যারা সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হতে পারে না, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
    مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا، وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا
    অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো গাজীকে (মুজাহিদকে) যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো গাজীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের ভালোমতো দেখাশোনা করল, সেও যেন যুদ্ধ করল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৪৩ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৫]
    অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা রাখার অপরিহার্যতার প্রমাণস্বরূপ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য:
    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ نَفْسَهُ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ
    অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, অথচ সে কোনোদিন জিহাদ করল না এবং নিজের অন্তরেও জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করল না, সে যেন মুনাফেকির একটি শাখার উপর মৃত্যুবরণ করল। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০ / ইসলামিক ফাউন্ডেশন নম্বর: ৪৭৭৮]
    অর্থাৎ যেকোনো উপায়ে, জান, মাল, জবান বা অন্তত অন্তরের মজবুত সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে জিহাদের পক্ষে নিজেকে নিয়োজিত রাখা সকল মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।

    See less
  10. বিবাহিত অবস্থায় যিনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য এবং কবিরা গুনাহ। ইসলামে বিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।"(সূরা আল-ইসরা: ৩২) বিশুদ্ধ হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি যিনায় লিপ্ত হলে ইসলামী রRead more

    বিবাহিত অবস্থায় যিনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য এবং কবিরা গুনাহ। ইসলামে বিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”(সূরা আল-ইসরা: ৩২) বিশুদ্ধ হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি যিনায় লিপ্ত হলে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার শাস্তি হলো ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে এই দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ নেই, তবে এর মাধ্যমে অপরাধটির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে অনুমেয়। স্ত্রী হিসেবে আপনি তাকে অন্য বিবাহের পরামর্শ দিয়ে এবং আলেমদের মাধ্যমে বুঝিয়ে চরম ধৈর্য ও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:”তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে…” (সহীহ বুখারী: ৮৯৩; মুসলিম: ১৮২৯) আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এরপরও যদি সে তওবা না করে এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তবে আপনার ওপর আর কোনো দায়ভার থাকে না।
    শাইখ বিন বায ও ইবনে উসাইমীন এর মতে, যদি স্বামী যিনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তওবা না করে, তবে দ্বীনদার স্ত্রীর জন্য এমন স্বামীর সাথে সংসার করা জায়েজ নয়। এর কারণগুলো হলো:
    ১) যিনার কারণে বংশপরিচয় ও পবিত্রতা নষ্ট হয়।
    ২) বর্তমানে যিনার মাধ্যমে প্রাণঘাতী যৌনরোগ (যেমন: এইডস) ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে, যা নির্দোষ স্ত্রীর জীবন বিপন্ন করতে পারে।
    ৩) একজন পাপিষ্ঠ ও ফাসেক ব্যক্তির সাথে বসবাস করলে নিজের এবং সন্তানদের দ্বীনদারী ও আখলাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু স্বামী বারবার বোঝানোর পরও সংশোধন হচ্ছে না এবং নিজের পাপে অটল রয়েছে, সেহেতু মহিলাটির উচিত এই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে ‘খুলা’ বা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা সামর্থ্যবান ও পবিত্র বান্দাদের জন্য উত্তম বিকল্পের ব্যবস্থা করেন। তালাকের পর শরয়ী ইদ্দত পালন শেষে কোনো মুত্তাকী ও দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তার জন্য মুস্তাহাব। যে পুরুষ বিবাহের মতো পবিত্র নেয়ামত পাওয়ার পরও যিনার মতো নোংরা পথে পা বাড়ায় এবং তওবা করে ফিরে আসে না, সে নিজ হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। এমন ব্যক্তির সাথে ঘর করা কোনো দ্বীনদার মহিলার জন্য সম্মানজনক নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:”দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য…” (সূরা আন-নূর: ২৬)
    আপনার জন্য পরামর্শ হলো, এই পাপিষ্ঠ স্বামীর সংস্পর্শ ত্যাগ করে নিজের দ্বীন, সম্মান ও জীবন রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, তিনি অবশ্যই আপনার জন্য উত্তম ফয়সালা করবেন।

    See less