1. পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত 'আল-মাগদুব' (المغضوب) এবং 'আদ-দোয়াল্লিন' (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো 'ض' (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব 'মাখরাজ' (উচ্চারণস্থান) এবং 'সিফাত' (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে। 'ض' (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্Read more

    পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত ‘আল-মাগদুব’ (المغضوب) এবং ‘আদ-দোয়াল্লিন’ (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো ‘ض’ (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণস্থান) এবং ‘সিফাত’ (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে।
    ‘ض’ (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি হরফ। এর মাখরাজ হলো জিহ্বার গোড়ার কিনারা এবং ওপরের মাড়ির দাঁত। বাংলা ভাষায় এমন কোনো বর্ণ নেই, যা দিয়ে ‘ض’ (দোয়াদ) হরফটির সঠিক উচ্চারণ হুবহু লিখে বোঝানো সম্ভব।
    এটি খাঁটি ‘দ’ (দাল) নয়, আবার খাঁটি ‘য’ বা ‘জ’ (যা বা যোয়া) ও নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই বাংলা উচ্চারণ দেখে এটিকে ‘যল্লিন’ বা ‘জয়াল্লিন’ পড়ে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। যদি কেউ এটিকে সম্পূর্ণ ‘য’ এর মতো উচ্চারণ করেন, তবে তা ‘ظ’ (যোয়া) হরফে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এর ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে এবং সালাত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। কারণ, আরবিতে ‘দোয়াল্লিন’ (ضالين) অর্থ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, আর ‘যোয়াল্লিন’ (ظالين) অর্থ ছায়া করা বা কোনো কাজে সারাদিন লিপ্ত থাকা।
    সুতরাং, এটি ‘দল্লিন’ বা ‘যল্লিন’ কোনোটিই নয়। এটি বাংলা অক্ষর দেখে শেখার বিষয়ও নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনুল কারীমকে তারতীল বা সঠিক উচ্চারণের সাথে তিলাওয়াত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
    وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
    অর্থ: “আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীর স্থির ও সুষমামণ্ডিতভাবে (তাজবীদের সাথে)।” [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪]
    তাই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হলো, কোনো বিজ্ঞ ক্কারী বা সহিহ তিলাওয়াতকারী উস্তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি মুখে মুখে আরবি হরফগুলোর মাখরাজ ও উচ্চারণ শিখে নেওয়া। কেবল বাংলা উচ্চারণ দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  2. ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে 'নফল' (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষRead more

    ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে ‘নফল’ (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষায় ‘সুন্নাত’ (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা সুন্নাতে রাতেবা) বলা হয়। আর যেগুলো তিনি কখনো পড়তেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন, সেগুলোকে সাধারণ নফল বলা হয়।
    সুতরাং, ফজরের ফরজের আগের ২ রাকাত সালাতকে কেবল সাধারণ নফল বলা সঠিক নয়, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’।
    দৈনিক ফরজ সালাতের আগে ও পরে নির্দিষ্ট রাকাত সুন্নাত সালাতের (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা) ব্যাপারে সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।
    উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
    অর্থ: “যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে (ফরজ ব্যতীত) বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮]
    সুনান আত-তিরমিজির বর্ণনায় এই ১২ রাকাতের বিস্তারিত বিবরণ এভাবে এসেছে:
    ১. যোহরের ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত।
    ২. মাগরিবের ফরজের পরে ২ রাকাত।
    ৩. ইশার ফরজের পরে ২ রাকাত।
    ৪. ফজরের ফরজের পূর্বে ২ রাকাত।
    [সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৪১৪; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    এছাড়া প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে যোহরের পূর্বে ৪ রাকাতের বদলে ২ রাকাতসহ দৈনিক মোট ১০ রাকাত সুন্নাত সালাত আদায়ের কথাও প্রমাণিত আছে। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮০]
    যেহেতু এই সালাতগুলোর ফজিলত অনেক বেশি এবং এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়মিত আমল, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়া চরম বঞ্চনার কারণ। আর কেউ যদি সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এগুলো বর্জন করে, তবে সে মারাত্মক গুনাহগার হবে।
