Please briefly explain why you feel this question should be reported.

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

Please briefly explain why you feel this user should be reported.

Sign In

মাকতাবাতুল ফিকহ

মাকতাবাতুল ফিকহ Logo মাকতাবাতুল ফিকহ Logo

মাকতাবাতুল ফিকহ Navigation

  • Home
  • All Questions

Mobile menu

Close
  • Home
  • All Questions
  • Login
  • Signup
  • Recent Questions
  • Answers
  • Most Visited
  • Random
  • Followed Questions
  1. Asked: May 7, 2026In: ইবাদাত

    প্রশ্ন নং ৪৮ ‣ আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম এবং ইকামতের উত্তরে কি বলতে হয়?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on May 7, 2026 at 6:15 am

    আযানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মুয়াজ্জিন যা বলেন, আযানের জবাবে শ্রোতারও হুবহু তা বলা সুন্নাহ। এর দলিল হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَRead more

    আযানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মুয়াজ্জিন যা বলেন, আযানের জবাবে শ্রোতারও হুবহু তা বলা সুন্নাহ। এর দলিল হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
    إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ
    অর্থ: “যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তার অনুরূপ বলবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৩]
    এই সহিহ হাদিসের ব্যাপকতার ভিত্তিতে, ফজরের আযানে মুয়াজ্জিন যখন “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” (ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম) বলবেন, তখন এর জবাবে শ্রোতাকেও হুবহু “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বলতে হবে। আমাদের সমাজে অনেকেই এই বাক্যের জবাবে “সাদাকতা ওয়া বারারতা” বলে থাকেন। কিন্তু সালাফে সালেহীন ও মুহাদ্দিসীনদের মতে এই শব্দগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই, তাই এটি বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
    দ্বিতীয়ত, ইকামতের জবাবের বিষয়টি। উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ তাহকিক অনুযায়ী, ইকামতের আলাদা কোনো জবাব শরিয়তে সাব্যস্ত নেই।
    ইকামতের সময় “ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ” এর জবাবে “আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা” বলার যে রেওয়ায়েতটি আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী তা যয়িফ বা দুর্বল। শায়খ আলবানি (রহ.) সুনান আবু দাউদের (হাদিস নম্বর: ৫২৮) তাহকিকে এই বর্ণনাটিকে যয়িফ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
    যেহেতু ইকামতের নির্দিষ্ট জবাবের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো সনদের দিক থেকে দুর্বল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইকামতের জবাব দেওয়ার কোনো সহিহ আমল প্রমাণিত নয়, তাই ইকামতের সময় চুপ থাকাই বিশুদ্ধ সুন্নাহ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ জানার এবং তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  2. Asked: May 4, 2026In: ইবাদাত

    প্রশ্ন নং ৪৭ ‣ যাকাতের খাত কয়টি ও কী কী?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on May 4, 2026 at 2:28 pm

    যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِRead more

    যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়।
    আল্লাহ তাআলা বলেন:
    إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই সাদাকা (যাকাত) হচ্ছে ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস বা বন্দি মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদে) এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৬০]
    আয়াত অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত হলো:
    ১. ফকির (দরিদ্র ব্যক্তি যার জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই)।
    ২. মিসকিন (অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি, যার কিছু সম্পদ থাকলেও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়)।
    ৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী (যাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায়, সংরক্ষণ ও বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়)।
    ৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, যেমন নওমুসলিম)।
    ৫. দাস বা বন্দি মুক্তি।
    ৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যে হালাল প্রয়োজনে ঋণ করেছে কিন্তু পরিশোধে অক্ষম)।
    ৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় (দ্বীনের বিজয়ের জন্য জিহাদরত মুজাহিদ)।
    ৮. মুসাফির (সফর অবস্থায় যে ব্যক্তি সম্পদহীন হয়ে পড়েছে)।
    যাকাতের অর্থ এই আটটি খাতের যেকোনো একটিতে অথবা একাধিক খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়। তবে আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী আয়াতে প্রথম ৪টি খাতের শুরুতে ‘লাম’ (لِ) অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যা মালিকানা (তামলীক) বোঝায়। আর শেষের ৪টি খাতের শুরুতে ‘ফি’ (فِي) ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাত্র বা ক্ষেত্র (যরফ) বোঝায়। এর মাধ্যমে শেষের খাতগুলোতে, বিশেষ করে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে যাকাত ব্যয়ের বিশালতা ও গুরুত্বকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
    যাকাত আদায় ও বণ্টনের মূল দায়িত্ব হলো ইসলামী রাষ্ট্রের। ইসলামী রাষ্ট্র জনগণের যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব রাখবে এবং বছর পূর্ণ হলে তা সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সময়ের চাহিদানুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বণ্টন করবে। আর যাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন এই যাকাতের ফান্ড থেকেই দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন:
    تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
    অর্থ: “তাদের ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯]
    যদি কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তার থেকে জোরপূর্বক যাকাত আদায় করার এবং শাস্তিস্বরূপ তার সম্পদের একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করার। মূল উত্তরে উমর (রা.) এর কথা বলা হলেও, এটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্পষ্ট নির্দেশ।
    হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ
    অর্থ: “যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত আদায় করবে, সে তার প্রতিদান পাবে। আর যে তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমরা তার কাছ থেকে তা জোরপূর্বক আদায় করব এবং সাথে তার অর্ধেক সম্পদও জরিমানা হিসেবে নিয়ে নেব। এটি আমাদের রবের অবশ্য পালনীয় নির্দেশাবলির একটি।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৭৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]
    সুতরাং, যাকাত কোনো সাধারণ দান নয়, বরং এটি আল্লাহর ফরজ বিধান, যা নির্দিষ্ট খাতগুলোতেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  3. Asked: May 1, 2026In: আধুনিক বিষয়াবলী

