যারা জিহাদ সম্পর্কে অবগত নয় (সাধারণ মানুষ) তাদের উপরও কি জিহাদ ফরজ?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত এবং এটি ইসলামের চূড়া (সনামুল ইসলাম)। একজন মুসলিম সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, জিহাদ সম্পর্কে অবগত না থাকাটা তার জন্য ইবাদত থেকে দূরে থাকার কোনো শরয়ি অজুহাত হতে পারে না। কারণ, যে ইবাদতগুলো পালন করা ফরজ, সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। জিহাদ মূলত সক্ষম সকল মুসলিমের উপর তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ। অবস্থার প্রেক্ষিতে এটি কখনো ফরজে আইন (ব্যক্তিগতভাবে ফরজ) আবার কখনো ফরজে কিফায়া (সামষ্টিকভাবে ফরজ) হয়। তবে সার্বিকভাবে সকল মুসলিমকেই কোনো না কোনোভাবে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। সশস্ত্র জিহাদে হয়তো সকলে সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, জিহাদ শুধুমাত্র সরাসরি যুদ্ধ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। কেউ নিজের জান দিয়ে জিহাদ করবে, কেউ নিজের সম্পদ দিয়ে, কেউ মুজাহিদদের পরিবারের বিশ্বস্ততার সাথে দেখাশোনা করার মাধ্যমে, কেউ মুজাহিদদের অস্ত্র, পোশাক, খাদ্য, যানবাহন, তথ্য ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে, আবার কেউ নিজের লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই মহান ইবাদতে অংশ নিবে।
এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন:
انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
অর্থ: তোমরা হালকা ও ভারী সকল অবস্থায় বেরিয়ে পড় এবং তোমাদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। [সূরা আত-তাওবাহ: ৪১]
সম্পদ এবং জবানের জিহাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন:
جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ
অর্থ: তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, জীবন এবং জবান দ্বারা জিহাদ করো। [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৫০৪; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
যারা সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হতে পারে না, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا، وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا
অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো গাজীকে (মুজাহিদকে) যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো গাজীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের ভালোমতো দেখাশোনা করল, সেও যেন যুদ্ধ করল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৪৩ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৫]
অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা রাখার অপরিহার্যতার প্রমাণস্বরূপ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ نَفْسَهُ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, অথচ সে কোনোদিন জিহাদ করল না এবং নিজের অন্তরেও জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করল না, সে যেন মুনাফেকির একটি শাখার উপর মৃত্যুবরণ করল। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০ / ইসলামিক ফাউন্ডেশন নম্বর: ৪৭৭৮]
অর্থাৎ যেকোনো উপায়ে, জান, মাল, জবান বা অন্তত অন্তরের মজবুত সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে জিহাদের পক্ষে নিজেকে নিয়োজিত রাখা সকল মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।