Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Sign In

মাকতাবাতুল ফিকহ

মাকতাবাতুল ফিকহ Logo মাকতাবাতুল ফিকহ Logo

মাকতাবাতুল ফিকহ Navigation

  • Home
  • All Questions

Mobile menu

Close
  • Home
  • All Questions
  • Login
  • Signup
  • Recent Questions
  • Answers
  • Most Visited
  • Random
  • Followed Questions
  1. Asked: April 17, 2026In: তাফসীর

    প্রশ্ন নং ৪৩ ‣ জান্নাতীদের ১২ টি গুণ কি কি?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 17, 2026 at 10:40 am

    কুরআনুল কারীমের সূরা আল-মুমিনূন এর ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী মুমিনদের মৌলিক গুণাবলির কথা বর্ণনা করেছেন। সালাফে সালেহীনদের তাফসীর (যেমন তাফসীর ইবনে কাসীর) অনুযায়ী সূরা আল-মুমিনূন এবং সূরা আল-ফুরকানে বর্ণিত 'ইবাদুর রহমান'দের বৈশRead more

    কুরআনুল কারীমের সূরা আল-মুমিনূন এর ১ থেকে ১১ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী মুমিনদের মৌলিক গুণাবলির কথা বর্ণনা করেছেন। সালাফে সালেহীনদের তাফসীর (যেমন তাফসীর ইবনে কাসীর) অনুযায়ী সূরা আল-মুমিনূন এবং সূরা আল-ফুরকানে বর্ণিত ‘ইবাদুর রহমান’দের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে জান্নাতীদের ১২টি প্রধান গুণ উল্লেখ করা হয়েছে।
    আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সফলতার ঘোষণা দিয়ে বলেন:
    قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে।” [সূরা আল-মুমিনূন: ১]

    এরপর জান্নাতী মুমিনদের গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে:

    ১. সালাতে খুশু-খুজু বা বিনয়াবনত থাকা:
    (الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ)
    যারা তাদের সালাতে বিনয়াবনত। সালাতে একাগ্রতা, আল্লাহর ভয় এবং স্থিরতা বজায় রাখা জান্নাতীদের অন্যতম প্রধান গুণ।

    ২. অনর্থক কাজ ও কথা থেকে বিরত থাকা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ)
    যারা অনর্থক ও অসার কাজকর্ম বা কথাবার্তা থেকে বিরত থাকে। অর্থাৎ শিরক, পাপাচার এবং যেসব কথা ও কাজে দুনিয়া বা আখিরাতের কোনো ফায়দা নেই, তারা তা এড়িয়ে চলে।

    ৩. যাকাত আদায় করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ)
    যারা যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে সক্রিয়। এখানে মালের যাকাত এবং আত্মার পরিশুদ্ধি উভয়টিই উদ্দেশ্য।

    ৪. লজ্জাস্থানের হিফাজত করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ)
    যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। অর্থাৎ তারা ব্যভিচার এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে নিজেদের পবিত্র রাখে।

    ৫. কেবল বৈধ সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা:
    (إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ)
    তারা কেবল তাদের স্ত্রী ও অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথেই সম্পর্ক রাখে, এতে তারা নিন্দনীয় হবে না। অর্থাৎ তারা শরিয়ত অনুমোদিত হালাল পন্থায় নিজেদের চাহিদা পূরণ করে এবং এর বাইরে কোনো অবৈধ পথ খোঁজে না।

    ৬. আমানত রক্ষা করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ)
    যারা তাদের আমানতসমূহ বিশ্বস্ততার সাথে রক্ষা করে। এটি আল্লাহর হক এবং বান্দার হক উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

    ৭. প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা:
    তারা তাদের অঙ্গীকার ও চুক্তি নিষ্ঠার সাথে পালন করে। কারো সাথে ওয়াদা করলে তারা তা ভঙ্গ করে না।

    ৮. সালাতের পূর্ণ হিফাজত করা:
    (وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ)
    এবং যারা তাদের সালাতসমূহের যথাযথ হিফাজত করে। অর্থাৎ তারা সঠিক ওয়াক্তে, সঠিক নিয়মে, রুকু-সাজদাহ পূর্ণ করে এবং জামাতের সাথে সালাত আদায় করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান থাকে।

    এই গুণাবলির পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ তাআলা বলেন:
    (أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ * الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ)
    “তারাই হলো উত্তরাধিকারী। যারা ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।” [সূরা আল-মুমিনূন: ১০-১১]

