ইদাদের প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে আইয়্যামে বীজের সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভূমিকা থাকে। অথবা যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা যাদেরকে ইদাদে অংশগ্রহণ করাতে চান, তাদের বীজের সিয়াম পালনের সুবিধার্থে ঐদিনগুলো বাদ দিয়ে প্রোগ্রাম করলে ভাল হয়। আর যদি প্রোগ্রাম দীর্ঘদিনের হয় তাহলে,Read more
ইদাদের প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে আইয়্যামে বীজের সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভূমিকা থাকে। অথবা যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা যাদেরকে ইদাদে অংশগ্রহণ করাতে চান, তাদের বীজের সিয়াম পালনের সুবিধার্থে ঐদিনগুলো বাদ দিয়ে প্রোগ্রাম করলে ভাল হয়। আর যদি প্রোগ্রাম দীর্ঘদিনের হয় তাহলে, বীজের রোজা ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো। কারণ বীজ নফল ইবাদত আর ইদাদ ফরজ ইবাদত।
وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। (সূরা আনফাল ৮: ৬০)
ত্বগুত হলো আল্লাহর প্রতিপক্ষ শক্তি। মানুষ ও জ্বীনদের মধ্য থেকে যারা নিজেদেরকে ইলাহের আসনে বসায় এরাই ত্বগুত এবং এরাই শয়তান। আল্লাহ মানব জাতির জন্যে বিধান দিয়েছেন এবং এই মানুষ ও জ্বীন ত্বগুত শয়তান আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজেরা বিধান রচনা করে বা অন্য মানুষের রচিত বিধান মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করেRead more
ত্বগুত হলো আল্লাহর প্রতিপক্ষ শক্তি। মানুষ ও জ্বীনদের মধ্য থেকে যারা নিজেদেরকে ইলাহের আসনে বসায় এরাই ত্বগুত এবং এরাই শয়তান। আল্লাহ মানব জাতির জন্যে বিধান দিয়েছেন এবং এই মানুষ ও জ্বীন ত্বগুত শয়তান আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজেরা বিধান রচনা করে বা অন্য মানুষের রচিত বিধান মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করে। আর কাফির হল যারা আল্লাহর বিধান মেনে চলতে অস্বীকার করে। এজন্য এরা কাফির, কিন্তু কুফরী করতে তারা অন্যকে বাধ্য করে না বা করতে পারে না। তাই ব্যক্তিগতভাবে একজন কাফিরের চেয়ে ত্বগুতের প্রতিটি সদস্য, সবচেয়ে বেশি অপরাধী। কারণ এরা হল মানুষরূপী শয়তান। শয়তান যেই ভাবে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সকল প্রকার তৎপরতা চালায়। তেমনিভাবে মানুষরূপী এই ত্বগুত শয়তানরাও মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সকল প্রকারের কূটকৌশল অবলম্বন করে। এমনকি তার গোলামী না করলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হলেও , শয়তানের গোলামী করতে বাধ্য করে। এজন্য ত্বগুত শয়তানই হলো সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। কাফিরদের চেয়েও জঘন্যতম অপরাধী।
মহান আল্লাহ বলেন,
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ.
‘‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান। আর যারা কুফরী করেছে তাদের অভিভাবক তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।’’
(সূরা বাকারা, ২৫৭ আয়াত)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا.
‘‘যারা ঈমানদার তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। আর যারা কুফরী করেছে তারা তাগূতের পথে যুদ্ধ করে। অতএব তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল।’’ (সূরা নিসা, ৭৬ আয়াত)
মাসজিদের ইমাম যদি মুশরিক না হন অথবা শরীয়তের কোনো শর্ত অনুযায়ী ইমামতির অযোগ্য না হন তাহলে এমন মাসজিদে জামাআতে নামায পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। মাসজিদে ত্বগুত বা দাজ্জাল সম্পর্কে কথা বলা যায়না শুধু এই কারণেই জামাআতে সালাত বর্জন করা যাবে না। কারণ জামাআতে সালাতের গুরুত্ব হাদীসে বর্ণিত আছে। আব্দুল্Read more
মাসজিদের ইমাম যদি মুশরিক না হন অথবা শরীয়তের কোনো শর্ত অনুযায়ী ইমামতির অযোগ্য না হন তাহলে এমন মাসজিদে জামাআতে নামায পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। মাসজিদে ত্বগুত বা দাজ্জাল সম্পর্কে কথা বলা যায়না শুধু এই কারণেই জামাআতে সালাত বর্জন করা যাবে না। কারণ জামাআতে সালাতের গুরুত্ব হাদীসে বর্ণিত আছে।
আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«صَلاَةُ الْـجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ دَرَجَةً».
