সূরা ফাতিহায় “ওয়ালাদ দল্লিন” হবে নাকি “যল্লিন”? দু’টি উচ্চারণের সহিহ্ কোনটি?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত ‘আল-মাগদুব’ (المغضوب) এবং ‘আদ-দোয়াল্লিন’ (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো ‘ض’ (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণস্থান) এবং ‘সিফাত’ (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে।
‘ض’ (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি হরফ। এর মাখরাজ হলো জিহ্বার গোড়ার কিনারা এবং ওপরের মাড়ির দাঁত। বাংলা ভাষায় এমন কোনো বর্ণ নেই, যা দিয়ে ‘ض’ (দোয়াদ) হরফটির সঠিক উচ্চারণ হুবহু লিখে বোঝানো সম্ভব।
এটি খাঁটি ‘দ’ (দাল) নয়, আবার খাঁটি ‘য’ বা ‘জ’ (যা বা যোয়া) ও নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই বাংলা উচ্চারণ দেখে এটিকে ‘যল্লিন’ বা ‘জয়াল্লিন’ পড়ে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। যদি কেউ এটিকে সম্পূর্ণ ‘য’ এর মতো উচ্চারণ করেন, তবে তা ‘ظ’ (যোয়া) হরফে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এর ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে এবং সালাত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। কারণ, আরবিতে ‘দোয়াল্লিন’ (ضالين) অর্থ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, আর ‘যোয়াল্লিন’ (ظالين) অর্থ ছায়া করা বা কোনো কাজে সারাদিন লিপ্ত থাকা।
সুতরাং, এটি ‘দল্লিন’ বা ‘যল্লিন’ কোনোটিই নয়। এটি বাংলা অক্ষর দেখে শেখার বিষয়ও নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনুল কারীমকে তারতীল বা সঠিক উচ্চারণের সাথে তিলাওয়াত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অর্থ: “আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীর স্থির ও সুষমামণ্ডিতভাবে (তাজবীদের সাথে)।” [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪]
তাই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হলো, কোনো বিজ্ঞ ক্কারী বা সহিহ তিলাওয়াতকারী উস্তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি মুখে মুখে আরবি হরফগুলোর মাখরাজ ও উচ্চারণ শিখে নেওয়া। কেবল বাংলা উচ্চারণ দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।