    এছাড়াও সূরা আল-ফুরকানের ৬৩ থেকে ৬৫ নম্বর আয়াতে জান্নাতীদের আরও কয়েকটি বিশেষ গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

    ৯. নম্রতা ও বিনয়:
    (وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا)
    রহমান এর বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে ও অহংকারমুক্ত হয়ে চলাফেরা করে।

    ১০. মূর্খদের সাথে তর্কে না জড়ানো:
    (وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا)
    অজ্ঞ বা মূর্খরা তর্কে লিপ্ত হতে চাইলে তারা শান্তিপূ্র্ণ কথা বলে তাদের এড়িয়ে যায়।

    ১১. তাহাজ্জুদ ও রাতের ইবাদত:
    (وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا)
    যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সাজদাহবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে (সালাতে) রাত অতিবাহিত করে।

    ১২. আল্লাহর শাস্তির ভয়:
    (وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا)
    যারা আল্লাহর কাছে সর্বদা দোয়া করে, হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের আজাব দূর করে দিন, নিশ্চয়ই এর আজাব এক অবিচ্ছিন্ন শাস্তি।

    সারসংক্ষেপ হলো, জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ করতে হলে একজন মুমিনকে অবশ্যই কুরআন সুন্নাহতে বর্ণিত এই গুণাবলি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  2. Asked: April 13, 2026In: জিহাদ

    প্রশ্ন নং ৪২ ‣ যারা জিহাদ সম্পর্কে অবগত নয় তাদের উপরও কি জিহাদ ফরজ?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 13, 2026 at 5:58 pm

    জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত এবং এটি ইসলামের চূড়া (সনামুল ইসলাম)। একজন মুসলিম সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, জিহাদ সম্পর্কে অবগত না থাকাটা তার জন্য ইবাদত থেকে দূরে থাকার কোনো শরয়ি অজুহাত হতে পারে না। কারণ, যে ইবাদতগুলো পালন করা ফরজ, সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্Read more

    জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত এবং এটি ইসলামের চূড়া (সনামুল ইসলাম)। একজন মুসলিম সাধারণ মানুষ হোক বা আলেম, জিহাদ সম্পর্কে অবগত না থাকাটা তার জন্য ইবাদত থেকে দূরে থাকার কোনো শরয়ি অজুহাত হতে পারে না। কারণ, যে ইবাদতগুলো পালন করা ফরজ, সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করাও প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। জিহাদ মূলত সক্ষম সকল মুসলিমের উপর তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজ। অবস্থার প্রেক্ষিতে এটি কখনো ফরজে আইন (ব্যক্তিগতভাবে ফরজ) আবার কখনো ফরজে কিফায়া (সামষ্টিকভাবে ফরজ) হয়। তবে সার্বিকভাবে সকল মুসলিমকেই কোনো না কোনোভাবে জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। সশস্ত্র জিহাদে হয়তো সকলে সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, জিহাদ শুধুমাত্র সরাসরি যুদ্ধ করার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। কেউ নিজের জান দিয়ে জিহাদ করবে, কেউ নিজের সম্পদ দিয়ে, কেউ মুজাহিদদের পরিবারের বিশ্বস্ততার সাথে দেখাশোনা করার মাধ্যমে, কেউ মুজাহিদদের অস্ত্র, পোশাক, খাদ্য, যানবাহন, তথ্য ও সমর্থন দিয়ে সাহায্য করে, আবার কেউ নিজের লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে জিহাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এই মহান ইবাদতে অংশ নিবে।
    এ বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে কারীমে এরশাদ করেন:
    انْفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ
    অর্থ: তোমরা হালকা ও ভারী সকল অবস্থায় বেরিয়ে পড় এবং তোমাদের মাল ও জান দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। [সূরা আত-তাওবাহ: ৪১]
    সম্পদ এবং জবানের জিহাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন:
    جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ
    অর্থ: তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে তোমাদের সম্পদ, জীবন এবং জবান দ্বারা জিহাদ করো। [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৫০৪; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    যারা সরাসরি রণাঙ্গনে উপস্থিত হতে পারে না, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই হাদিসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
    مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدْ غَزَا، وَمَنْ خَلَفَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِخَيْرٍ فَقَدْ غَزَا
    অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো গাজীকে (মুজাহিদকে) যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল, সে যেন নিজেই যুদ্ধ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো গাজীর অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের ভালোমতো দেখাশোনা করল, সেও যেন যুদ্ধ করল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৮৪৩ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৯৫]
    অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা রাখার অপরিহার্যতার প্রমাণস্বরূপ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি প্রণিধানযোগ্য:
    عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ وَلَمْ يُحَدِّثْ بِهِ نَفْسَهُ مَاتَ عَلَى شُعْبَةٍ مِنْ نِفَاقٍ
    অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, অথচ সে কোনোদিন জিহাদ করল না এবং নিজের অন্তরেও জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করল না, সে যেন মুনাফেকির একটি শাখার উপর মৃত্যুবরণ করল। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১০ / ইসলামিক ফাউন্ডেশন নম্বর: ৪৭৭৮]
    অর্থাৎ যেকোনো উপায়ে, জান, মাল, জবান বা অন্তত অন্তরের মজবুত সমর্থন ও আকাঙ্ক্ষা দিয়ে জিহাদের পক্ষে নিজেকে নিয়োজিত রাখা সকল মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।