“জামা‘আতে সালাত পড়া একা সালাত আদায়ের চাইতে সাতাশ গুণ বেশি উত্তম”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫০)
অপর হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ وَرَاحَ أَعَدَّ اللهُ لَهُ نُزُلَهُ مِنَ الْجَنَّةِ كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ–
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন’।
(বুখারী হা/৬৬২; মুসলিম হা/৬৬৯; মিশকাত হা/৬৯৮।)
কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার যে পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তা মূলত একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। মূর্তি সংস্কৃতিকে সহনীয় করার জন্যে এবং গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্যে এটা মূর্তি পূজারীদের একটি অপকৌশল। বাচ্চাদের ছোট মনে কার্টুনের মাধ্যমে মূর্তির গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারলে বড় হয়ে তারা মূর্তিপূজারী মRead more
কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার যে পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তা মূলত একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। মূর্তি সংস্কৃতিকে সহনীয় করার জন্যে এবং গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্যে এটা মূর্তি পূজারীদের একটি অপকৌশল। বাচ্চাদের ছোট মনে কার্টুনের মাধ্যমে মূর্তির গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারলে বড় হয়ে তারা মূর্তিপূজারী মুশরিকদের দেব-দেবীগুলিকেও কার্টুনের সাথে সাদৃশ্যশীল মনে করে। মূর্তি- সংস্কৃতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে। মূর্তিপূজারীদের অনেক মূর্তি কার্টুন সদৃশ। তাই এ ধরণের কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা দেয়া যাবে না। প্রাণীর ছবি আকার-আকৃতি যে নামই দেয়া হোক না কেন তা রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিষিদ্ধ করেছেন। বাচ্চাদেরকে আক্বীদাহগতভাবে মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইসলামের দিকনির্দেশনা ও স্মৃতিচিহ্ন গুলো যা অবিকৃত সংরক্ষিত আছে এবং ইসলামের সৌর্যবীর্য প্রমাণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী গল্প আকারে সহজ ভাষায় রচনা করে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দিলে ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা যায়।
মহান আল্লাহ বলেছেন,
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ۗ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ.
তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ, হেদায়েত ও রহমত রয়েছে। (সূরা ইউসূফ আয়াত : ১১১)
সালাত না পড়া এবং নেশা করা এটা তার আমলের ত্রুটি। তাদের টাকায় কেনা খাবার খাওয়া জায়েজ। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সূদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমাRead more
সালাত না পড়া এবং নেশা করা এটা তার আমলের ত্রুটি। তাদের টাকায় কেনা খাবার খাওয়া জায়েজ।
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সূদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়।
এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে পতিত হবে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১৪৬৭৫, ইমাম আহমাদ আছারটি ‘ছহীহ’ বলেছেন; ইবনু রজব হাম্বলী, জামেঊল উলূম ওয়াল হিকাম (বৈরূত : ১৪২২/২ ০০১) ২০১ পৃ.)।
রাসূল (ছাঃ) ইহূদীর বাড়ীতে দাওয়াত খেয়েছেন ও তাদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন ।
তবে বিরত থাকা উত্তম। কেননা সে দুটি বড় ধরনের পাপে লিপ্ত। অথচ লাল কাপড় পরিহিত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-কে সালাম প্রদান করলে তিনি সালামের জওয়াব দেননি। কারণ তিনি লাল কাপড় পরিধান করা পুরুষদের জন্য পসন্দ করতেন না (হাকেম হা/৭৩৯৯; ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/১৩৫০, সনদ ছহীহ)।
প্রশ্ন নং ০৭ ‣ ইদাদ ও আইয়ামে বীজের সিয়ামের মধ্যে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ?
ইদাদের প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে আইয়্যামে বীজের সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভূমিকা থাকে। অথবা যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা যাদেরকে ইদাদে অংশগ্রহণ করাতে চান, তাদের বীজের সিয়াম পালনের সুবিধার্থে ঐদিনগুলো বাদ দিয়ে প্রোগ্রাম করলে ভাল হয়। আর যদি প্রোগ্রাম দীর্ঘদিনের হয় তাহলে,Read more
ইদাদের প্রোগ্রাম করার ব্যাপারে আইয়্যামে বীজের সিয়াম পালনকারী ব্যক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কোনো ভূমিকা থাকে। অথবা যারা সিদ্ধান্ত নেন তারা যাদেরকে ইদাদে অংশগ্রহণ করাতে চান, তাদের বীজের সিয়াম পালনের সুবিধার্থে ঐদিনগুলো বাদ দিয়ে প্রোগ্রাম করলে ভাল হয়। আর যদি প্রোগ্রাম দীর্ঘদিনের হয় তাহলে, বীজের রোজা ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো। কারণ বীজ নফল ইবাদত আর ইদাদ ফরজ ইবাদত।
See lessوَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ وَمِن رِّبَاطِ الْخَيْلِ تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِن دُونِهِمْ لَا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِن شَيْءٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না। (সূরা আনফাল ৮: ৬০)
প্রশ্ন নং ০৮ ‣ ত্বগুত আর কাফিরের মধ্যে পার্থক্য কি কি? কে বড় অপরাধী?