    তবে কোনো যৌক্তিক ওজর, ঘুম, অসুস্থতা বা ভুলে যাওয়ার কারণে এই সুন্নাতগুলোর কোনোটি ছুটে গেলে ফরজ সালাতের মতো এর কাযা করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সালাফি উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, কেউ চাইলে ছুটে যাওয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (যেমন ফজরের বা যোহরের সুন্নাত) পরবর্তীতে কাযা করে নিতে পারেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমল দ্বারা সাব্যস্ত।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে নিয়মিত সুন্নাত সালাতগুলোর হিফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  3. ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী 'হা হা' করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেRead more

    ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী ‘হা হা’ করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেন না। তাঁর হাসি ছিল অত্যন্ত মার্জিত এবং কেবল মুচকি হাসি।
    উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
    مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ
    অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো এমন অট্টহাসি হাসতে দেখিনি যে, তাঁর আলজিভ দেখা যায়। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮২৮ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯]
    তবে কখনো কখনো আনন্দদায়ক বা বিস্ময়কর কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসতেন যে, তাঁর সামনের মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশ পেত, কিন্তু তাতেও কোনো উচ্চশব্দ হতো না।
    প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জাযয়ী (রা.) বলেন:
    مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
    অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।” [জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৪১; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    অট্টহাসি বা অতিরিক্ত হাসাহাসি করা মুমিনের গাম্ভীর্যের পরিপন্থী এবং এটি অন্তরের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটি মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে মৃত করে দেয় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে তোলে।
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ القَلْبَ
    অর্থ: “আর তুমি অতিরিক্ত হেসো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৩ এবং জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    সুতরাং, একজন মুসলিমের উচিত সর্বদা গাম্ভীর্য ও ইসলামী শিষ্টাচার বজায় রাখা। শব্দ করে অট্টহাসি বর্জন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী কেবল মুচকি হাসার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সকলের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের উত্তম চরিত্র গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  4. ১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ: ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা 'হুকুকুল ইবাদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামRead more

    ১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ:
    ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা ‘হুকুকুল ইবাদ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
    আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
    অর্থ: “শহীদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে ঋণ ব্যতীত।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬]
    আপনার পরিবারের ওপর যেহেতু ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকার বিশাল অংকের ঋণ রয়েছে এবং আপনি যদি সেই ঋণ পরিশোধের জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টা করা এবং পরিবারের পাশে থাকা অগ্রাধিকার পাবে। যদি জিহাদ বর্তমানে আপনার জন্য ‘ফরজে আইন’ না হয়ে থাকে, তবে ঋণদাতার অনুমতি ও ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা ছাড়া জিহাদে বের হওয়া সমীচীন নয়।
    আপনার বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আপনার উচিত প্রথমত নিজের আক্বীদাহ ও আমলকে বিশুদ্ধ করা এবং নিজের পরিবারকে একটি দ্বীনি ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
    وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
    অর্থ: “এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” [সূরা আশ শুআরা: ২১৪]
    আপনজনদের ঈমানী দায়িত্ব ও জিহাদের জন্য প্রস্তুত না করে অন্য কোথাও চলে যাওয়া সুন্নাহর পরিপন্থী। সুতরাং আপনি ঋণ পরিশোধের জন্য হালাল উপার্জনে সচেষ্ট হোন এবং একই সাথে জিহাদের নিয়ত ও মানসিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখুন।
    ২. দোকানে একা সালাত আদায় প্রসঙ্গে:
    একজন সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক। সামান্য পার্থিব কারণ বা চাকরির অজুহাতে জামাত ত্যাগ করা বৈধ নয়।
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ
    অর্থ: “আমার ইচ্ছা হয় আমি সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই এবং এক ব্যক্তিকে ইমামতি করতে বলি, এরপর আমি ওই সব লোকদের কাছে যাই যারা জামাতে উপস্থিত হয়নি এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেই।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫১]
    এমনকি একজন অন্ধ ব্যক্তিকেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতে আসার নির্দেশ দিয়েছেন যদি সে আযান শুনতে পায়। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৩]
    আপনার করণীয় হলো দোকানের মালিকের সাথে অত্যন্ত নম্রভাবে জামাতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা। তাকে বোঝান যে সালাতের সময় দোকান বন্ধ রাখলে বা তাকে জামাতে আসার সুযোগ দিলে ব্যবসায় বরকত হবে। সম্ভব হলে তাকেও দাওয়াত দিয়ে মসজিদে নিয়ে যান। যদি তিনি একান্তই রাজি না হন, তবে দোকানেই অন্তত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে জামাত করার চেষ্টা করুন। আর যদি এই চাকরি আপনার ফরজ ইবাদতে স্থায়ী বাধার সৃষ্টি করে, তবে এমন কর্মসংস্থান খোঁজা উচিত যেখানে আল্লাহর বিধান পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
    ৩. ইসলামি লেখাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে যাওয়া:
    শরীয়তের মূলনীতি হলো, বাথরুমে বা অপবিত্র স্থানে এমন কিছু নিয়ে যাওয়া মাকরূহ বা নিষিদ্ধ যাতে আল্লাহর নাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম কিংবা কুরআনের কোনো আয়াত লিখিত থাকে।
    আপনার হুডিতে ‘Islam is Light’ (ইসলাম হলো আলো) লেখা আছে। এটি একটি সাধারণ ইসলামি বাক্য এবং এতে আল্লাহর নাম (যেমন আল্লাহ, রব, রহমান) কিংবা রাসূলের নাম অথবা কুরআনের আয়াত সরাসরি নেই। সালাফি উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী, এই ধরনের সাধারণ বর্ণনাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে প্রবেশ করা হারাম নয়। তবে দ্বীনি নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যদি সম্ভব হয় সেটি ঢেকে রাখা বা পরিবর্তন করা উত্তম।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
    ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
    অর্থ: “এটিই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।” [সূরা আল হাজ্জ: ৩২]
    সুতরাং ‘Islam is Light’ লেখা পোশাকে বাথরুমে যাওয়া জায়েজ হলেও আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত থাকলে তা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less
  5. হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে 'রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ' পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযRead more

    হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ।
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন:
    كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
    অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবির বলতেন, এরপর রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। অতঃপর যখন রুকু থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন বলতেন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলতেন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৮৯ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯২]
    যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইমামতি করতেন এবং তিনি রুকু থেকে ওঠার পর এই দুটি বাক্যই পাঠ করতেন, তাই প্রত্যেক ইমামের জন্যই এই সুন্নাহটি অনুসরণ করা আবশ্যক।
    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন:
    صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
    অর্থ: “তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১]
    প্রখ্যাত সালাফি আলেম শায়খ আবদুল আযীয ইবনে বাজ (রহ.) এবং শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল উসাইমিন (রহ.) এর ফতোয়া অনুযায়ী, ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তি রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ উভয়টিই পাঠ করবেন। আর মুক্তাদি (ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারী) শুধু ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ পাঠ করবেন।
    সুতরাং ইমামতির দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি রুকু থেকে উঠে অবশ্যই ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী সালাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  6. প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতির আলোকে ইসলামী শরীয়তের বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এখানে স্ত্রীর পক্ষ থেকে দুটি মারাত্মক শরয়ি ত্রুটি ও অবাধ্যতা প্রকাশ পাচ্ছে। কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুযায়ী এর সমাধান হলো: প্রথমত: সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সন্তান দান করা বা না করRead more