    See less
  3. Asked: April 5, 2026In: পারিবারিক জীবন

    প্রশ্ন নং ৪১ ‣ যিনাকারী পুরুষের ক্ষেত্রে স্ত্রীর করণীয় কী?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 5, 2026 at 7:12 am

    বিবাহিত অবস্থায় যিনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য এবং কবিরা গুনাহ। ইসলামে বিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।"(সূরা আল-ইসরা: ৩২) বিশুদ্ধ হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি যিনায় লিপ্ত হলে ইসলামী রRead more

    বিবাহিত অবস্থায় যিনা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জঘন্য এবং কবিরা গুনাহ। ইসলামে বিবাহিত ব্যক্তির যিনার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: “আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”(সূরা আল-ইসরা: ৩২) বিশুদ্ধ হাদীস অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তি যিনায় লিপ্ত হলে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় তার শাস্তি হলো ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগতভাবে এই দণ্ড কার্যকর করার সুযোগ নেই, তবে এর মাধ্যমে অপরাধটির ভয়াবহতা স্পষ্টভাবে অনুমেয়। স্ত্রী হিসেবে আপনি তাকে অন্য বিবাহের পরামর্শ দিয়ে এবং আলেমদের মাধ্যমে বুঝিয়ে চরম ধৈর্য ও উদারতার পরিচয় দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:”তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে…” (সহীহ বুখারী: ৮৯৩; মুসলিম: ১৮২৯) আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু এরপরও যদি সে তওবা না করে এবং পাপে লিপ্ত থাকে, তবে আপনার ওপর আর কোনো দায়ভার থাকে না।
    শাইখ বিন বায ও ইবনে উসাইমীন এর মতে, যদি স্বামী যিনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তওবা না করে, তবে দ্বীনদার স্ত্রীর জন্য এমন স্বামীর সাথে সংসার করা জায়েজ নয়। এর কারণগুলো হলো:
    ১) যিনার কারণে বংশপরিচয় ও পবিত্রতা নষ্ট হয়।
    ২) বর্তমানে যিনার মাধ্যমে প্রাণঘাতী যৌনরোগ (যেমন: এইডস) ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে, যা নির্দোষ স্ত্রীর জীবন বিপন্ন করতে পারে।
    ৩) একজন পাপিষ্ঠ ও ফাসেক ব্যক্তির সাথে বসবাস করলে নিজের এবং সন্তানদের দ্বীনদারী ও আখলাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু স্বামী বারবার বোঝানোর পরও সংশোধন হচ্ছে না এবং নিজের পাপে অটল রয়েছে, সেহেতু মহিলাটির উচিত এই পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে ‘খুলা’ বা তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা সামর্থ্যবান ও পবিত্র বান্দাদের জন্য উত্তম বিকল্পের ব্যবস্থা করেন। তালাকের পর শরয়ী ইদ্দত পালন শেষে কোনো মুত্তাকী ও দ্বীনদার পুরুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া তার জন্য মুস্তাহাব। যে পুরুষ বিবাহের মতো পবিত্র নেয়ামত পাওয়ার পরও যিনার মতো নোংরা পথে পা বাড়ায় এবং তওবা করে ফিরে আসে না, সে নিজ হাতে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। এমন ব্যক্তির সাথে ঘর করা কোনো দ্বীনদার মহিলার জন্য সম্মানজনক নয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:”দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য…” (সূরা আন-নূর: ২৬)
    আপনার জন্য পরামর্শ হলো, এই পাপিষ্ঠ স্বামীর সংস্পর্শ ত্যাগ করে নিজের দ্বীন, সম্মান ও জীবন রক্ষা করা। আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, তিনি অবশ্যই আপনার জন্য উত্তম ফয়সালা করবেন।