    প্রশ্ন নং ৪৬ ‣ গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন করা কতটুকু শরিয়তসম্মত?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on May 1, 2026 at 9:10 pm

    গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে ব্যাপক হারে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং এর জন্য ষাঁড়গুলোকে ঢালাওভাবে খাসি করে ফেলা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় এবং অনুচিত কাজ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি প্রাণীর প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধির জন্য একটি প্রাকৃতিক নিয়ম নির্ধারণ করেRead more

    গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পাশ কাটিয়ে ব্যাপক হারে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং এর জন্য ষাঁড়গুলোকে ঢালাওভাবে খাসি করে ফেলা শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় এবং অনুচিত কাজ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি প্রাণীর প্রজনন এবং বংশবৃদ্ধির জন্য একটি প্রাকৃতিক নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই স্বাভাবিক নিয়মকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলা শয়তানের প্ররোচনার একটি অংশ হতে পারে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা শয়তানের একটি চক্রান্তের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে শয়তান বলেছিল:
    وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ
    অর্থ: “এবং আমি অবশ্যই তাদেরকে নির্দেশ দেব, ফলে তারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করবে।” [সূরা আন-নিসা: ১১৯]
    যদিও অনেক ফকিহ গবাদিপশুর মাংস বা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট প্রয়োজনে কৃত্রিম প্রজনন বা খাসি করাকে মুবাহ (বৈধ) বলেছেন, কিন্তু যখন এটি প্রাকৃতিক ধারাকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার পর্যায়ে চলে যায় এবং এটিকে একমাত্র পন্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তখন তা সৃষ্টির স্বাভাবিকতা নষ্ট করার পর্যায়ে পড়ে যায়। বিনা প্রয়োজনে ঢালাওভাবে প্রাণীদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করা বা খাসি করা ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে।
    আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
    نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ إِخْصَاءِ الْخَيْلِ وَالْبَهَائِمِ
    অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া এবং অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুকে খাসি (প্রজনন ক্ষমতাহীন) করতে নিষেধ করেছেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ৬৩৮৩; আল্লামা শুয়াইব আরনাউত (রহ.) সনদটিকে শক্তিশালী বলেছেন]
    আধুনিক যুগে অধিক মুনাফার আশায় গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে কেবল কৃত্রিম উপায়ের ওপর নির্ভর করার কারণে পশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে এবং খাবারে আগের মতো রহমত ও বরকত থাকছে না। আল্লাহর দেওয়া প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে গিয়ে মানুষ যখনই অপচেষ্টা চালিয়েছে, তখনই সমাজে ও প্রকৃতিতে নানা ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
    ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
    অর্থ: “মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে, যেন আল্লাহ তাদেরকে তাদের কিছু কর্মের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।” [সূরা আর-রূম: ৪১]
    সারসংক্ষেপ হলো, আল্লাহর সৃষ্টিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। একান্ত বাধ্যগত কোনো পরিস্থিতি ছাড়া ঢালাওভাবে গবাদিপশুর স্বাভাবিক প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং সৃষ্টির ধারা পরিবর্তন করা থেকে নিজেদের দূরে রাখা উচিত। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

