পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত 'আল-মাগদুব' (المغضوب) এবং 'আদ-দোয়াল্লিন' (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো 'ض' (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব 'মাখরাজ' (উচ্চারণস্থান) এবং 'সিফাত' (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে। 'ض' (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্Read more
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত ‘আল-মাগদুব’ (المغضوب) এবং ‘আদ-দোয়াল্লিন’ (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো ‘ض’ (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণস্থান) এবং ‘সিফাত’ (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে।
‘ض’ (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি হরফ। এর মাখরাজ হলো জিহ্বার গোড়ার কিনারা এবং ওপরের মাড়ির দাঁত। বাংলা ভাষায় এমন কোনো বর্ণ নেই, যা দিয়ে ‘ض’ (দোয়াদ) হরফটির সঠিক উচ্চারণ হুবহু লিখে বোঝানো সম্ভব।
এটি খাঁটি ‘দ’ (দাল) নয়, আবার খাঁটি ‘য’ বা ‘জ’ (যা বা যোয়া) ও নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই বাংলা উচ্চারণ দেখে এটিকে ‘যল্লিন’ বা ‘জয়াল্লিন’ পড়ে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। যদি কেউ এটিকে সম্পূর্ণ ‘য’ এর মতো উচ্চারণ করেন, তবে তা ‘ظ’ (যোয়া) হরফে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এর ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে এবং সালাত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। কারণ, আরবিতে ‘দোয়াল্লিন’ (ضالين) অর্থ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, আর ‘যোয়াল্লিন’ (ظالين) অর্থ ছায়া করা বা কোনো কাজে সারাদিন লিপ্ত থাকা।
সুতরাং, এটি ‘দল্লিন’ বা ‘যল্লিন’ কোনোটিই নয়। এটি বাংলা অক্ষর দেখে শেখার বিষয়ও নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনুল কারীমকে তারতীল বা সঠিক উচ্চারণের সাথে তিলাওয়াত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অর্থ: “আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীর স্থির ও সুষমামণ্ডিতভাবে (তাজবীদের সাথে)।” [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪]
তাই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হলো, কোনো বিজ্ঞ ক্কারী বা সহিহ তিলাওয়াতকারী উস্তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি মুখে মুখে আরবি হরফগুলোর মাখরাজ ও উচ্চারণ শিখে নেওয়া। কেবল বাংলা উচ্চারণ দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে 'নফল' (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষRead more
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে ‘নফল’ (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষায় ‘সুন্নাত’ (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা সুন্নাতে রাতেবা) বলা হয়। আর যেগুলো তিনি কখনো পড়তেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন, সেগুলোকে সাধারণ নফল বলা হয়।
সুতরাং, ফজরের ফরজের আগের ২ রাকাত সালাতকে কেবল সাধারণ নফল বলা সঠিক নয়, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’।
দৈনিক ফরজ সালাতের আগে ও পরে নির্দিষ্ট রাকাত সুন্নাত সালাতের (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা) ব্যাপারে সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।
উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে (ফরজ ব্যতীত) বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮]
সুনান আত-তিরমিজির বর্ণনায় এই ১২ রাকাতের বিস্তারিত বিবরণ এভাবে এসেছে:
১. যোহরের ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত।
২. মাগরিবের ফরজের পরে ২ রাকাত।
৩. ইশার ফরজের পরে ২ রাকাত।
৪. ফজরের ফরজের পূর্বে ২ রাকাত।
[সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৪১৪; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়া প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে যোহরের পূর্বে ৪ রাকাতের বদলে ২ রাকাতসহ দৈনিক মোট ১০ রাকাত সুন্নাত সালাত আদায়ের কথাও প্রমাণিত আছে। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮০]
যেহেতু এই সালাতগুলোর ফজিলত অনেক বেশি এবং এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়মিত আমল, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়া চরম বঞ্চনার কারণ। আর কেউ যদি সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এগুলো বর্জন করে, তবে সে মারাত্মক গুনাহগার হবে।
তবে কোনো যৌক্তিক ওজর, ঘুম, অসুস্থতা বা ভুলে যাওয়ার কারণে এই সুন্নাতগুলোর কোনোটি ছুটে গেলে ফরজ সালাতের মতো এর কাযা করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সালাফি উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, কেউ চাইলে ছুটে যাওয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (যেমন ফজরের বা যোহরের সুন্নাত) পরবর্তীতে কাযা করে নিতে পারেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমল দ্বারা সাব্যস্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে নিয়মিত সুন্নাত সালাতগুলোর হিফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী 'হা হা' করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেRead more
ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী ‘হা হা’ করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেন না। তাঁর হাসি ছিল অত্যন্ত মার্জিত এবং কেবল মুচকি হাসি।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ
অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো এমন অট্টহাসি হাসতে দেখিনি যে, তাঁর আলজিভ দেখা যায়। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮২৮ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯]
তবে কখনো কখনো আনন্দদায়ক বা বিস্ময়কর কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসতেন যে, তাঁর সামনের মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশ পেত, কিন্তু তাতেও কোনো উচ্চশব্দ হতো না।
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জাযয়ী (রা.) বলেন:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।” [জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৪১; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
অট্টহাসি বা অতিরিক্ত হাসাহাসি করা মুমিনের গাম্ভীর্যের পরিপন্থী এবং এটি অন্তরের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটি মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে মৃত করে দেয় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে তোলে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ القَلْبَ
অর্থ: “আর তুমি অতিরিক্ত হেসো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৩ এবং জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
সুতরাং, একজন মুসলিমের উচিত সর্বদা গাম্ভীর্য ও ইসলামী শিষ্টাচার বজায় রাখা। শব্দ করে অট্টহাসি বর্জন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী কেবল মুচকি হাসার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সকলের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের উত্তম চরিত্র গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ: ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা 'হুকুকুল ইবাদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামRead more
১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ:
ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা ‘হুকুকুল ইবাদ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
অর্থ: “শহীদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে ঋণ ব্যতীত।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬]
আপনার পরিবারের ওপর যেহেতু ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকার বিশাল অংকের ঋণ রয়েছে এবং আপনি যদি সেই ঋণ পরিশোধের জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টা করা এবং পরিবারের পাশে থাকা অগ্রাধিকার পাবে। যদি জিহাদ বর্তমানে আপনার জন্য ‘ফরজে আইন’ না হয়ে থাকে, তবে ঋণদাতার অনুমতি ও ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা ছাড়া জিহাদে বের হওয়া সমীচীন নয়।
আপনার বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আপনার উচিত প্রথমত নিজের আক্বীদাহ ও আমলকে বিশুদ্ধ করা এবং নিজের পরিবারকে একটি দ্বীনি ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
অর্থ: “এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” [সূরা আশ শুআরা: ২১৪]
আপনজনদের ঈমানী দায়িত্ব ও জিহাদের জন্য প্রস্তুত না করে অন্য কোথাও চলে যাওয়া সুন্নাহর পরিপন্থী। সুতরাং আপনি ঋণ পরিশোধের জন্য হালাল উপার্জনে সচেষ্ট হোন এবং একই সাথে জিহাদের নিয়ত ও মানসিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখুন।
২. দোকানে একা সালাত আদায় প্রসঙ্গে:
একজন সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক। সামান্য পার্থিব কারণ বা চাকরির অজুহাতে জামাত ত্যাগ করা বৈধ নয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ
অর্থ: “আমার ইচ্ছা হয় আমি সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই এবং এক ব্যক্তিকে ইমামতি করতে বলি, এরপর আমি ওই সব লোকদের কাছে যাই যারা জামাতে উপস্থিত হয়নি এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেই।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫১]
এমনকি একজন অন্ধ ব্যক্তিকেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতে আসার নির্দেশ দিয়েছেন যদি সে আযান শুনতে পায়। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৩]
আপনার করণীয় হলো দোকানের মালিকের সাথে অত্যন্ত নম্রভাবে জামাতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা। তাকে বোঝান যে সালাতের সময় দোকান বন্ধ রাখলে বা তাকে জামাতে আসার সুযোগ দিলে ব্যবসায় বরকত হবে। সম্ভব হলে তাকেও দাওয়াত দিয়ে মসজিদে নিয়ে যান। যদি তিনি একান্তই রাজি না হন, তবে দোকানেই অন্তত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে জামাত করার চেষ্টা করুন। আর যদি এই চাকরি আপনার ফরজ ইবাদতে স্থায়ী বাধার সৃষ্টি করে, তবে এমন কর্মসংস্থান খোঁজা উচিত যেখানে আল্লাহর বিধান পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
৩. ইসলামি লেখাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে যাওয়া:
শরীয়তের মূলনীতি হলো, বাথরুমে বা অপবিত্র স্থানে এমন কিছু নিয়ে যাওয়া মাকরূহ বা নিষিদ্ধ যাতে আল্লাহর নাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম কিংবা কুরআনের কোনো আয়াত লিখিত থাকে।
