ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। ইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাRead more
ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
ইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
“মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে…” (সূরা আন-নূর: ৩১) বড় মনিটরে বক্তাকে দেখা এই আয়াতের নির্দেশের পরিপন্থী হতে পারে, বিশেষ করে যদি সেখানে ফেতনার আশঙ্কা থাকে।
এ হাদীসটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল। উম্মে সালামাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন:
“আমি ও মায়মুনা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযি.) আসলেন… তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদের দেখছেন না।’ তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা দুজন কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?’” (সুনানে আবু দাউদ: ৪১১২; তিরমিজি: ২৭৭৮ – ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহীহ বলেছেন)
যদিও কোনো কোনো আলেম এই হাদীসটিকে বিশেষ প্রেক্ষাপটে আলোচনা করেছেন, তবে স্কলারদের একটি বড় অংশ এর মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, অপ্রয়োজনে পরপুরুষের দিকে তাকানো মহিলাদের জন্য অনুচিত।
ওয়াজ মাহফিলে পর্দার বিধান বজায় রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা উচিত:
শব্দই যথেষ্ট: দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য বক্তাকে সশরীরে দেখা জরুরি নয়। প্যান্ডেলে ভালো মানের স্পিকার বা গ্রাউন্ড বক্সের মাধ্যমে শুধু আওয়াজ পৌঁছানোই যথেষ্ট এবং এটিই অধিকতর নিরাপদ।
ফেতনার আশঙ্কা: বর্তমানে ভিডিও বা বড় মনিটরে বক্তার অঙ্গভঙ্গি ও চেহারা প্রদর্শনের ফলে অনেক সময় মূল আলোচনার চেয়ে বক্তার ব্যক্তিত্ব বা অবয়ব নিয়ে চর্চা বেশি হয়, যা পর্দার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
শাইখ বিন বায (রাহ.) এবং শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, প্রয়োজন ছাড়া এবং ফেতনার ভয় থাকলে নারীদের জন্য পরপুরুষের দিকে তাকানো বৈধ নয়।
সুতরাং ওয়াজ মাহফিলে মহিলাদের জন্য বড় মনিটরে বক্তাকে প্রদর্শন করা পরিহার করা উচিত। কেবল শব্দের মাধ্যমে আলোচনা শোনার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে মহিলারা অংশ নিতে পারবেন। তবে সরাসরি মনিটরে বক্তাকে দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া বা দেখার ব্যবস্থা করা সুন্নাহসম্মত পর্দার বিধানের পরিপন্থী।
পবিত্র কুরআনের 'নাসেখ' (রহিতকারী) এবং 'মানসূখ' (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে। মানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি: সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা: ১) রাসূলুRead more
পবিত্র কুরআনের ‘নাসেখ’ (রহিতকারী) এবং ‘মানসূখ’ (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে।
মানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি:
সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা:
১) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে যদি স্পষ্ট বর্ণনা থাকে যে, অমুক আয়াতের বিধান রহিত হয়ে গেছে।
২) যদি দুটি আয়াতের বিধানের মধ্যে সরাসরি বৈপরীত্য থাকে এবং নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, একটি আয়াত আগে এবং অন্যটি পরে নাযিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরের আয়াতটি আগেরটিকে রহিত (নাসেখ) করবে।
৩) যদি উম্মাহর উলামায়ে কেরাম কোনো একটি আয়াতের বিধান রহিত হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছান।
মানসূখ আয়াতের তালিকা ও কিতাবসমূহ:
এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ অনেক মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। সুতরাং এটি অলিখিত কোনো বিষয় নয়। উল্লেখযোগ্য কিছু কিতাব হলো:
ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম (রাহ.)-এর ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ’।
ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.)-এর ‘নাওয়াসিখুল কুরআন’।
ইমাম সুয়ূতী (রাহ.)-এর ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে এ বিষয়ে গোছানো তালিকা রয়েছে।
মানসূখ আয়াতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ:
প্রাথমিক যুগের আলেমগণ অনেক আয়াতের বিধানকে ‘মানসূখ’ বলতেন, কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে আয়াতগুলো পুরোপুরি মানসূখ নয়, বরং একটি বিশেষ পরিস্থিতির জন্য অন্যটি সাধারণ পরিস্থিতির জন্য (অর্থাৎ আয়াতগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব)।
ইমাম সুয়ূতী (রাহ.) তাঁর গবেষণায় মাত্র ২০টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রাহ.) আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে মাত্র ৫টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে গণ্য করেছেন।
সতর্কতা:
নাসেখ-মানসূখ একটি জটিল বিষয়। আলী (রাদি.) একবার এক ব্যক্তিকে মসজিদে ওয়ায করতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি নাসেখ ও মানসূখ চেনো?” সে বলল, “না”। তিনি বললেন, “তাহলে তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছো এবং অন্যকেও ধ্বংস করছো।”
মানসূখ আয়াতের তালিকা সম্বলিত অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাব রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দেওয়া সমীচীন নয়। আমাদের উচিত নির্ভরযোগ্য স্কলারদের দরস বা কিতাব থেকে এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা। যারা এ নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিতে চান, তাদের জন্য পূর্বসূরী ইমামদের কিতাবগুলোই হবে প্রধান পথপ্রদর্শক।
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর (কওমার অবস্থায়) হাত ছেড়ে দেওয়া বা পুনরায় বুকে হাত বাঁধা- উভয় আমলই সমসাময়িক আলেমদের মাঝে আলোচিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: ১. যারা রুকুর পর হাত বাঁধার পক্ষে (ইমাম ইবনে বায ও ইবনে উসাইমীন রহ.) শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহRead more
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর (কওমার অবস্থায়) হাত ছেড়ে দেওয়া বা পুনরায় বুকে হাত বাঁধা- উভয় আমলই সমসাময়িক আলেমদের মাঝে আলোচিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. যারা রুকুর পর হাত বাঁধার পক্ষে (ইমাম ইবনে বায ও ইবনে উসাইমীন রহ.)
শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) রুকুর পর হাত বাঁধাকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের প্রধান দলিল হলো সাহাবী সাহল বিন সা’দ (রাদি.) বর্ণিত সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি:
“লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যে, সালাতে যেন প্রত্যেকে তার ডান হাত বাম হাতের জরা (বাহু)-এর উপর রাখে।” (সহীহ বুখারী: ৭৪০)
তাঁদের যুক্তি: হাদীসে বলা হয়েছে “সালাতে” (في الصلاة), অর্থাৎ সলাতের সাধারণ দণ্ডায়মান অবস্থায়। রুকুর আগের দাঁড়ানো যেমন ‘কিয়াম’ (দণ্ডায়মান), রুকুর পরের অবস্থাটিও ‘কিয়াম’। সুতরাং এই সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে রুকুর পরেও হাত বাঁধা সুন্নাহ। শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আশ-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যেহেতু এটি সলাতের একটি দণ্ডায়মান অবস্থা, তাই রুকুর আগের ও পরের দণ্ডায়মানের মাঝে পার্থক্য করার কোনো বিশেষ দলিল নেই।
২. যারা রুকুর পর হাত ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে (ইমাম আলবানী রহ.)
বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) রুকুর পর হাত বাঁধাকে ‘বিদআত’ বা ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর যুক্তি হলো:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় রুকুর আগের হাত বাঁধার কথা স্পষ্টভাবে আসলেও, রুকুর পরের বর্ণনায় শুধু “হাত সোজা হয়ে যার যার স্থানে ফিরে যাওয়া” (حتى يعود كل فقار مكانه) এর কথা এসেছে।
সালাফে সালেহীন বা চার ইমামের কারো থেকেই রুকুর পর হাত বাঁধার কোনো স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই তিনি মনে করতেন, এটি একটি ‘নতুন উদ্ভাবিত’ মাসআলা। (অর্থাৎ বিদআহ)
৩. সমন্বয় ও ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি
এটি একটি ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) মাসআলা। যেহেতু এ বিষয়ে কোনো ‘নস’ বা সরাসরি অকাট্য হাদীস নেই (যেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে রুকুর পর হাত বাঁধো অথবা ছেড়ে দাও), সেহেতু এ নিয়ে কড়াকড়ি করা অনুচিত। সলাতের এই বিষয়টি “সুন্নাহর বৈচিত্র্য” বা ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত। যারা হাত বাঁধছেন তারা বড় ইমামদের গবেষণা অনুসরণ করছেন, আর যারা ছেড়ে দিচ্ছেন তারা মূল বর্ণনার বাহ্যিক রূপ অনুসরণ করছেন। এ নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করা, বিবাদে লিপ্ত হওয়া বা কাউকে সুন্নাহ বিরোধী বলা সালাফি মানহাজের আদর্শ নয়। শাইখ বিন বায (রাহ.) নিজেও বলেছেন যে, কেউ যদি হাত ছেড়ে দেয় তাতে তার সলাতের কোনো ক্ষতি হবে না।
সুতরাং রুকুর পর হাত বাঁধা এবং ছেড়ে দেওয়া; উভয় মতেরই শক্তিশালী যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। তবে উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখতে এসব ছোটখাটো ইজতিহাদী বিষয়ে কঠোরতা পরিহার করাই উত্তম।
মূলত চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মূলগতভাবে জায়েজ বা বৈধ। তবে একজন মুসলিম হিসেবে কর্মস্থল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। যেমনঃ ইসলাম মানবসেবা ও জীবন রক্ষার চিকিৎসাবিদ্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআRead more
মূলত চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মূলগতভাবে জায়েজ বা বৈধ। তবে একজন মুসলিম হিসেবে কর্মস্থল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। যেমনঃ ইসলাম মানবসেবা ও জীবন রক্ষার চিকিৎসাবিদ্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
“যে ব্যক্তি কোনো মানুষের প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন জগতের সমস্ত মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩২)
সুতরাং, আইসিডিডিআর,বি-র মতো প্রতিষ্ঠান যদি মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক বা চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে, তবে সেখানে কারিগরি বা প্রশাসনিক সেবা প্রদান করা সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেহেতু আইসিডিডিআর,বি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে বিভিন্ন অমুসলিম দাতা সংস্থা বা বিদেশি মিশনগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাই একজন মুসলিমের জন্য কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক।
আকীদাহ ও বিশ্বাস রক্ষা: যদি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকাণ্ডে ইসলামবিরোধী প্রচার-প্রসার বা কুসংস্কারের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে তা থেকে দূরে থাকতে হবে।
ভ্যাকসিনের গুণগত মান ও উদ্দেশ্য: যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ঔষধের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর বা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে তবে সেই নির্দিষ্ট প্রজেক্টে সহযোগিতা করা জায়েজ হবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা একে অপরের সাহায্য করো, কিন্তু পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)