    See less
  4. Asked: April 1, 2026In: সামাজিক জীবন

    প্রশ্ন নং ৪০ ‣ প্রজেক্টরে বক্তাকে দেখা যায় এমন মাহফিলে মহিলারা কি যেতে পারবে?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 2, 2026 at 3:50 pm

    ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। ইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাRead more

    ওয়াজ মাহফিল বা দ্বীনি আলোচনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ জায়েজ, তবে পর্দার বিধান পূর্ণাঙ্গরূপে পালন করা আবশ্যক। বড় মনিটরে বক্তার ছবি প্রদর্শন করে মহিলাদের তা দেখার ব্যবস্থা করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ।
    ইসলামে কেবল পুরুষকেই দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেয়নি, বরং নারীদেরকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
    “মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে…” (সূরা আন-নূর: ৩১) বড় মনিটরে বক্তাকে দেখা এই আয়াতের নির্দেশের পরিপন্থী হতে পারে, বিশেষ করে যদি সেখানে ফেতনার আশঙ্কা থাকে।
    এ হাদীসটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী দলিল। উম্মে সালামাহ (রাযি.) বর্ণনা করেন:
    “আমি ও মায়মুনা (রাযি.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় ইবনে উম্মে মাকতূম (রাযি.) আসলেন… তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও।’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদের দেখছেন না।’ তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘তোমরা দুজন কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না?’” (সুনানে আবু দাউদ: ৪১১২; তিরমিজি: ২৭৭৮ – ইমাম তিরমিজি একে হাসান সহীহ বলেছেন)
    যদিও কোনো কোনো আলেম এই হাদীসটিকে বিশেষ প্রেক্ষাপটে আলোচনা করেছেন, তবে স্কলারদের একটি বড় অংশ এর মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, অপ্রয়োজনে পরপুরুষের দিকে তাকানো মহিলাদের জন্য অনুচিত।
    ওয়াজ মাহফিলে পর্দার বিধান বজায় রাখার জন্য নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করা উচিত:
    শব্দই যথেষ্ট: দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য বক্তাকে সশরীরে দেখা জরুরি নয়। প্যান্ডেলে ভালো মানের স্পিকার বা গ্রাউন্ড বক্সের মাধ্যমে শুধু আওয়াজ পৌঁছানোই যথেষ্ট এবং এটিই অধিকতর নিরাপদ।
    ফেতনার আশঙ্কা: বর্তমানে ভিডিও বা বড় মনিটরে বক্তার অঙ্গভঙ্গি ও চেহারা প্রদর্শনের ফলে অনেক সময় মূল আলোচনার চেয়ে বক্তার ব্যক্তিত্ব বা অবয়ব নিয়ে চর্চা বেশি হয়, যা পর্দার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
    শাইখ বিন বায (রাহ.) এবং শাইখ আলবানী (রাহ.)-এর মতে, প্রয়োজন ছাড়া এবং ফেতনার ভয় থাকলে নারীদের জন্য পরপুরুষের দিকে তাকানো বৈধ নয়।
    সুতরাং ওয়াজ মাহফিলে মহিলাদের জন্য বড় মনিটরে বক্তাকে প্রদর্শন করা পরিহার করা উচিত। কেবল শব্দের মাধ্যমে আলোচনা শোনার ব্যবস্থা থাকলে সেখানে মহিলারা অংশ নিতে পারবেন। তবে সরাসরি মনিটরে বক্তাকে দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া বা দেখার ব্যবস্থা করা সুন্নাহসম্মত পর্দার বিধানের পরিপন্থী।

    See less
  5. Asked: March 25, 2026In: ইবাদাত

    প্রশ্ন নং ৩৯ ‣ মানসূখ আয়াতগুলোর কোনো তালিকা আছে কি বা মানসূখ আয়াত চেনার আলাদা কি কোনো নীতিমালা আছে?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on March 25, 2026 at 10:32 am