আপনার হুডিতে ‘Islam is Light’ (ইসলাম হলো আলো) লেখা আছে। এটি একটি সাধারণ ইসলামি বাক্য এবং এতে আল্লাহর নাম (যেমন আল্লাহ, রব, রহমান) কিংবা রাসূলের নাম অথবা কুরআনের আয়াত সরাসরি নেই। সালাফি উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী, এই ধরনের সাধারণ বর্ণনাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে প্রবেশ করা হারাম নয়। তবে দ্বীনি নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যদি সম্ভব হয় সেটি ঢেকে রাখা বা পরিবর্তন করা উত্তম।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
অর্থ: “এটিই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।” [সূরা আল হাজ্জ: ৩২]
সুতরাং ‘Islam is Light’ লেখা পোশাকে বাথরুমে যাওয়া জায়েজ হলেও আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত থাকলে তা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে 'রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ' পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযRead more
হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবির বলতেন, এরপর রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। অতঃপর যখন রুকু থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন বলতেন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলতেন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৮৯ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯২]
যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইমামতি করতেন এবং তিনি রুকু থেকে ওঠার পর এই দুটি বাক্যই পাঠ করতেন, তাই প্রত্যেক ইমামের জন্যই এই সুন্নাহটি অনুসরণ করা আবশ্যক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন:
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
অর্থ: “তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১]
প্রখ্যাত সালাফি আলেম শায়খ আবদুল আযীয ইবনে বাজ (রহ.) এবং শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল উসাইমিন (রহ.) এর ফতোয়া অনুযায়ী, ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তি রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ উভয়টিই পাঠ করবেন। আর মুক্তাদি (ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারী) শুধু ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ পাঠ করবেন।
সুতরাং ইমামতির দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি রুকু থেকে উঠে অবশ্যই ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী সালাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৬৫ ‣ সূরা ফাতিহায় "দল্লিন" নাকি "যল্লিন" উচ্চারণ হবে?
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত 'আল-মাগদুব' (المغضوب) এবং 'আদ-দোয়াল্লিন' (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো 'ض' (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব 'মাখরাজ' (উচ্চারণস্থান) এবং 'সিফাত' (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে। 'ض' (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্Read more
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ফাতিহায় উল্লেখিত ‘আল-মাগদুব’ (المغضوب) এবং ‘আদ-দোয়াল্লিন’ (الضالين) শব্দ দুটিতে যে হরফটি ব্যবহৃত হয়েছে, তা হলো ‘ض’ (দোয়াদ বা দ্বয়াদ)। আরবি ভাষার প্রতিটি হরফের নিজস্ব ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণস্থান) এবং ‘সিফাত’ (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে।
See less‘ض’ (দোয়াদ) হরফটি আরবি ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্যপূর্ণ একটি হরফ। এর মাখরাজ হলো জিহ্বার গোড়ার কিনারা এবং ওপরের মাড়ির দাঁত। বাংলা ভাষায় এমন কোনো বর্ণ নেই, যা দিয়ে ‘ض’ (দোয়াদ) হরফটির সঠিক উচ্চারণ হুবহু লিখে বোঝানো সম্ভব।
এটি খাঁটি ‘দ’ (দাল) নয়, আবার খাঁটি ‘য’ বা ‘জ’ (যা বা যোয়া) ও নয়। আমাদের সমাজে অনেকেই বাংলা উচ্চারণ দেখে এটিকে ‘যল্লিন’ বা ‘জয়াল্লিন’ পড়ে থাকেন, যা সম্পূর্ণ ভুল। যদি কেউ এটিকে সম্পূর্ণ ‘য’ এর মতো উচ্চারণ করেন, তবে তা ‘ظ’ (যোয়া) হরফে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। এর ফলে শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ বিকৃত হয়ে যাবে এবং সালাত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। কারণ, আরবিতে ‘দোয়াল্লিন’ (ضالين) অর্থ পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়, আর ‘যোয়াল্লিন’ (ظالين) অর্থ ছায়া করা বা কোনো কাজে সারাদিন লিপ্ত থাকা।
সুতরাং, এটি ‘দল্লিন’ বা ‘যল্লিন’ কোনোটিই নয়। এটি বাংলা অক্ষর দেখে শেখার বিষয়ও নয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনুল কারীমকে তারতীল বা সঠিক উচ্চারণের সাথে তিলাওয়াত করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
অর্থ: “আর আপনি কুরআন তিলাওয়াত করুন ধীর স্থির ও সুষমামণ্ডিতভাবে (তাজবীদের সাথে)।” [সূরা আল-মুজ্জাম্মিল: ৪]
তাই প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অপরিহার্য দায়িত্ব হলো, কোনো বিজ্ঞ ক্কারী বা সহিহ তিলাওয়াতকারী উস্তাদের কাছে গিয়ে সরাসরি মুখে মুখে আরবি হরফগুলোর মাখরাজ ও উচ্চারণ শিখে নেওয়া। কেবল বাংলা উচ্চারণ দেখে কুরআন তিলাওয়াত করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৬৪ ‣ সুন্নাত বলতে কি কোনো সালাত আছে?