    প্রশ্নে উল্লেখিত পরিস্থিতির আলোকে ইসলামী শরীয়তের বিধান অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এখানে স্ত্রীর পক্ষ থেকে দুটি মারাত্মক শরয়ি ত্রুটি ও অবাধ্যতা প্রকাশ পাচ্ছে। কুরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুযায়ী এর সমাধান হলো:
    প্রথমত: সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে
    সন্তান দান করা বা না করা সম্পূর্ণ মহান আল্লাহর ইখতিয়ার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
    لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ يَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَنْ يَشَاءُ الذُّكُورَ
    অর্থ: “আসমান ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।” [সূরা আশ শুরা: ৪৯]
    ইসলামে উপযুক্ত শরয়ি ওজর বা মায়ের জীবনের ঝুঁকির মতো চরম শারীরিক অক্ষমতা ছাড়া স্থায়ীভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা বা আর কখনোই সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং ফিতরাত বিরোধী একটি কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে বেশি বেশি সন্তান জন্মদানের নির্দেশ দিয়েছেন।
    তিনি বলেছেন:
    تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ إِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأَنْبِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
    অর্থ: “তোমরা এমন নারীকে বিবাহ করো, যে বেশি প্রেমময়ী এবং অধিক সন্তান প্রসবকারিণী। কারণ কিয়ামতের দিন আমি অন্যান্য নবীদের সামনে তোমাদের আধিক্য নিয়ে গর্ব করব।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৫০; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    তাই আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর নিজের সিদ্ধান্তকে চাপিয়ে দেওয়া চরম আকিদাগত দুর্বলতা ও অজ্ঞতা। অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি একটি সন্তান নিয়ে আর সন্তান নিতে চাননি, পরবর্তীতে দুর্ঘটনায় সেই সন্তান মারা যাওয়ার পর তারা সারাজীবন অনুশোচনা করেছেন। তাই এই স্ত্রীর উচিত নিজের ঈমান ও আকিদাহ পরিশুদ্ধ করা এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট হওয়া।
    দ্বিতীয়ত: স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়া
    কোনো স্ত্রীর জন্য শরয়ি ওজর (যেমন মাসিক, নেফাস বা চরম অসুস্থতা) ছাড়া স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়া বা শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা একটি কবিরা গুনাহ। এর ফলে সে আল্লাহর লানত ও ফেরেশতাদের অভিশাপের পাত্রী হয়।
    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ
    অর্থ: “স্বামী যখন তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, আর স্ত্রী যদি তা অস্বীকার করে এবং স্বামী তার ওপর রাগ করে রাত কাটায়, তাহলে সকাল হওয়া পর্যন্ত ফেরেশতারা সেই স্ত্রীর ওপর অভিশাপ দিতে থাকে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৩৭ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৩৬]
    তৃতীয়ত: স্বামীর করণীয় এবং বহুবিবাহের সমাধান
    দীর্ঘ ৮ বছর ধরে স্ত্রী যদি এমন আচরণ করে এবং অনুতপ্ত না হয়, তবে স্বামীর নিজের চরিত্র ও ঈমান হেফাজত করা ফরজ। একজন সক্ষম পুরুষের জন্য নিজের পবিত্রতা রক্ষার্থে এবং চোখের হিফাজতের জন্য একাধিক বিবাহ করা শরীয়তসম্মত ও উত্তম একটি সমাধান।
    জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِذَا أَحَدُكُمْ أَعْجَبَتْهُ الْمَرْأَةُ فَوَقَعَتْ فِي قَلْبِهِ فَلْيَعْمِدْ إِلَى امْرَأَتِهِ فَلْيُوَاقِعْهَا فَإِنَّ ذَلِكَ يَرُدُّ مَا فِي نَفْسِهِ
    অর্থ: “যদি তোমাদের কারো কোনো নারীর প্রতি দৃষ্টি পড়ে এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হয়, তবে সে যেন তার স্ত্রীর কাছে যায় এবং তার সাথে মিলিত হয়। এটি তার অন্তরের কুমন্ত্রণা দূর করে দেবে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪০৩]
    এখন প্রথম স্ত্রী যদি মাসের পর মাস স্বামীর প্রয়োজন পূরণে অপারগ বা অবাধ্য হয়, তবে দ্বিতীয় স্ত্রী থাকলে স্বামী সহজেই নিজেকে হারাম থেকে বাঁচাতে পারে। সালাফে সালেহীনগণ সক্ষম পুরুষদের বিবাহের প্রতি উৎসাহ দিতেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) তার ছাত্র সাঈদ ইবনে জুবায়েরকে বলেছিলেন, “বিবাহ করো, কেননা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) সবচেয়ে বেশি স্ত্রী ছিল।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৯]
    চতুর্থত: স্ত্রীদের মাঝে সমতা বিধান এবং প্রথম স্ত্রীর আচরণ
    যদি স্বামী দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে প্রথম স্ত্রীর কোনো অধিকার নেই তাতে বাধা দেওয়া বা সতিনের তালাক দাবি করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    لاَ تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَفْرِغَ صَحْفَتَهَا
    অর্থ: “কোনো নারী যেন তার (মুসলিম) বোনের তালাক দাবি না করে, যাতে তার পাত্রটি সে একাই শূন্য করে নিতে পারে। সে যেন বিবাহ বন্ধনে থাকে, কারণ তার তাকদিরে যা আছে সে তা পাবেই।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫১৫২]