ত্বগুত হলো আল্লাহর প্রতিপক্ষ শক্তি। মানুষ ও জ্বীনদের মধ্য থেকে যারা নিজেদেরকে ইলাহের আসনে বসায় এরাই ত্বগুত এবং এরাই শয়তান। আল্লাহ মানব জাতির জন্যে বিধান দিয়েছেন এবং এই মানুষ ও জ্বীন ত্বগুত শয়তান আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজেরা বিধান রচনা করে বা অন্য মানুষের রচিত বিধান মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করেRead more
ত্বগুত হলো আল্লাহর প্রতিপক্ষ শক্তি। মানুষ ও জ্বীনদের মধ্য থেকে যারা নিজেদেরকে ইলাহের আসনে বসায় এরাই ত্বগুত এবং এরাই শয়তান। আল্লাহ মানব জাতির জন্যে বিধান দিয়েছেন এবং এই মানুষ ও জ্বীন ত্বগুত শয়তান আল্লাহর বিধানের পরিবর্তে নিজেরা বিধান রচনা করে বা অন্য মানুষের রচিত বিধান মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করে। আর কাফির হল যারা আল্লাহর বিধান মেনে চলতে অস্বীকার করে। এজন্য এরা কাফির, কিন্তু কুফরী করতে তারা অন্যকে বাধ্য করে না বা করতে পারে না। তাই ব্যক্তিগতভাবে একজন কাফিরের চেয়ে ত্বগুতের প্রতিটি সদস্য, সবচেয়ে বেশি অপরাধী। কারণ এরা হল মানুষরূপী শয়তান। শয়তান যেই ভাবে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সকল প্রকার তৎপরতা চালায়। তেমনিভাবে মানুষরূপী এই ত্বগুত শয়তানরাও মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সকল প্রকারের কূটকৌশল অবলম্বন করে। এমনকি তার গোলামী না করলে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হলেও , শয়তানের গোলামী করতে বাধ্য করে। এজন্য ত্বগুত শয়তানই হলো সৃষ্টিকুলের মধ্যে নিকৃষ্টতম সৃষ্টি। কাফিরদের চেয়েও জঘন্যতম অপরাধী।
See lessমহান আল্লাহ বলেন,
اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُمْ مِنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ.
‘‘যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোতে নিয়ে যান। আর যারা কুফরী করেছে তাদের অভিভাবক তাগূত। তারা তাদেরকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যায়।’’
(সূরা বাকারা, ২৫৭ আয়াত)
অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:
الَّذِينَ آمَنُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُوا أَوْلِيَاءَ الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا.
‘‘যারা ঈমানদার তারা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। আর যারা কুফরী করেছে তারা তাগূতের পথে যুদ্ধ করে। অতএব তোমরা শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল।’’ (সূরা নিসা, ৭৬ আয়াত)
প্রশ্ন নং ০৯ ‣ তাগুতের বিরুদ্ধে হক কথা বলা যায় না এমন মসজিদে সালাত আদায় করা যাবে কি?
মাসজিদের ইমাম যদি মুশরিক না হন অথবা শরীয়তের কোনো শর্ত অনুযায়ী ইমামতির অযোগ্য না হন তাহলে এমন মাসজিদে জামাআতে নামায পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। মাসজিদে ত্বগুত বা দাজ্জাল সম্পর্কে কথা বলা যায়না শুধু এই কারণেই জামাআতে সালাত বর্জন করা যাবে না। কারণ জামাআতে সালাতের গুরুত্ব হাদীসে বর্ণিত আছে। আব্দুল্Read more
মাসজিদের ইমাম যদি মুশরিক না হন অথবা শরীয়তের কোনো শর্ত অনুযায়ী ইমামতির অযোগ্য না হন তাহলে এমন মাসজিদে জামাআতে নামায পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। মাসজিদে ত্বগুত বা দাজ্জাল সম্পর্কে কথা বলা যায়না শুধু এই কারণেই জামাআতে সালাত বর্জন করা যাবে না। কারণ জামাআতে সালাতের গুরুত্ব হাদীসে বর্ণিত আছে।
See lessআব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«صَلاَةُ الْـجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِيْنَ دَرَجَةً».