মিশনারী প্রভাব: যদি সেখানে মিশনারীদের সরাসরি কোনো ধর্মীয় এজেন্ডা থাকে যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে আঘাত হানে, তবে সেখানে কাজ করা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের থেকে চিকিৎসা বা কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন- এমন প্রমাণ সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়। সুতরাং, কোনো অমুসলিম সংস্থা বা তাদের অনুদানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে কেবল পেশাদারিত্বের খাতিরে চাকরি করা নাজায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেটি সরাসরি কোনো হারাস (হারাম) কাজ বা ইসলামের ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: আইসিডিডিআর,বি-তে চাকরি করা বৈধ, যদি আপনার দায়িত্বটি সরাসরি কোনো হারাম কাজের (যেমন: সুদী লেনদেন, ইসলাম বিরোধী প্রচারণা বা প্রমাণিত ক্ষতিকর কোনো গবেষণা) সাথে যুক্ত না থাকে। তবে কর্মক্ষেত্রে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
দেনমোহর যদি স্ত্রীর অজান্তে নির্ধারণ করা হয় তাহলে অভিভাবকরা যে দেন মোহর ধার্য করেছেন তা তাকে জানানো প্রয়োজন। কারণ দেন মোহর পাওয়ার অধিকার হল স্ত্রীর। এর মাঝে কোনো অভিভাবকের হক নেই। তাকে জানানোর পর স্বামী-স্ত্রীর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কম-বেশী যে পরিমাণেরই উপর উভয়ে একমত হবেন তাই দেন মোহর হিসেবে গণ্য হRead more
দেনমোহর যদি স্ত্রীর অজান্তে নির্ধারণ করা হয় তাহলে অভিভাবকরা যে দেন মোহর ধার্য করেছেন তা তাকে জানানো প্রয়োজন। কারণ দেন মোহর পাওয়ার অধিকার হল স্ত্রীর। এর মাঝে কোনো অভিভাবকের হক নেই। তাকে জানানোর পর স্বামী-স্ত্রীর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কম-বেশী যে পরিমাণেরই উপর উভয়ে একমত হবেন তাই দেন মোহর হিসেবে গণ্য হবে। স্বামীর অক্ষমতা বিবেচনা করে অথবা স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্যে স্ত্রী যদি মোহরানার জন্যে কোনো অংশ মাফ করে দেয় অথবা পুরোটাই মাফ করে দেয় এটা স্ত্রীর অধিকার সে করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে মনে রাখতে হবে স্ত্রীর উপর কোনো প্রকারের চাপ প্রয়োগ করে কমানো বা মাফ করানোর কাজ করা যাবে না। কেউ যদি এমনটি করে এবং স্ত্রীও মাফ করে দেয় এবং পরে কোনো সময় দাবী করে তাহলে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে। কারণ সে তখন সন্তুষ্টির ভিত্তিতে মাফ করেনি। তাই পরে দাবী করেছে। সন্তুষ্টির ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী যা-ই করবেন তাই সঠিক হবে।
জিহাদ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদাত। যে ইবাদাত সারাজীবনব্যাপী করতে হয়। এই জিহাদের ইবাদাত কেউ নিষিদ্ধ করতে পারে না। কোনো অজুহাতে কোনো মুমিন এ থেকে বিরত থাকতে পারে না। মুনাফিকরাই শুধু জিহাদের ফরজ ইবাদাত থেকে গা বাঁচিয়ে চলার কূটকৌশল অবলম্বন করে। জিহাদ করতে প্রশিক্ষণ লাগে, অস্ত্র লাগে এটা সতRead more
জিহাদ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদাত। যে ইবাদাত সারাজীবনব্যাপী করতে হয়। এই জিহাদের ইবাদাত কেউ নিষিদ্ধ করতে পারে না। কোনো অজুহাতে কোনো মুমিন এ থেকে বিরত থাকতে পারে না। মুনাফিকরাই শুধু জিহাদের ফরজ ইবাদাত থেকে গা বাঁচিয়ে চলার কূটকৌশল অবলম্বন করে। জিহাদ করতে প্রশিক্ষণ লাগে, অস্ত্র লাগে এটা সত্য। তবে এটা কি অসম্ভব। যখন সে আলিম বুঝতে পারেন অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তখন কেন অস্ত্র জোগাড় করে না। প্রশিক্ষণ গ্রহণের চেষ্টা না করে শয়তানী ধোঁকায় পড়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। যে বুঝতে পারল প্রশিক্ষণ লাগবে, অস্ত্র লাগবে। তারই দায়িত্ব হলো অস্ত্র জোগাড় করা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কেউ যদি বলে সালাত আদায় করতে হবে। পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। এখন যেহেতু পবিত্রতা অর্জন করতে পারছি না সেহেতু সলাত আদায় করা লাগবে না। এরূপ আলিমদের কথা তো এমনই হয়ে গেল। ফরজ ইবাদাত ছেড়ে দেয়ার জন্যে এমন কথা বলা প্রকৃতপক্ষে কোনো আলেম বলতে পারে না। আমি যখন বলব- আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সঃ) এর সুন্নাহ ব্যতীত কোনো কিছু মানবো না। মানব রচিত বিধানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থা। কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে সন্তুষ্টির সাথে মানব রচিত বিধান যারা মেনে চলবে বা মেনে চলাকে বৈধ বলবে তারা মুরতাদ এবং কাফির। তখনই দেখা যাবে নমরুদ, ফেরআউন, আবু জেহেল, আবু লাহাবদের প্রেতাত্মারা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এগিয়ে আসছে। কার বিরুদ্ধে জিহাদ করব এমন কথা একজন মূর্খ-জাহিল ব্যতীত কেউ বলতে পারেনা। এ ধরণের আলিম মূলত নমরূদ-ফিরআউনের নেতৃত্বের জিহাদ করার মত আবোল-তাবোল বকাবকি করছে। মুসলিম জামাআতের আমীর জিহাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ তিনি মুসলিম জামাআহর শাসক। কুফুরি পদ্ধতিতে কুফরী আক্বীদাহ- বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে খতম করে দ্বীনে হক ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই আল্লাহ জিহাদ ফরজ করেছেন। তাই এ ধরণের জাহিল আলিমের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে রসূল (সঃ) খুলাফায়ে রাশিদীন (রাঃ) ও প্রায় সালাফ-আস-সালিহীনগণ যেভাবে জিহাদ করেছিলেন। সকল মুমিনের দায়িত্ব হল ঐ জিহাদের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সর্বোচ্চ কুরবানী পেশ করা। বিশেষ করে বর্তমানে এই ফরজ ইবাদাতের গুরুত্ব আরো অনেক বেশি।
মহান আল্লাহ বলেন,
يايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ .
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দের। হতে পারে কোনো কিছু তোমাদের কাছে অপছন্দ কিন্তু তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হতে পারে কোনো কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় কিন্তু তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না”।
গ্রামে-গঞ্জে চোর ধরা পড়লে জনগণ শরীয়াহ মোতাবেক শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন না। এমনকি মারধরও করতে পারবেন না। কারণ তারা কেউ ইসলামী শরীয়াহ কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নন। কোনো হাদ্দ কার্যকরী করতে হলে শারঈ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হয়। কারণ এতে কোনো ধরণের ত্রুটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটা হুট করে কার্যকরীRead more
গ্রামে-গঞ্জে চোর ধরা পড়লে জনগণ শরীয়াহ মোতাবেক শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন না। এমনকি মারধরও করতে পারবেন না। কারণ তারা কেউ ইসলামী শরীয়াহ কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নন। কোনো হাদ্দ কার্যকরী করতে হলে শারঈ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হয়। কারণ এতে কোনো ধরণের ত্রুটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটা হুট করে কার্যকরী করার বিষয়ও নয়।
সাহাবীগণ চোরকে নিজে শাস্তি না দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যেতেন। অনুরূপভাবে পরবর্তীতে আবু বকর (রা:) খলিফা হলে তার নিকট নিয়ে যেতেন।
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝেRead more
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝে আছে বলে কেউ বিশ্বাস করে তাহলে সে হবে মুশরিক। আল্লাহর এই সিফাতি নামগুলো খাস করে বিশ্বাস- পোষণ করে এর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করলেই জান্নাত লাভ করা যাবে। শুধু নামগুলো মুখস্থ করলেই নয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই-এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে।
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিRead more
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ইদ্দতান্তে কোনো দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। মহিলাটি তো চরম উদারতা দেখিয়েছে। স্বামীকে অন্য বিবাহের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। এ সমাজে কয়জন মহিলাই এমন উদারতা দেখাতে পারে? যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহে আসক্ত হয়ে আছে এমন পাপিষ্ঠের সাথে কোনো দ্বীনদার মহিলার না থাকাই উচিত।
মহান আল্লাহ বলেন,
الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [সূরা নূর: আয়াত:৩]
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন। বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা'বার কাছে থাকতেই লোকজন উRead more
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন।
বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা’বার কাছে থাকতেই লোকজন উনাকে চিনে ফেলবে আর উনার কাছে বাইআতের জন্য তারা পীড়াপিড়ি করবে। প্রথমত, তিনি লোকদের বাইআত নিতে অস্বীকার করবেন। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আওয়াজ দেওয়া হবে –
هذا خَلِيفَةُ الله المهدي
ইনিই আল্লাহর খলীফাহ মাহদী, অবশেষে তিনি জিহাদের দায়িত্ব নিবেন এবং উনার নেতৃত্বেই জিহাদ পরিচালিত হবে।
“বরফের পাহাড়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাঁর (মাহদির) কাছে পৌঁছে তাঁর সঙ্গে যোগ দাও” — এই কথাটি সাধারণত ইমাম মাহদি (আঃ)-এর প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
এই বর্ণনাটির উৎসমূল ও মান :
এই হাদিসটি পাওয়া যায় ইবন মাজাহ-এর সুনান গ্রন্থে,
কিতাবুল ফিতান, باب خروج المهدي,
হাদিস নম্বর: 4084 (কিছু সংস্করণে 4082)।
আরবিতে বর্ণনাটি হলো:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
“يَقْتَتِلُ عِندَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ، ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ، فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ – ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ – فَقَالَ: فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ”
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের জন্য তিনজন খলিফার পুত্র যুদ্ধ করবে… তারপর পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাধারীরা আসবে… তারপর নবী ﷺ বললেন: ‘যদি তোমরা তাঁকে (মাহদিকে) দেখতে পাও, তবে বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়েও তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে বায়আত করো, কারণ তিনি আল্লাহর খলিফা মাহদি।”
হাদিসের মান (দুর্বল বা সহীহ?)
কেউ কেউ এই হাদীসের রাবিকে সত্যবাদী বলেছেন। আবার কেউ কেউ কোন কোন রাবির দুর্বলতা তুলে ধরেছেন।
ইবন হাজর, আলবানী, শু’আইব আল-আর্নাউত প্রমুখ হাদিস সমালোচকরা বলেছেন —
সনদে থাকা ‘আলী ইবন যায়েদ ইবন জুদআন’ দুর্বল বর্ণনাকারী, ফলে হাদিসটি দুর্বল।
🔹 শায়খ আলবানী (সিলসিলা আল-আহাদিস আল-দাইফাহ, হাদিস ৮৫) একে দুর্বল বলেছেন।
🔹 শু’আইব আল-আর্নাউত (তাহকীক, সুনান ইবন মাজাহ) মন্তব্য করেছেন: “إسناده ضعيف” — “এর সনদ দুর্বল।”
তবে অর্থগতভাবে (মাতন) হাদিসটির ভাব সহীহ,
যদিও সনদ দুর্বল, তবুও বিষয়বস্তু ইমাম মাহদি সম্পর্কে অন্যান্য সহীহ হাদিসের সাথে মিল রাখে— যেমন মাহদির আগমন, পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী বাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদিস রয়েছে (যেমন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ইত্যাদিতে)।
তবে “বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে যাও”— অংশটি বিশেষভাবে দুর্বল সূত্রে এসেছে।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা দেখে মনে হয় ইমাম মাহদির আগমন সন্নিকটে। কারণ হাদিসে বর্ণিত কিয়ামতের ছোট ছোট আলামতগুলো প্রায় প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর কিয়ামতের বড় আলামত ইমাম মাহদির আত্ম প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হবে।والله أعلم
প্রশ্ন নং ৪০ ‣ প্রজেক্টরে বক্তাকে দেখা যায় এমন মাহফিলে মহিলারা কি যেতে পারবে?
ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। ইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাRead more
ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
See lessইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
“মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে…” (সূরা আন-নূর: ৩১) বড় মনিটরে বক্তাকে দেখা এই আয়াতের নির্দেশের পরিপন্থী হতে পারে, বিশেষ করে যদি সেখানে ফেতনার আশঙ্কা থাকে।
এ হাদীসটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল। উম্মে সালামাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন:
“আমি ও মায়মুনা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযি.) আসলেন… তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদের দেখছেন না।’ তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা দুজন কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?’” (সুনানে আবু দাউদ: ৪১১২; তিরমিজি: ২৭৭৮ – ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহীহ বলেছেন)
যদিও কোনো কোনো আলেম এই হাদীসটিকে বিশেষ প্রেক্ষাপটে আলোচনা করেছেন, তবে স্কলারদের একটি বড় অংশ এর মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, অপ্রয়োজনে পরপুরুষের দিকে তাকানো মহিলাদের জন্য অনুচিত।
ওয়াজ মাহফিলে পর্দার বিধান বজায় রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা উচিত:
শব্দই যথেষ্ট: দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য বক্তাকে সশরীরে দেখা জরুরি নয়। প্যান্ডেলে ভালো মানের স্পিকার বা গ্রাউন্ড বক্সের মাধ্যমে শুধু আওয়াজ পৌঁছানোই যথেষ্ট এবং এটিই অধিকতর নিরাপদ।
ফেতনার আশঙ্কা: বর্তমানে ভিডিও বা বড় মনিটরে বক্তার অঙ্গভঙ্গি ও চেহারা প্রদর্শনের ফলে অনেক সময় মূল আলোচনার চেয়ে বক্তার ব্যক্তিত্ব বা অবয়ব নিয়ে চর্চা বেশি হয়, যা পর্দার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
শাইখ বিন বায (রাহ.) এবং শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, প্রয়োজন ছাড়া এবং ফেতনার ভয় থাকলে নারীদের জন্য পরপুরুষের দিকে তাকানো বৈধ নয়।
সুতরাং ওয়াজ মাহফিলে মহিলাদের জন্য বড় মনিটরে বক্তাকে প্রদর্শন করা পরিহার করা উচিত। কেবল শব্দের মাধ্যমে আলোচনা শোনার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে মহিলারা অংশ নিতে পারবেন। তবে সরাসরি মনিটরে বক্তাকে দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া বা দেখার ব্যবস্থা করা সুন্নাহসম্মত পর্দার বিধানের পরিপন্থী।
প্রশ্ন নং ৩৯ ‣ মানসূখ আয়াতগুলোর কোনো তালিকা আছে কি বা মানসূখ আয়াত চেনার আলাদা কি কোনো নীতিমালা আছে?
