একজন বিবাহিত পুরুষ যিনায় আসক্ত এবং হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও সংশোধন হচ্ছে না। এই অবস্থায় তার স্ত্রীর শরয়ী করণীয় কী?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
বিবাহিত অবস্থায় যিনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য এবং কবিরা গুনাহ। ইসলামে বিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”(সূরা আল-ইসরা: ৩২) বিশুদ্ধ হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি যিনায় লিপ্ত হলে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার শাস্তি হলো ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে এই দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ নেই, তবে এর মাধ্যমে অপরাধটির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে অনুমেয়। স্ত্রী হিসেবে আপনি তাকে অন্য বিবাহের পরামর্শ দিয়ে এবং আলেমদের মাধ্যমে বুঝিয়ে চরম ধৈর্য ও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:”তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে…” (সহীহ বুখারী: ৮৯৩; মুসলিম: ১৮২৯) আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এরপরও যদি সে তওবা না করে এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তবে আপনার ওপর আর কোনো দায়ভার থাকে না।
শাইখ বিন বায ও ইবনে উসাইমীন এর মতে, যদি স্বামী যিনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তওবা না করে, তবে দ্বীনদার স্ত্রীর জন্য এমন স্বামীর সাথে সংসার করা জায়েজ নয়। এর কারণগুলো হলো:
১) যিনার কারণে বংশপরিচয় ও পবিত্রতা নষ্ট হয়।
২) বর্তমানে যিনার মাধ্যমে প্রাণঘাতী যৌনরোগ (যেমন: এইডস) ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে, যা নির্দোষ স্ত্রীর জীবন বিপন্ন করতে পারে।
৩) একজন পাপিষ্ঠ ও ফাসেক ব্যক্তির সাথে বসবাস করলে নিজের এবং সন্তানদের দ্বীনদারী ও আখলাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু স্বামী বারবার বোঝানোর পরও সংশোধন হচ্ছে না এবং নিজের পাপে অটল রয়েছে, সেহেতু মহিলাটির উচিত এই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে ‘খুলা’ বা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা সামর্থ্যবান ও পবিত্র বান্দাদের জন্য উত্তম বিকল্পের ব্যবস্থা করেন। তালাকের পর শরয়ী ইদ্দত পালন শেষে কোনো মুত্তাকী ও দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তার জন্য মুস্তাহাব। যে পুরুষ বিবাহের মতো পবিত্র নেয়ামত পাওয়ার পরও যিনার মতো নোংরা পথে পা বাড়ায় এবং তওবা করে ফিরে আসে না, সে নিজ হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। এমন ব্যক্তির সাথে ঘর করা কোনো দ্বীনদার মহিলার জন্য সম্মানজনক নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:”দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য…” (সূরা আন-নূর: ২৬)
আপনার জন্য পরামর্শ হলো, এই পাপিষ্ঠ স্বামীর সংস্পর্শ ত্যাগ করে নিজের দ্বীন, সম্মান ও জীবন রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, তিনি অবশ্যই আপনার জন্য উত্তম ফয়সালা করবেন।