    তবে স্বামীকে অবশ্যই একাধিক স্ত্রীর মাঝে সময়, রাত্রীযাপন এবং ভরণপোষণের ক্ষেত্রে পূর্ণ ইনসাফ ও সমতা বজায় রাখতে হবে। এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সতর্ক করে বলেছেন:
    مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ
    অর্থ: “যে ব্যক্তির দুজন স্ত্রী আছে কিন্তু সে তাদের একজনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ল (অর্থাৎ বৈষম্য করল), সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠবে যে তার শরীরের একাংশ অবশ বা ঝুলন্ত থাকবে।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২১৩৩; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    (অন্তরের ভালোবাসা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই শুধুমাত্র বাহ্যিক এবং বৈষয়িক সমতা বিধানই স্বামীর ওপর ফরজ)।
    সুতরাং উক্ত ভাইয়ের উচিত প্রথমে স্ত্রীকে কুরআন ও সুন্নাহর ভয় দেখিয়ে সংশোধন করার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে দুই পরিবারের মুরব্বিদের নিয়ে শালিস করা। যদি স্ত্রী এরপরও অবাধ্যতায় অটল থাকে, তবে স্বামী নিজের চরিত্র রক্ষার্থে ইনসাফ করার সামর্থ্য সাপেক্ষে দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারেন অথবা শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী তাকে তালাক দিয়ে একজন দ্বীনদার ও অনুগত নারীকে বিবাহ করতে পারেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less
  7. সন্তানকে দ্বীনের ওপর গড়ে তোলা এবং সালাতে অভ্যস্ত করা পিতা মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলামী শরীয়তে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে সালাতের জন্য নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَRead more

    সন্তানকে দ্বীনের ওপর গড়ে তোলা এবং সালাতে অভ্যস্ত করা পিতা মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলামী শরীয়তে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে সালাতের জন্য নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ
    অর্থ: “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের নির্দেশ দাও। আর যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়, তখন সালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করো (শাসন করো)।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান সহিহ বলেছেন]
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই সুন্নাহ অনুযায়ী সন্তানকে শৈশব থেকেই গড়ে তুললে, পরবর্তীতে তাদের সালাতে অমনোযোগী বা বেনামাজি হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে।
    তবে এরপরও যদি কোনো সন্তান সালাতে অবহেলা করে এবং বারবার বোঝানোর পরও জামাতের সাথে সালাত আদায় না করে, তবে পিতার দায়িত্ব হলো হাল না ছেড়ে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কারণ পিতা হলেন তার পরিবারের দায়িত্বশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    الرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
    অর্থ: “পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক, এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত করা হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯৩]
    এ অবস্থায় পিতার করণীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
    ১. নসিহত ও আখিরাতের ভয় প্রদর্শন: সন্তানকে জাহান্নামের আজাব এবং সালাত তরক করার ভয়াবহ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
    يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
    অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।” [সূরা আত-তাহরীম: ৬]
    ২. সম্পর্ক ছিন্ন না করে হিকমাহর সাথে শাসন: সালাফে সালেহীন এবং সমসাময়িক উলামায়ে কেরাম (যেমন শায়খ ইবনে বাজ ও শায়খ ইবনে উসাইমিন রহ.) এর ফতোয়া অনুযায়ী, সন্তান বেনামাজি হলে তার সাথে তখনই সম্পর্ক ছিন্ন করা (হাজর করা) উচিত নয়, যদি সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে আরও বেশি অবাধ্য বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বরং তাকে কাছে রেখে, বুঝিয়ে এবং হিকমাহর সাথে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শরীয়তে সম্পর্ক ছিন্ন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সংশোধন করা, যদি তা বৃহত্তর ক্ষতির কারণ হয় তবে তা সাময়িকভাবে পরিহার করে নসিহত চালিয়ে যেতে হবে।
    ৩. অবিরাম দোয়া করা: পিতা মাতার দোয়া সন্তানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং তা দ্রুত কবুল হয়। সন্তানের হিদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দোয়া করতে হবে। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদের সালাতে সিজদাহরত অবস্থায় দোয়া করা উত্তম।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
    অর্থ: “বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদাহরত থাকে। সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি দোয়া করো।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২]
    এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
    رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
    অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।” [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪]
    পিতা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারণ করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। হিদায়াত দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এভাবে নিরলস চেষ্টা ও দোয়া অব্যাহত রাখলে আশা করা যায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে দ্বীনের প্রতি অনুরাগী করবেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less
  8. জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় জিহাদ হলো 'ফরজে কিফায়া' বা সামষ্টিক ফরজ। অর্থাৎ, মুসলিমদের মধ্য থেকে একটি দল বা অংশ যদি জিহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দেন, তবে বাকিদের ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউই এই দাযRead more

    জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় জিহাদ হলো ‘ফরজে কিফায়া’ বা সামষ্টিক ফরজ। অর্থাৎ, মুসলিমদের মধ্য থেকে একটি দল বা অংশ যদি জিহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দেন, তবে বাকিদের ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউই এই দায়িত্ব পালন না করে, তবে সক্ষম সকল মুসলিমই ফরজ লঙ্ঘনের কারণে গুনাহগার হবে।
    তবে সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর ফুকাহায়ে কেরামের ঐকমত্যে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অবস্থায় জিহাদ প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের ওপর ‘ফরজে আইন’ বা ব্যক্তিগত ফরজ হয়ে যায়। এই অবস্থাগুলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করা হলো:
    ১. মুসলিম ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে:
    কোনো মুসলিম ভূখণ্ড যদি কাফির বা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন সেই ভূখণ্ড এবং নিজেদের জান, মাল ও দ্বীন রক্ষা করা ঐ অঞ্চলের সকল মুসলিমের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। ইসলামী ফিকহে একে ‘দাফউস সায়িল’ বা আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা বলা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, “আক্রমণকারী শত্রুকে প্রতিহত করার চেয়ে ঈমানের পর অন্য কোনো ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।” [আল ফাতাওয়া আল কুবরা]
    যদি ঐ অঞ্চলের মুসলিমরা তাদের ভূমি রক্ষা করতে সক্ষম না হন, তবে তাদের নিকটবর্তী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মুসলিমদের ওপরও জিহাদ ফরজে আইন হয়। তারাও সক্ষম না হলে তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের ওপর ফরজ হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে শত্রুকে প্রতিহত করা পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর এটি ফরজে আইন হিসেবে বর্তায়।
    ২. দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করার ক্ষেত্রে:
    শত্রুর কবল থেকে দখলকৃত মুসলিম ভূমি উদ্ধার করার জন্যও জিহাদ ফরজে আইন। যতদিন পর্যন্ত না সেই ভূমি সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়, এই ফরজ দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে মুসলিম উম্মাহর ওপর বহাল থাকে।
    ৩. নির্যাতিত মুসলিমদের সাহায্যার্থে:
    যদি কোনো মুসলিম ভাই বোনেরা শত্রু কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে অন্য মুসলিমদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তখন তাদেরকে উদ্ধার করা নিকটবর্তী মুসলিমদের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। তারা সক্ষম না হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মুসলিমদের ওপর তা ফরজ হয়।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদেরকে এই নির্দেশ দিয়ে বলেন:
    وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ
    অর্থ: “তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের রক্ষার্থে যুদ্ধ করছ না?” [সূরা আন-নিসা: ৭৫]
    অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
    وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ
    অর্থ: “তবে তারা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তবে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য।” [সূরা আল-আনফাল: ৭২]
    উম্মাহর এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
    مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى
    অর্থ: “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দৃষ্টান্ত একটি দেহের ন্যায়। যখন তার কোনো একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন গোটা দেহ জ্বর ও অনিদ্রায় ভুগে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৬]