পবিত্র কুরআনের 'নাসেখ' (রহিতকারী) এবং 'মানসূখ' (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে। মানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি: সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা: ১) রাসূলুRead more
পবিত্র কুরআনের ‘নাসেখ’ (রহিতকারী) এবং ‘মানসূখ’ (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে।
See lessমানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি:
সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা:
১) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে যদি স্পষ্ট বর্ণনা থাকে যে, অমুক আয়াতের বিধান রহিত হয়ে গেছে।
২) যদি দুটি আয়াতের বিধানের মধ্যে সরাসরি বৈপরীত্য থাকে এবং নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, একটি আয়াত আগে এবং অন্যটি পরে নাযিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরের আয়াতটি আগেরটিকে রহিত (নাসেখ) করবে।
৩) যদি উম্মাহর উলামায়ে কেরাম কোনো একটি আয়াতের বিধান রহিত হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছান।
মানসূখ আয়াতের তালিকা ও কিতাবসমূহ:
এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ অনেক মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। সুতরাং এটি অলিখিত কোনো বিষয় নয়। উল্লেখযোগ্য কিছু কিতাব হলো:
ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম (রাহ.)-এর ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ’।
ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.)-এর ‘নাওয়াসিখুল কুরআন’।
ইমাম সুয়ূতী (রাহ.)-এর ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে এ বিষয়ে গোছানো তালিকা রয়েছে।
মানসূখ আয়াতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ:
প্রাথমিক যুগের আলেমগণ অনেক আয়াতের বিধানকে ‘মানসূখ’ বলতেন, কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে আয়াতগুলো পুরোপুরি মানসূখ নয়, বরং একটি বিশেষ পরিস্থিতির জন্য অন্যটি সাধারণ পরিস্থিতির জন্য (অর্থাৎ আয়াতগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব)।
ইমাম সুয়ূতী (রাহ.) তাঁর গবেষণায় মাত্র ২০টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রাহ.) আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে মাত্র ৫টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে গণ্য করেছেন।
সতর্কতা:
নাসেখ-মানসূখ একটি জটিল বিষয়। আলী (রাদি.) একবার এক ব্যক্তিকে মসজিদে ওয়ায করতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি নাসেখ ও মানসূখ চেনো?” সে বলল, “না”। তিনি বললেন, “তাহলে তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছো এবং অন্যকেও ধ্বংস করছো।”
মানসূখ আয়াতের তালিকা সম্বলিত অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাব রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দেওয়া সমীচীন নয়। আমাদের উচিত নির্ভরযোগ্য স্কলারদের দরস বা কিতাব থেকে এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা। যারা এ নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিতে চান, তাদের জন্য পূর্বসূরী ইমামদের কিতাবগুলোই হবে প্রধান পথপ্রদর্শক।
প্রশ্ন নং ৩৮ ‣ সলাতে রুকু থেকে উঠে পুনরায় বুকে হাত বাঁধার কি কোনো দলিল আছে?
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর (কওমার অবস্থায়) হাত ছেড়ে দেওয়া বা পুনরায় বুকে হাত বাঁধা- উভয় আমলই সমসাময়িক আলেমদের মাঝে আলোচিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো: ১. যারা রুকুর পর হাত বাঁধার পক্ষে (ইমাম ইবনে বায ও ইবনে উসাইমীন রহ.) শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহRead more
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর (কওমার অবস্থায়) হাত ছেড়ে দেওয়া বা পুনরায় বুকে হাত বাঁধা- উভয় আমলই সমসাময়িক আলেমদের মাঝে আলোচিত। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
See less১. যারা রুকুর পর হাত বাঁধার পক্ষে (ইমাম ইবনে বায ও ইবনে উসাইমীন রহ.)
শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) রুকুর পর হাত বাঁধাকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের প্রধান দলিল হলো সাহাবী সাহল বিন সা’দ (রাদি.) বর্ণিত সহীহ বুখারীর এই হাদীসটি:
“লোকদের নির্দেশ দেওয়া হতো যে, সালাতে যেন প্রত্যেকে তার ডান হাত বাম হাতের জরা (বাহু)-এর উপর রাখে।” (সহীহ বুখারী: ৭৪০)
তাঁদের যুক্তি: হাদীসে বলা হয়েছে “সালাতে” (في الصلاة), অর্থাৎ সলাতের সাধারণ দণ্ডায়মান অবস্থায়। রুকুর আগের দাঁড়ানো যেমন ‘কিয়াম’ (দণ্ডায়মান), রুকুর পরের অবস্থাটিও ‘কিয়াম’। সুতরাং এই সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে রুকুর পরেও হাত বাঁধা সুন্নাহ। শাইখ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আশ-শারহুল মুমতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যেহেতু এটি সলাতের একটি দণ্ডায়মান অবস্থা, তাই রুকুর আগের ও পরের দণ্ডায়মানের মাঝে পার্থক্য করার কোনো বিশেষ দলিল নেই।
২. যারা রুকুর পর হাত ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে (ইমাম আলবানী রহ.)
বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) রুকুর পর হাত বাঁধাকে ‘বিদআত’ বা ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর যুক্তি হলো:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায় রুকুর আগের হাত বাঁধার কথা স্পষ্টভাবে আসলেও, রুকুর পরের বর্ণনায় শুধু “হাত সোজা হয়ে যার যার স্থানে ফিরে যাওয়া” (حتى يعود كل فقار مكانه) এর কথা এসেছে।
সালাফে সালেহীন বা চার ইমামের কারো থেকেই রুকুর পর হাত বাঁধার কোনো স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই তিনি মনে করতেন, এটি একটি ‘নতুন উদ্ভাবিত’ মাসআলা। (অর্থাৎ বিদআহ)
৩. সমন্বয় ও ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি
এটি একটি ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) মাসআলা। যেহেতু এ বিষয়ে কোনো ‘নস’ বা সরাসরি অকাট্য হাদীস নেই (যেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে রুকুর পর হাত বাঁধো অথবা ছেড়ে দাও), সেহেতু এ নিয়ে কড়াকড়ি করা অনুচিত। সলাতের এই বিষয়টি “সুন্নাহর বৈচিত্র্য” বা ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত। যারা হাত বাঁধছেন তারা বড় ইমামদের গবেষণা অনুসরণ করছেন, আর যারা ছেড়ে দিচ্ছেন তারা মূল বর্ণনার বাহ্যিক রূপ অনুসরণ করছেন। এ নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করা, বিবাদে লিপ্ত হওয়া বা কাউকে সুন্নাহ বিরোধী বলা সালাফি মানহাজের আদর্শ নয়। শাইখ বিন বায (রাহ.) নিজেও বলেছেন যে, কেউ যদি হাত ছেড়ে দেয় তাতে তার সলাতের কোনো ক্ষতি হবে না।
সুতরাং রুকুর পর হাত বাঁধা এবং ছেড়ে দেওয়া; উভয় মতেরই শক্তিশালী যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। তবে উম্মাহর ঐক্য বজায় রাখতে এসব ছোটখাটো ইজতিহাদী বিষয়ে কঠোরতা পরিহার করাই উত্তম।
প্রশ্ন নং ৩৭ ‣ আইসিডিডিআরবি এ চাকুরী করা কি জায়েজ হবে?