“জামা‘আতে সালাত পড়া একা সালাত আদায়ের চাইতে সাতাশ গুণ বেশি উত্তম”। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৬৫০)
অপর হাদিসে এসেছে,
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ وَرَاحَ أَعَدَّ اللهُ لَهُ نُزُلَهُ مِنَ الْجَنَّةِ كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ–
আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করে রাখেন’।
(বুখারী হা/৬৬২; মুসলিম হা/৬৬৯; মিশকাত হা/৬৯৮।)
প্রশ্ন নং ১০ ‣ ইসলাম শেখানোর উদ্দেশ্যে কার্টুন বানানো কি জায়েজ?
কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার যে পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তা মূলত একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। মূর্তি সংস্কৃতিকে সহনীয় করার জন্যে এবং গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্যে এটা মূর্তি পূজারীদের একটি অপকৌশল। বাচ্চাদের ছোট মনে কার্টুনের মাধ্যমে মূর্তির গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারলে বড় হয়ে তারা মূর্তিপূজারী মRead more
কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার যে পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে তা মূলত একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন। মূর্তি সংস্কৃতিকে সহনীয় করার জন্যে এবং গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার জন্যে এটা মূর্তি পূজারীদের একটি অপকৌশল। বাচ্চাদের ছোট মনে কার্টুনের মাধ্যমে মূর্তির গ্রহণযোগ্যতা দিতে পারলে বড় হয়ে তারা মূর্তিপূজারী মুশরিকদের দেব-দেবীগুলিকেও কার্টুনের সাথে সাদৃশ্যশীল মনে করে। মূর্তি- সংস্কৃতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে। মূর্তিপূজারীদের অনেক মূর্তি কার্টুন সদৃশ। তাই এ ধরণের কার্টুনের মাধ্যমে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতা দেয়া যাবে না। প্রাণীর ছবি আকার-আকৃতি যে নামই দেয়া হোক না কেন তা রসূলুল্লাহ (সাঃ) নিষিদ্ধ করেছেন। বাচ্চাদেরকে আক্বীদাহগতভাবে মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা প্রয়োজন। ইসলামের দিকনির্দেশনা ও স্মৃতিচিহ্ন গুলো যা অবিকৃত সংরক্ষিত আছে এবং ইসলামের সৌর্যবীর্য প্রমাণিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী গল্প আকারে সহজ ভাষায় রচনা করে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা দিলে ইসলামী সংস্কৃতির প্রতি বাচ্চাদের আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা যায়।
See lessমহান আল্লাহ বলেছেন,
لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ۗ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَىٰ وَلَٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ.
তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ, হেদায়েত ও রহমত রয়েছে। (সূরা ইউসূফ আয়াত : ১১১)
প্রশ্ন নং ১১ ‣ বেনামাজি নেশাখোর ব্যক্তির টাকায় কেনা খাবার খাওয়া কি জায়েজ?
সালাত না পড়া এবং নেশা করা এটা তার আমলের ত্রুটি। তাদের টাকায় কেনা খাবার খাওয়া জায়েজ। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সূদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়। এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমাRead more
সালাত না পড়া এবং নেশা করা এটা তার আমলের ত্রুটি। তাদের টাকায় কেনা খাবার খাওয়া জায়েজ।
See lessআব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তার নিকটে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, আমার একজন প্রতিবেশী আছে যে সূদ খায় এবং সর্বদা আমাকে তার বাড়িতে খাওয়ার জন্য দাওয়াত দেয়।
এক্ষণে আমি তার দাওয়াত কবুল করব কি? জওয়াবে তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটি বিনা কষ্টের অর্জন এবং এর গোনাহ তার উপরে পতিত হবে’ (মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক হা/১৪৬৭৫, ইমাম আহমাদ আছারটি ‘ছহীহ’ বলেছেন; ইবনু রজব হাম্বলী, জামেঊল উলূম ওয়াল হিকাম (বৈরূত : ১৪২২/২ ০০১) ২০১ পৃ.)।
রাসূল (ছাঃ) ইহূদীর বাড়ীতে দাওয়াত খেয়েছেন ও তাদের হাদিয়া গ্রহণ করেছেন ।
তবে বিরত থাকা উত্তম। কেননা সে দুটি বড় ধরনের পাপে লিপ্ত। অথচ লাল কাপড় পরিহিত জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-কে সালাম প্রদান করলে তিনি সালামের জওয়াব দেননি। কারণ তিনি লাল কাপড় পরিধান করা পুরুষদের জন্য পসন্দ করতেন না (হাকেম হা/৭৩৯৯; ত্বাবারাণী আওসাত্ব হা/১৩৫০, সনদ ছহীহ)।