    See less
  4. Asked: April 24, 2026In: হালাল ও হারাম

    প্রশ্ন নং ৪৫ ‣ অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে ইহুদি খ্রিষ্টানদের বিয়ের ঘটকালি করা কি জায়েজ?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 24, 2026 at 7:30 pm

    ইহূদী, খ্রিষ্টান বা অন্যান্য অমুসলিমদের সাথে শরিয়তসম্মত সাধারণ বৈধ ব্যবসা বাণিজ্য বা লেনদেন ইসলামে জায়েজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সাথে পার্থিব লেনদেন করেছেন। কিন্তু অনলাইনে তাদের বিয়ের ঘটকালি বা ম্যাচমেকিং এর মতো কাজের সাথে যুক্ত হওয়া একজন মুসলিমের জন্য নাজায়েজ এবং এ থেকে নRead more

    ইহূদী, খ্রিষ্টান বা অন্যান্য অমুসলিমদের সাথে শরিয়তসম্মত সাধারণ বৈধ ব্যবসা বাণিজ্য বা লেনদেন ইসলামে জায়েজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদীদের সাথে পার্থিব লেনদেন করেছেন। কিন্তু অনলাইনে তাদের বিয়ের ঘটকালি বা ম্যাচমেকিং এর মতো কাজের সাথে যুক্ত হওয়া একজন মুসলিমের জন্য নাজায়েজ এবং এ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা অপরিহার্য।
    প্রথমত, বর্তমান সময়ে অমুসলিমদের ঘটকালি বা অনলাইনে ম্যাচমেকিং বলতে সাধারণত পশ্চিমা সংস্কৃতির ‘ডেটিং’, অবাধ মেলামেশা বা লিভ টুগেদার এর মতো হারাম সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করাকে বোঝায়। তাদের সম্পর্কগুলো ইসলামী বিবাহের পবিত্র নিয়মে হয় না, বরং কুফরি রীতিনীতি বা নিছক প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে থাকে।
    দ্বিতীয়ত, অনলাইনে এই ধরনের কাজ করতে গেলে অগণিত গায়রে মাহরাম নারী পুরুষের ছবি দেখতে হয়, তাদের প্রোফাইল ঘাঁটতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে অশ্লীলতার সম্মুখীন হতে হয়। ইসলামে গায়রে মাহরামের দিকে দৃষ্টিপাত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আন-নূর: ৩০)।
    তৃতীয়ত, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হারাম ও পাপের কাজে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন:
    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
    অর্থ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২]
    চতুর্থত, এটি ‘আল ওয়ালা ওয়াল বারা’ (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই বিদ্বেষ পোষণ) এর আকিদাহর সাথে সম্পর্কিত। অমুসলিমদের সাথে মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা, তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের কাজে যুক্ত থাকলে একজন মুসলিমের নিজের আকিদাহ, আখলাক এবং দ্বীনদারিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
    তাই সামাজিক বা জাগতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে শরিয়তে কিছু নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে বৈধতা থাকলেও, তাদের বিয়ের ঘটকালির মতো কাজ, যা শরিয়ত পরিপন্থী উপাদানে ভরপুর, তা থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে রাখা একজন সাচ্চা মুমিনের দায়িত্ব। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আরও অসংখ্য হালাল ও পবিত্র কাজের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে হালাল রিজিকের সন্ধান করতে হবে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই তুমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই বর্জন করবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩০৭৪; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    সুতরাং, নিজের দ্বীন ও ঈমানকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে এই ধরনের কাজ বর্জন করা আবশ্যক। আল্লাহ আমাদের হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
  5. Asked: April 20, 2026In: হালাল ও হারাম

    প্রশ্ন নং ৪৪ ‣ কোনো ব্যাংকে পিয়ন বা দারোয়ানের চাকরি করা যাবে কি?