মূলত চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মূলগতভাবে জায়েজ বা বৈধ। তবে একজন মুসলিম হিসেবে কর্মস্থল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। যেমনঃ ইসলাম মানবসেবা ও জীবন রক্ষার চিকিৎসাবিদ্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআRead more
মূলত চিকিৎসা বা জনস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মূলগতভাবে জায়েজ বা বৈধ। তবে একজন মুসলিম হিসেবে কর্মস্থল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। যেমনঃ ইসলাম মানবসেবা ও জীবন রক্ষার চিকিৎসাবিদ্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
See less“যে ব্যক্তি কোনো মানুষের প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন জগতের সমস্ত মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৩২)
সুতরাং, আইসিডিডিআর,বি-র মতো প্রতিষ্ঠান যদি মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রতিষেধক বা চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে, তবে সেখানে কারিগরি বা প্রশাসনিক সেবা প্রদান করা সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে। যেহেতু আইসিডিডিআর,বি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে বিভিন্ন অমুসলিম দাতা সংস্থা বা বিদেশি মিশনগুলোর সংশ্লিষ্টতা থাকে, তাই একজন মুসলিমের জন্য কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক।
আকীদাহ ও বিশ্বাস রক্ষা: যদি প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকাণ্ডে ইসলামবিরোধী প্রচার-প্রসার বা কুসংস্কারের সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে তা থেকে দূরে থাকতে হবে।
ভ্যাকসিনের গুণগত মান ও উদ্দেশ্য: যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা ঔষধের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর বা জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে তবে সেই নির্দিষ্ট প্রজেক্টে সহযোগিতা করা জায়েজ হবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা একে অপরের সাহায্য করো, কিন্তু পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ২)
মিশনারী প্রভাব: যদি সেখানে মিশনারীদের সরাসরি কোনো ধর্মীয় এজেন্ডা থাকে যা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে আঘাত হানে, তবে সেখানে কাজ করা ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অমুসলিমদের থেকে চিকিৎসা বা কারিগরি সহায়তা নিয়েছেন- এমন প্রমাণ সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়। সুতরাং, কোনো অমুসলিম সংস্থা বা তাদের অনুদানে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে কেবল পেশাদারিত্বের খাতিরে চাকরি করা নাজায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেটি সরাসরি কোনো হারাস (হারাম) কাজ বা ইসলামের ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: আইসিডিডিআর,বি-তে চাকরি করা বৈধ, যদি আপনার দায়িত্বটি সরাসরি কোনো হারাম কাজের (যেমন: সুদী লেনদেন, ইসলাম বিরোধী প্রচারণা বা প্রমাণিত ক্ষতিকর কোনো গবেষণা) সাথে যুক্ত না থাকে। তবে কর্মক্ষেত্রে নিজের ঈমান ও আমল রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে।
প্রশ্ন নং ৩৬ ‣ স্ত্রীকে না জানিয়ে দেনমোহর কমানো যাবে কি?
দেনমোহর যদি স্ত্রীর অজান্তে নির্ধারণ করা হয় তাহলে অভিভাবকরা যে দেন মোহর ধার্য করেছেন তা তাকে জানানো প্রয়োজন। কারণ দেন মোহর পাওয়ার অধিকার হল স্ত্রীর। এর মাঝে কোনো অভিভাবকের হক নেই। তাকে জানানোর পর স্বামী-স্ত্রীর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কম-বেশী যে পরিমাণেরই উপর উভয়ে একমত হবেন তাই দেন মোহর হিসেবে গণ্য হRead more
দেনমোহর যদি স্ত্রীর অজান্তে নির্ধারণ করা হয় তাহলে অভিভাবকরা যে দেন মোহর ধার্য করেছেন তা তাকে জানানো প্রয়োজন। কারণ দেন মোহর পাওয়ার অধিকার হল স্ত্রীর। এর মাঝে কোনো অভিভাবকের হক নেই। তাকে জানানোর পর স্বামী-স্ত্রীর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কম-বেশী যে পরিমাণেরই উপর উভয়ে একমত হবেন তাই দেন মোহর হিসেবে গণ্য হবে। স্বামীর অক্ষমতা বিবেচনা করে অথবা স্বামীকে সন্তুষ্ট করার জন্যে স্ত্রী যদি মোহরানার জন্যে কোনো অংশ মাফ করে দেয় অথবা পুরোটাই মাফ করে দেয় এটা স্ত্রীর অধিকার সে করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে মনে রাখতে হবে স্ত্রীর উপর কোনো প্রকারের চাপ প্রয়োগ করে কমানো বা মাফ করানোর কাজ করা যাবে না। কেউ যদি এমনটি করে এবং স্ত্রীও মাফ করে দেয় এবং পরে কোনো সময় দাবী করে তাহলে স্ত্রীর মোহর পরিশোধ করতে হবে। কারণ সে তখন সন্তুষ্টির ভিত্তিতে মাফ করেনি। তাই পরে দাবী করেছে। সন্তুষ্টির ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রী যা-ই করবেন তাই সঠিক হবে।
See lessপ্রশ্ন নং ৩৫ ‣ কিছু আলেম ফতওয়া দেয় বর্তমানে জিহাদ ফরজ হয়নি। এই ফতওয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
জিহাদ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদাত। যে ইবাদাত সারাজীবনব্যাপী করতে হয়। এই জিহাদের ইবাদাত কেউ নিষিদ্ধ করতে পারে না। কোনো অজুহাতে কোনো মুমিন এ থেকে বিরত থাকতে পারে না। মুনাফিকরাই শুধু জিহাদের ফরজ ইবাদাত থেকে গা বাঁচিয়ে চলার কূটকৌশল অবলম্বন করে। জিহাদ করতে প্রশিক্ষণ লাগে, অস্ত্র লাগে এটা সতRead more