    পবিত্র কুরআনের 'নাসেখ' (রহিতকারী) এবং 'মানসূখ' (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে। মানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি: সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা: ১) রাসূলুRead more

    পবিত্র কুরআনের ‘নাসেখ’ (রহিতকারী) এবং ‘মানসূখ’ (রহিত) অধ্যায়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ইলমি একটি বিষয়। এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে কুরআনের বিধান বুঝতে ভুল হতে পারে।
    মানসূখ আয়াত চেনার মূলনীতি:
    সালাফে সালেহীন এবং উলামায়ে কেরাম মানসূখ আয়াত চেনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদান করেছেন। যথা:
    ১) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বা কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে যদি স্পষ্ট বর্ণনা থাকে যে, অমুক আয়াতের বিধান রহিত হয়ে গেছে।
    ২) যদি দুটি আয়াতের বিধানের মধ্যে সরাসরি বৈপরীত্য থাকে এবং নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, একটি আয়াত আগে এবং অন্যটি পরে নাযিল হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরের আয়াতটি আগেরটিকে রহিত (নাসেখ) করবে।
    ৩) যদি উম্মাহর উলামায়ে কেরাম কোনো একটি আয়াতের বিধান রহিত হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছান।
    মানসূখ আয়াতের তালিকা ও কিতাবসমূহ:
    এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ অনেক মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। সুতরাং এটি অলিখিত কোনো বিষয় নয়। উল্লেখযোগ্য কিছু কিতাব হলো:
    ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম (রাহ.)-এর ‘আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ’।
    ইমাম ইবনুল জাওযী (রাহ.)-এর ‘নাওয়াসিখুল কুরআন’।
    ইমাম সুয়ূতী (রাহ.)-এর ‘আল-ইতকান’ গ্রন্থে এ বিষয়ে গোছানো তালিকা রয়েছে।
    মানসূখ আয়াতের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ:
    প্রাথমিক যুগের আলেমগণ অনেক আয়াতের বিধানকে ‘মানসূখ’ বলতেন, কিন্তু পরবর্তীতে গবেষণায় দেখা গেছে অনেক ক্ষেত্রে আয়াতগুলো পুরোপুরি মানসূখ নয়, বরং একটি বিশেষ পরিস্থিতির জন্য অন্যটি সাধারণ পরিস্থিতির জন্য (অর্থাৎ আয়াতগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব)।
    ইমাম সুয়ূতী (রাহ.) তাঁর গবেষণায় মাত্র ২০টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
    শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রাহ.) আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে মাত্র ৫টি আয়াতকে চূড়ান্ত মানসূখ হিসেবে গণ্য করেছেন।
    সতর্কতা:
    নাসেখ-মানসূখ একটি জটিল বিষয়। আলী (রাদি.) একবার এক ব্যক্তিকে মসজিদে ওয়ায করতে দেখে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি নাসেখ ও মানসূখ চেনো?” সে বলল, “না”। তিনি বললেন, “তাহলে তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছো এবং অন্যকেও ধ্বংস করছো।”
    মানসূখ আয়াতের তালিকা সম্বলিত অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাব রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এ বিষয়ে নিজস্ব মতামত দেওয়া সমীচীন নয়। আমাদের উচিত নির্ভরযোগ্য স্কলারদের দরস বা কিতাব থেকে এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা। যারা এ নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিতে চান, তাদের জন্য পূর্বসূরী ইমামদের কিতাবগুলোই হবে প্রধান পথপ্রদর্শক।

    See less
1 2 3 4 5 … 11

Sidebar

Top Question Categories

ইবাদাত
14Questions
, 0Followers
হালাল ও হারাম
10Questions
, 0Followers
পারিবারিক জীবন
6Questions
, 0Followers
লেনদেন ও অর্থনীতি
6Questions
, 0Followers
জিহাদ
3Questions
, 0Followers

Stats

  • Questions 69
  • Answers 67

ভেরিফাইড শাইখগণ

আব্দুল ওয়াদুদ

আব্দুল ওয়াদুদ

Follow
Ask
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

Follow
Ask

Explore

  • Login
  • Signup

Footer

মাকতাবাতুল ফিকহ

মাকতাবাতুল ফিকহ

ইসলামিক সমাধান
Home
Categories
All Questions
Terms of service
About us
Contact us

© ২০২৫ মাকতাবাতুল ফিকহ
All Rights Reserved