    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Taqiuddin Ahmed Bin Saad
    Added an answer on April 20, 2026 at 3:11 pm

    সুদভিত্তিক বা হারাম লেনদেনের সাথে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে (যেমন গতানুগতিক সুদী ব্যাংক) যেকোনো ধরনের চাকরি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ বা হারাম। হোক তা সরাসরি সুদের হিসাবরক্ষক বা ম্যানেজার, কিংবা পিয়ন বা দারোয়ান। কারণ ছোটখাটো চাকরি হলেও এর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে একটি হারাম প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাRead more

    সুদভিত্তিক বা হারাম লেনদেনের সাথে যুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে (যেমন গতানুগতিক সুদী ব্যাংক) যেকোনো ধরনের চাকরি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ বা হারাম। হোক তা সরাসরি সুদের হিসাবরক্ষক বা ম্যানেজার, কিংবা পিয়ন বা দারোয়ান। কারণ ছোটখাটো চাকরি হলেও এর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে একটি হারাম প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি সহযোগিতা করা হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন:
    وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
    অর্থ: “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পরের সাহায্য করো এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।” [সূরা আল-মায়েদাহ: ২]
    সুদী ব্যাংকের দারোয়ান মূলত সুদের অর্থ এবং সুদী কারবারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আর পিয়ন বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী সেই প্রতিষ্ঠানের কাজকে সহজ ও সাবলীল করতে সহায়তা করে। সুতরাং তারা সরাসরি সুদের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর না করলেও, সুদী কারবারে সহায়তা করার পাপে পরোক্ষভাবে তারাও অংশীদার হয়ে যায়।
    জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে এসেছে:
    لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ
    অর্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর, সুদদাতা, সুদের চুক্তিপত্র লেখক এবং সুদের দুই সাক্ষীর উপর লানত (অভিশাপ) করেছেন। এবং তিনি বলেছেন, “পাপের দিক থেকে তারা সকলেই সমান।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮]
    আরবের প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম এবং ‘ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি’ (আল-লাজনা আদ-দাইমা, সৌদি আরব) এর ফতোয়া অনুযায়ী, সুদী ব্যাংকে পিয়ন, দারোয়ান বা নাইট গার্ড হিসেবে চাকরি করা নাজায়েজ। কারণ এটি হারাম কাজে সহযোগিতা এবং হারামকে পাহারা দেওয়ার শামিল।
    একান্ত নিরুপায় না হলে না করাই উচিত। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরিয়তে “নিরুপায়” বা “জরুরাত” (الضرورة) এর সংজ্ঞা অত্যন্ত কঠোর। জীবননাশের আশঙ্কা বা চরম বাধ্যবাধকতা ছাড়া সুদের মতো ভয়াবহ হারামের সাথে যুক্ত হওয়া জায়েজ নয়। সাধারণ বেকারত্ব বা আর্থিক অনটন কখনো সুদী প্রতিষ্ঠানে চাকরির বৈধতা দেয় না। মুমিনদের সর্বদা হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং রিজিকের ব্যাপারে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।
    রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
    إِنَّكَ لَنْ تَدَعَ شَيْئًا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَدَّلَكَ اللَّهُ بِهِ مَا هُوَ خَيْرٌ لَكَ مِنْهُ
    অর্থ: “নিশ্চয়ই তুমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যা কিছুই বর্জন করবে, আল্লাহ তোমাকে তার চেয়েও উত্তম কিছু দান করবেন।” [মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৩০৭৪; শায়খ আলবানি ও শুয়াইব আরনাউত (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
    অতএব, কোনো মুসলিমের জন্যই সুদী ব্যাংকে পিয়ন বা দারোয়ান হিসেবে চাকরি করা বৈধ নয়। যার এ ধরনের চাকরি রয়েছে, তার উচিত আল্লাহর উপর ভরসা করে দ্রুত হালাল রিজিকের সন্ধান করা এবং এই হারাম চাকরি পরিত্যাগ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    See less
1 2 3 4 … 11

Sidebar

Top Question Categories

ইবাদাত
14Questions
, 0Followers
হালাল ও হারাম
10Questions
, 0Followers
পারিবারিক জীবন
6Questions
, 0Followers
লেনদেন ও অর্থনীতি
6Questions
, 0Followers
জিহাদ
3Questions
, 0Followers

Stats

  • Questions 69
  • Answers 67

ভেরিফাইড শাইখগণ

আব্দুল ওয়াদুদ

আব্দুল ওয়াদুদ

Follow
Ask
আব্দুর রহমান

আব্দুর রহমান

Follow
Ask

Explore

  • Login
  • Signup

Footer

মাকতাবাতুল ফিকহ

মাকতাবাতুল ফিকহ

ইসলামিক সমাধান
Home
Categories
All Questions
Terms of service
About us
Contact us

© ২০২৫ মাকতাবাতুল ফিকহ
All Rights Reserved