জিহাদ হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদাত। যে ইবাদাত সারাজীবনব্যাপী করতে হয়। এই জিহাদের ইবাদাত কেউ নিষিদ্ধ করতে পারে না। কোনো অজুহাতে কোনো মুমিন এ থেকে বিরত থাকতে পারে না। মুনাফিকরাই শুধু জিহাদের ফরজ ইবাদাত থেকে গা বাঁচিয়ে চলার কূটকৌশল অবলম্বন করে। জিহাদ করতে প্রশিক্ষণ লাগে, অস্ত্র লাগে এটা সত্য। তবে এটা কি অসম্ভব। যখন সে আলিম বুঝতে পারেন অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তখন কেন অস্ত্র জোগাড় করে না। প্রশিক্ষণ গ্রহণের চেষ্টা না করে শয়তানী ধোঁকায় পড়ে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। যে বুঝতে পারল প্রশিক্ষণ লাগবে, অস্ত্র লাগবে। তারই দায়িত্ব হলো অস্ত্র জোগাড় করা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। কেউ যদি বলে সালাত আদায় করতে হবে। পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। এখন যেহেতু পবিত্রতা অর্জন করতে পারছি না সেহেতু সলাত আদায় করা লাগবে না। এরূপ আলিমদের কথা তো এমনই হয়ে গেল। ফরজ ইবাদাত ছেড়ে দেয়ার জন্যে এমন কথা বলা প্রকৃতপক্ষে কোনো আলেম বলতে পারে না। আমি যখন বলব- আল্লাহর বিধান ও রাসূল (সঃ) এর সুন্নাহ ব্যতীত কোনো কিছু মানবো না। মানব রচিত বিধানের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা হলো কুফরি রাষ্ট্রব্যবস্থা। কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে সন্তুষ্টির সাথে মানব রচিত বিধান যারা মেনে চলবে বা মেনে চলাকে বৈধ বলবে তারা মুরতাদ এবং কাফির। তখনই দেখা যাবে নমরুদ, ফেরআউন, আবু জেহেল, আবু লাহাবদের প্রেতাত্মারা রুদ্রমূর্তি ধারণ করে এগিয়ে আসছে। কার বিরুদ্ধে জিহাদ করব এমন কথা একজন মূর্খ-জাহিল ব্যতীত কেউ বলতে পারেনা। এ ধরণের আলিম মূলত নমরূদ-ফিরআউনের নেতৃত্বের জিহাদ করার মত আবোল-তাবোল বকাবকি করছে। মুসলিম জামাআতের আমীর জিহাদের সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ তিনি মুসলিম জামাআহর শাসক। কুফুরি পদ্ধতিতে কুফরী আক্বীদাহ- বিশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কুফরী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে খতম করে দ্বীনে হক ইসলামকে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই আল্লাহ জিহাদ ফরজ করেছেন। তাই এ ধরণের জাহিল আলিমের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে রসূল (সঃ) খুলাফায়ে রাশিদীন (রাঃ) ও প্রায় সালাফ-আস-সালিহীনগণ যেভাবে জিহাদ করেছিলেন। সকল মুমিনের দায়িত্ব হল ঐ জিহাদের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সর্বোচ্চ কুরবানী পেশ করা। বিশেষ করে বর্তমানে এই ফরজ ইবাদাতের গুরুত্ব আরো অনেক বেশি।
See lessমহান আল্লাহ বলেন,
يايُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَعَسَىٰ أَن تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ .
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দের। হতে পারে কোনো কিছু তোমাদের কাছে অপছন্দ কিন্তু তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হতে পারে কোনো কিছু তোমাদের কাছে প্রিয় কিন্তু তা তোমাদের জন্য ক্ষতিকর। আর আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না”।
প্রশ্ন নং ৩৪ ‣ জনসাধারণ কি চোরের বিচার করতে পারবে?
গ্রামে-গঞ্জে চোর ধরা পড়লে জনগণ শরীয়াহ মোতাবেক শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন না। এমনকি মারধরও করতে পারবেন না। কারণ তারা কেউ ইসলামী শরীয়াহ কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নন। কোনো হাদ্দ কার্যকরী করতে হলে শারঈ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হয়। কারণ এতে কোনো ধরণের ত্রুটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটা হুট করে কার্যকরীRead more
গ্রামে-গঞ্জে চোর ধরা পড়লে জনগণ শরীয়াহ মোতাবেক শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন না। এমনকি মারধরও করতে পারবেন না। কারণ তারা কেউ ইসলামী শরীয়াহ কার্যকর করার কর্তৃপক্ষ নন। কোনো হাদ্দ কার্যকরী করতে হলে শারঈ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করতে হয়। কারণ এতে কোনো ধরণের ত্রুটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। আর এটা হুট করে কার্যকরী করার বিষয়ও নয়।
See lessসাহাবীগণ চোরকে নিজে শাস্তি না দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নিয়ে যেতেন। অনুরূপভাবে পরবর্তীতে আবু বকর (রা:) খলিফা হলে তার নিকট নিয়ে যেতেন।
প্রশ্ন নং ৩৩ ‣ আল্লাহর ৯৯টি নাম মুখস্ত করলেই কি জান্নাত পাওয়া যাবে?
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝেRead more
আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো সংরক্ষণ করার কথা আছে। আল্লাহ নিজে এই গুণবাচক নামগুলো নিজের জন্যে ধারণ করেছেন। আল্লাহর এই গুণ বা সিফাত এককভাবে আল্লাহরই। এই সিফাতগুলো আল্লাহর জন্যেই খাস করে বিশ্বাস পোষণ করতে হবে। আল্লাহর এই গুণ আল্লাহর জন্যে যেরূপ। এর কোনো একটি গুণকেও যদি অনুরূপভাবে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির মাঝে আছে বলে কেউ বিশ্বাস করে তাহলে সে হবে মুশরিক। আল্লাহর এই সিফাতি নামগুলো খাস করে বিশ্বাস- পোষণ করে এর ভিত্তিতে জীবন পরিচালনা করলেই জান্নাত লাভ করা যাবে। শুধু নামগুলো মুখস্থ করলেই নয়।
See lessعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ لِلَّهِ تَعَالَى تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلَّا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বই-এক কম একশ’টি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি এ নামগুলো মুখস্থ করবে সে জান্নাতে যাবে।
প্রশ্ন নং ৩২ ‣ যিনাকারী পুরুষের ক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী?