    যে অবস্থায় জিহাদ ফরজে কিফায়া থাকে, তখনও প্রতিটি মুসলিমকে অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় হাদিসের ভাষ্যমতে তার মাঝে মুনাফেকির শাখা থেকে যায়। আর জিহাদ যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি মহান ফরজ ইবাদত, এই দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা সকল সক্ষম মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। যারা জিহাদকে ফরজ ইবাদত হিসেবে স্বীকার করে না বা অস্বীকার করে, তারা আল্লাহর একটি অকাট্য বিধান লঙ্ঘনের কারণে ভয়াবহ অপরাধী হিসেবে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

    See less
  9. যেকোনো অ্যাপ (যেমন: সেলফ অ্যাপ) বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করাটা মূলত কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ইসলামী শরীয়তের একটি সুপরিচিত ফিকহি মূলনীতি হলো, মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো তা মুবাহ বা বৈধ, যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়। তাই সেলRead more

    যেকোনো অ্যাপ (যেমন: সেলফ অ্যাপ) বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করাটা মূলত কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে। ইসলামী শরীয়তের একটি সুপরিচিত ফিকহি মূলনীতি হলো, মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো তা মুবাহ বা বৈধ, যতক্ষণ না তা হারাম হওয়ার সুস্পষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়।
    তাই সেলফ অ্যাপ বা এই জাতীয় প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আপনার পার্ট টাইম কাজ ও ইনকাম হালাল হওয়ার জন্য নিম্নের শর্তগুলো পূরণ হওয়া আবশ্যক:
    ১. কাজের ধরন হালাল হওয়া: আপনি অ্যাপটিতে যে কাজটি করবেন (যেমন: রিসেলিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা প্রমোশন), তা শরীয়তসম্মত হতে হবে। যদি সেখানে কোনো হারাম পণ্য (যেমন: গানবাদ্য, অশ্লীলতা, হারাম বা ক্ষতিকর কোনো বস্তু) বিক্রি বা প্রমোশন করতে হয়, তবে তা থেকে অর্জিত আয় হারাম হবে।
    ২. হারাম কাজে সহযোগিতা না করা: কোনো হারাম পণ্যের প্রচারে বা অবৈধ কাজে পরোক্ষভাবেও সহযোগিতা করা যাবে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
    অর্থ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২]
    ৩. ধোঁকা বা গারার না থাকা: কাজের বিবরণ, পারিশ্রমিক এবং লেনদেন একদম সুস্পষ্ট হতে হবে। এতে কোনো ধরনের ধোঁকা, প্রতারণা বা অস্পষ্টতা (গারার) থাকা যাবে না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي
    অর্থ: “যে প্রতারণা করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১]
    ৪. এমএলএম (MLM) বা পিরামিড স্কিম না হওয়া: অ্যাপটির আয়ের উৎস যদি এমন হয় যে, শুধু টাকার বিনিময়ে নতুন সদস্য যুক্ত করার মাধ্যমেই কমিশন পাওয়া যায় (যেখানে বাস্তব ও হালাল কোনো পণ্যের স্বাভাবিক লেনদেন মূল উদ্দেশ্য নয়), তবে তা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যা অধিকাংশ সালাফি উলামায়ে কেরাম এবং ইসলামিক ফিকহ একাডেমির বিশুদ্ধ ফতোয়া অনুযায়ী নাজায়েজ।
    তবে যদি এটি সরাসরি শরীয়তসম্মত পণ্যের রিসেলিং হয় এবং হালাল পণ্য বিক্রয়ের ওপর আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়া হয়, তবে তা ইসলামে ‘দালালি’ বা ব্রোকারেজ হিসেবে গণ্য হবে, যা শর্তসাপেক্ষে জায়েজ।
    সারসংক্ষেপ হলো,অ্যাপটির আয়ের মাধ্যম, কাজের প্রকৃতি এবং লেনদেন যদি সম্পূর্ণ বৈধ হয় এবং হারাম কোনো কাজের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে সেখান থেকে ইনকাম করা হালাল হবে। আর যদি তাতে হারাম বা প্রতারণার কোনো সংমিশ্রণ থাকে, তবে তা বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল রিজিক অন্বেষণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  10. আপনার প্রশ্নে মূলত দুটি ভিন্ন বিষয় রয়েছে। প্রথম অংশ: একসাথে তিন তালাক দেওয়ার বিধান ইসলামী শরীয়তে একসাথে একই মজলিসে তিন তালাক দেওয়া বিদআত এবং এটি একটি হারাম কাজ। কেউ যদি অজ্ঞতাবশত বা রাগের বশবর্তী হয়ে এমনটি করে, তবে বিশুদ্ধ মত এবং সালাফি উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী তা এক তালাক বা 'তালাকে রRead more

    আপনার প্রশ্নে মূলত দুটি ভিন্ন বিষয় রয়েছে।
    প্রথম অংশ: একসাথে তিন তালাক দেওয়ার বিধান
    ইসলামী শরীয়তে একসাথে একই মজলিসে তিন তালাক দেওয়া বিদআত এবং এটি একটি হারাম কাজ। কেউ যদি অজ্ঞতাবশত বা রাগের বশবর্তী হয়ে এমনটি করে, তবে বিশুদ্ধ মত এবং সালাফি উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী তা এক তালাক বা ‘তালাকে রাজয়ী’ (প্রত্যাহারযোগ্য তালাক) হিসেবে গণ্য হবে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে একসাথে তিন তালাক দেওয়াকে অত্যন্ত গর্হিত কাজ মনে করা হতো। মাহমুদ ইবনে লাবীদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
    أُخْبِرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلَاثَ تَطْلِيقَاتٍ جَمِيعًا فَقَامَ غَضْبَانًا ثُمَّ قَالَ أَيُلْعَبُ بِكِتَابِ اللَّهِ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ
    অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জানানো হলো, যে তার স্ত্রীকে একসাথে তিন তালাক দিয়েছে। তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, আমি তোমাদের মাঝে জীবিত থাকতেই কি আল্লাহর কিতাব নিয়ে খেলা করা হচ্ছে? এমনকি এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে হত্যা করব?” [সুনান আন-নাসায়ী, হাদিস: ৩৪০১; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    একসাথে দেওয়া তিন তালাক যে এক তালাক হিসেবেই গণ্য হয়, তার অকাট্য দলিল হলো আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিস। তিনি বলেন:
    كَانَ الطَّلاَقُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَسَنَتَيْنِ مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ طَلاَقُ الثَّلاَثِ وَاحِدَةً
    অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে, আবু বকর (রা.) এর যুগে এবং উমর (রা.) এর খিলাফাতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত একসাথে দেওয়া তিন তালাক এক তালাক হিসেবেই গণ্য হতো।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭২]
    পরবর্তীতে মানুষ যখন এই ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন শুরু করল এবং একসাথে তিন তালাক দেওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দিল, তখন খলিফা উমর (রা.) মানুষের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তাযির) হিসেবে এটিকে তিন তালাক হিসেবে প্রয়োগ করার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে শরিয়তের মূল বিধান হলো এটি এক তালাক হিসেবেই ধর্তব্য হবে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.), ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) সহ সমসাময়িক অধিকাংশ বড় উলামায়ে কেরামের ফতোয়া এটিই।

    সুন্নাহসম্মত তালাকের পদ্ধতি:
    তালাক দেওয়ার সুন্নাহ পদ্ধতি হলো, স্ত্রীর এমন পবিত্র অবস্থায় (তুহুর) তাকে কেবল এক তালাক দেওয়া, যে পবিত্র অবস্থায় স্বামীর সাথে তার কোনো শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়নি। এরপর স্ত্রী তার স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত হলো স্ত্রীর তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব (পিরিয়ড) পার হওয়া। এই ইদ্দত চলাকালীন যেকোনো সময় স্বামী চাইলে স্ত্রীকে মৌখিক বা শারীরিকভাবে ফিরিয়ে নিতে (রুজু করতে) পারবে।
    যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায় এবং স্বামী রুজু না করে, তবে স্ত্রী ‘বাইন’ তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে। তখন সে মুক্ত এবং চাইলে অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবে। আর যদি প্রথম স্বামী-স্ত্রী উভয়ে আবার একসাথে সংসার করতে রাজি হয়, তবে তারা নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে পুনরায় বিবাহ (আকদ) করতে পারবে।
    কিন্তু স্বামী যদি তিন ধাপে (আলাদা আলাদা তিনটি পবিত্র অবস্থায়) তিনবার তালাক দেয়, তবে স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে (তালাকে মুগাল্লাযাহ)। এরপর সে স্ত্রী অন্য কোথাও স্বাভাবিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যদি কখনো স্বামী মারা যায় বা তালাকপ্রাপ্ত হয়, কেবল তখনই সে পূর্বের স্বামীর জন্য হালাল হতে পারে। পূর্বপরিকল্পিত চুক্তিভিত্তিক বিবাহ বা ‘হালালা’ শরীয়তে সম্পূর্ণ হারাম এবং অভিশপ্ত।

    দ্বিতীয় অংশ: রাগ করে বাবার বাড়ি যেতে বলা
    ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, রাগ করে স্ত্রীকে “বাবার বাড়ি চলে যাও” বা “তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও” বলাটা তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ (সরিহ) নয়, বরং এটি তালাকের ইঙ্গিতবহ শব্দ (কিনায়াহ)।
    ইঙ্গিতবহ শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়া বা না হওয়া সম্পূর্ণ নির্ভর করে স্বামীর নিয়তের ওপর।
    ১. স্বামী যদি “বাবার বাড়ি চলে যাও” বলার সময় মনে মনে তালাক দেওয়ার নিয়ত করে থাকে, তবে এক তালাক (রাজয়ী) পতিত হবে।
    ২. আর যদি সে তালাকের নিয়ত না করে কেবল রাগ সামলাতে, ধমক দিতে বা কিছুদিনের জন্য তাকে বাবার বাড়িতে পাঠাতে চেয়ে এই কথা বলে থাকে, তবে এর দ্বারা কোনো তালাক হবে না।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কাব ইবনে মালিক (রা.) কে তার স্ত্রীর কাছ থেকে সাময়িক আলাদা থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন কাব (রা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আমি কি তাকে তালাক দেব?” নবীজি বললেন, “না, তুমি কেবল তার থেকে আলাদা থাকো।” তখন কাব (রা.) তার স্ত্রীকে বলেছিলেন, “الحقي بأهلك” (তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও)। যেহেতু কাব (রা.) এর তালাকের নিয়ত ছিল না, তাই সেখানে কোনো তালাক পতিত হয়নি। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]
    সুতরাং, এ ক্ষেত্রে স্বামীর নিয়ত কী ছিল, তার ভিত্তিতেই ফয়সালা হবে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less