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিRead more
একজন বিবাহিত পুরুষ যিনা করলে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তার শাস্তি হল পাথর মেরে হত্যা করা। এখন যেহেতু এই কাজটি কার্যকর করা হচ্ছে না বা যাচ্ছে না অথচ ব্যাভিচার প্রমাণিত হচ্ছে। আলেম উলামার দ্বারা বুঝানোর অর্থ হচ্ছে স্বীকৃতিও দিচ্ছে অথচ সে তাওবাহ্ করেও ফিরছে না। সেহেতু মহিলাটির উচিত হল তার কাছ থেকে তালাক নিয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ইদ্দতান্তে কোনো দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। মহিলাটি তো চরম উদারতা দেখিয়েছে। স্বামীকে অন্য বিবাহের জন্য পরামর্শ দিয়েছে। এ সমাজে কয়জন মহিলাই এমন উদারতা দেখাতে পারে? যে ব্যক্তি কবীরা গুনাহে আসক্ত হয়ে আছে এমন পাপিষ্ঠের সাথে কোনো দ্বীনদার মহিলার না থাকাই উচিত।
See lessমহান আল্লাহ বলেন,
الزَّانِي لَا يَنكِحُ إِلَّا زَانِيَةً أَوْ مُشْرِكَةً وَالزَّانِيَةُ لَا يَنكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ۚ وَحُرِّمَ ذَٰلِكَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
ব্যভিচারী পুরুষ কেবল ব্যভিচারিণী নারী অথবা মুশরিকা নারীকেই বিয়ে করে এবং ব্যভিচারিণীকে কেবল ব্যভিচারী অথবা মুশরিক পুরুষই বিয়ে করে এবং এদেরকে মুমিনদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। [সূরা নূর: আয়াত:৩]
প্রশ্ন নং ৩১ ‣ ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশের লক্ষণ কি কি? তার আগমন কি সন্নিকটে?
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন। বাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা'বার কাছে থাকতেই লোকজন উRead more
ইমাম মাহদির নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তিনি রসূল (সঃ) এর বংশের হবেন। পূর্ব থেকেই তিনি জিহাদী কাফেলায় শরীক থাকবেন। কোনো কারণে তাদের সাথে মতানৈক্য হওয়ার পর তিনি তাদেঁর কাছ থেকে মক্কায় চলে যাবেন।
See lessবাইদার ভূমি ধ্বংসের পর আল্লাহ উনাকে এক রাতেই এই মহান দায়িত্বের জন্য ঐ তৈরী করবেন। কা’বার কাছে থাকতেই লোকজন উনাকে চিনে ফেলবে আর উনার কাছে বাইআতের জন্য তারা পীড়াপিড়ি করবে। প্রথমত, তিনি লোকদের বাইআত নিতে অস্বীকার করবেন। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আওয়াজ দেওয়া হবে –
هذا خَلِيفَةُ الله المهدي
ইনিই আল্লাহর খলীফাহ মাহদী, অবশেষে তিনি জিহাদের দায়িত্ব নিবেন এবং উনার নেতৃত্বেই জিহাদ পরিচালিত হবে।
“বরফের পাহাড়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাঁর (মাহদির) কাছে পৌঁছে তাঁর সঙ্গে যোগ দাও” — এই কথাটি সাধারণত ইমাম মাহদি (আঃ)-এর প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
এই বর্ণনাটির উৎসমূল ও মান :
এই হাদিসটি পাওয়া যায় ইবন মাজাহ-এর সুনান গ্রন্থে,
কিতাবুল ফিতান, باب خروج المهدي,
হাদিস নম্বর: 4084 (কিছু সংস্করণে 4082)।
আরবিতে বর্ণনাটি হলো:
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
“يَقْتَتِلُ عِندَ كَنْزِكُمْ ثَلَاثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ، ثُمَّ لَا يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ، ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ، فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلًا لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ – ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لَا أَحْفَظُهُ – فَقَالَ: فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ، فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ”
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের জন্য তিনজন খলিফার পুত্র যুদ্ধ করবে… তারপর পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাধারীরা আসবে… তারপর নবী ﷺ বললেন: ‘যদি তোমরা তাঁকে (মাহদিকে) দেখতে পাও, তবে বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়েও তাঁর কাছে গিয়ে তাঁর হাতে বায়আত করো, কারণ তিনি আল্লাহর খলিফা মাহদি।”
হাদিসের মান (দুর্বল বা সহীহ?)
কেউ কেউ এই হাদীসের রাবিকে সত্যবাদী বলেছেন। আবার কেউ কেউ কোন কোন রাবির দুর্বলতা তুলে ধরেছেন।
ইবন হাজর, আলবানী, শু’আইব আল-আর্নাউত প্রমুখ হাদিস সমালোচকরা বলেছেন —
সনদে থাকা ‘আলী ইবন যায়েদ ইবন জুদআন’ দুর্বল বর্ণনাকারী, ফলে হাদিসটি দুর্বল।
🔹 শায়খ আলবানী (সিলসিলা আল-আহাদিস আল-দাইফাহ, হাদিস ৮৫) একে দুর্বল বলেছেন।
🔹 শু’আইব আল-আর্নাউত (তাহকীক, সুনান ইবন মাজাহ) মন্তব্য করেছেন: “إسناده ضعيف” — “এর সনদ দুর্বল।”
তবে অর্থগতভাবে (মাতন) হাদিসটির ভাব সহীহ,
যদিও সনদ দুর্বল, তবুও বিষয়বস্তু ইমাম মাহদি সম্পর্কে অন্যান্য সহীহ হাদিসের সাথে মিল রাখে— যেমন মাহদির আগমন, পূর্ব দিক থেকে কালো পতাকাবাহী বাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক সহীহ হাদিস রয়েছে (যেমন: মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ইত্যাদিতে)।
তবে “বরফের ওপর হামাগুড়ি দিয়ে যাও”— অংশটি বিশেষভাবে দুর্বল সূত্রে এসেছে।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা দেখে মনে হয় ইমাম মাহদির আগমন সন্নিকটে। কারণ হাদিসে বর্ণিত কিয়ামতের ছোট ছোট আলামতগুলো প্রায় প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর কিয়ামতের বড় আলামত ইমাম মাহদির আত্ম প্রকাশের মাধ্যমে শুরু হবে।والله أعلم