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে 'নফল' (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষRead more
ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ফরজ সালাত ব্যতীত বাকি সকল সালাতকেই মূলত আভিধানিক অর্থে ‘নফল’ (অতিরিক্ত) বলা হয়। তবে এই নফল সালাতগুলোর মধ্যে যে সালাতগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত আদায় করতেন, কখনো ছাড়তেন না এবং উম্মতকে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন, সেগুলোকে ফিকহের পরিভাষায় ‘সুন্নাত’ (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা সুন্নাতে রাতেবা) বলা হয়। আর যেগুলো তিনি কখনো পড়তেন আবার কখনো ছেড়ে দিতেন, সেগুলোকে সাধারণ নফল বলা হয়।
See lessসুতরাং, ফজরের ফরজের আগের ২ রাকাত সালাতকে কেবল সাধারণ নফল বলা সঠিক নয়, বরং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’।
দৈনিক ফরজ সালাতের আগে ও পরে নির্দিষ্ট রাকাত সুন্নাত সালাতের (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা) ব্যাপারে সহিহ হাদিসে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।
উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ صَلَّى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ، بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে (ফরজ ব্যতীত) বারো রাকাত সালাত আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২৮]
সুনান আত-তিরমিজির বর্ণনায় এই ১২ রাকাতের বিস্তারিত বিবরণ এভাবে এসেছে:
১. যোহরের ফরজের পূর্বে ৪ রাকাত এবং পরে ২ রাকাত।
২. মাগরিবের ফরজের পরে ২ রাকাত।
৩. ইশার ফরজের পরে ২ রাকাত।
৪. ফজরের ফরজের পূর্বে ২ রাকাত।
[সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ৪১৪; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়া প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে যোহরের পূর্বে ৪ রাকাতের বদলে ২ রাকাতসহ দৈনিক মোট ১০ রাকাত সুন্নাত সালাত আদায়ের কথাও প্রমাণিত আছে। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৮০]
যেহেতু এই সালাতগুলোর ফজিলত অনেক বেশি এবং এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়মিত আমল, তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়া চরম বঞ্চনার কারণ। আর কেউ যদি সুন্নাহর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এগুলো বর্জন করে, তবে সে মারাত্মক গুনাহগার হবে।
তবে কোনো যৌক্তিক ওজর, ঘুম, অসুস্থতা বা ভুলে যাওয়ার কারণে এই সুন্নাতগুলোর কোনোটি ছুটে গেলে ফরজ সালাতের মতো এর কাযা করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে সালাফি উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ ফতোয়া অনুযায়ী, কেউ চাইলে ছুটে যাওয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (যেমন ফজরের বা যোহরের সুন্নাত) পরবর্তীতে কাযা করে নিতে পারেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আমল দ্বারা সাব্যস্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে নিয়মিত সুন্নাত সালাতগুলোর হিফাজত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৬৩ ‣ হা হা করে অট্টহাসি হাসা যাবে কি?
ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী 'হা হা' করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেRead more
ইসলামী শরীয়তে এবং সালাফে সালেহীনদের শিষ্টাচার অনুযায়ী ‘হা হা’ করে উচ্চশব্দে অট্টহাসি দেওয়া অপছন্দনীয় এবং ভদ্রতার পরিপন্থী। হাসির সুন্নাহসম্মত এবং সর্বোত্তম তরিকা হলো মুচকি হাসা (তাবাসসুম), যাতে কোনো উচ্চশব্দ তৈরি হয় না।
See lessরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই শব্দ করে বা অট্টহাসি দিতেন না। তাঁর হাসি ছিল অত্যন্ত মার্জিত এবং কেবল মুচকি হাসি।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَجْمِعًا ضَاحِكًا قَطُّ حَتَّى أَرَى مِنْهُ لَهَوَاتِهِ إِنَّمَا كَانَ يَتَبَسَّمُ
অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কখনো এমন অট্টহাসি হাসতে দেখিনি যে, তাঁর আলজিভ দেখা যায়। তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮২৮ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৯৯]
তবে কখনো কখনো আনন্দদায়ক বা বিস্ময়কর কোনো বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে হাসতেন যে, তাঁর সামনের মাড়ির দাঁতগুলো প্রকাশ পেত, কিন্তু তাতেও কোনো উচ্চশব্দ হতো না।
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে জাযয়ী (রা.) বলেন:
مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ تَبَسُّمًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেয়ে বেশি মুচকি হাসতে আর কাউকে দেখিনি।” [জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৪১; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
অট্টহাসি বা অতিরিক্ত হাসাহাসি করা মুমিনের গাম্ভীর্যের পরিপন্থী এবং এটি অন্তরের জন্য চরম ক্ষতিকর। এটি মানুষের অন্তরকে ধীরে ধীরে মৃত করে দেয় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে তোলে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
وَلَا تُكْثِرِ الضَّحِكَ، فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ القَلْبَ
অর্থ: “আর তুমি অতিরিক্ত হেসো না, কারণ অতিরিক্ত হাসি অন্তরকে মৃত করে দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৩ এবং জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ২৩০৫; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
সুতরাং, একজন মুসলিমের উচিত সর্বদা গাম্ভীর্য ও ইসলামী শিষ্টাচার বজায় রাখা। শব্দ করে অট্টহাসি বর্জন করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী কেবল মুচকি হাসার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের সকলের কর্তব্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের উত্তম চরিত্র গঠন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৬২ ‣ ঋণ পরিশোধ নাকি জিহাদ, কোনটি অগ্রগণ্য?
১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ: ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা 'হুকুকুল ইবাদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামRead more
১. ঋণ পরিশোধ বনাম জিহাদ:
See lessইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার বা ‘হুকুকুল ইবাদ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের বিষয়টি এতই সংবেদনশীল যে, আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তিরও ঋণ ব্যতীত অন্য সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
يُغْفَرُ لِلشَّهِيدِ كُلُّ ذَنْبٍ إِلَّا الدَّيْنَ
অর্থ: “শহীদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তবে ঋণ ব্যতীত।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৮৬]
আপনার পরিবারের ওপর যেহেতু ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকার বিশাল অংকের ঋণ রয়েছে এবং আপনি যদি সেই ঋণ পরিশোধের জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য ঋণ পরিশোধের প্রচেষ্টা করা এবং পরিবারের পাশে থাকা অগ্রাধিকার পাবে। যদি জিহাদ বর্তমানে আপনার জন্য ‘ফরজে আইন’ না হয়ে থাকে, তবে ঋণদাতার অনুমতি ও ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা ছাড়া জিহাদে বের হওয়া সমীচীন নয়।
আপনার বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আপনার উচিত প্রথমত নিজের আক্বীদাহ ও আমলকে বিশুদ্ধ করা এবং নিজের পরিবারকে একটি দ্বীনি ঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলা। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
অর্থ: “এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।” [সূরা আশ শুআরা: ২১৪]
আপনজনদের ঈমানী দায়িত্ব ও জিহাদের জন্য প্রস্তুত না করে অন্য কোথাও চলে যাওয়া সুন্নাহর পরিপন্থী। সুতরাং আপনি ঋণ পরিশোধের জন্য হালাল উপার্জনে সচেষ্ট হোন এবং একই সাথে জিহাদের নিয়ত ও মানসিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখুন।
২. দোকানে একা সালাত আদায় প্রসঙ্গে:
একজন সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য মসজিদে জামাতের সাথে সালাত আদায় করা ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক। সামান্য পার্থিব কারণ বা চাকরির অজুহাতে জামাত ত্যাগ করা বৈধ নয়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ، ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ، فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ
অর্থ: “আমার ইচ্ছা হয় আমি সালাত কায়েমের নির্দেশ দেই এবং এক ব্যক্তিকে ইমামতি করতে বলি, এরপর আমি ওই সব লোকদের কাছে যাই যারা জামাতে উপস্থিত হয়নি এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেই।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৭ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫১]
এমনকি একজন অন্ধ ব্যক্তিকেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাতে আসার নির্দেশ দিয়েছেন যদি সে আযান শুনতে পায়। [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৫৩]
আপনার করণীয় হলো দোকানের মালিকের সাথে অত্যন্ত নম্রভাবে জামাতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা। তাকে বোঝান যে সালাতের সময় দোকান বন্ধ রাখলে বা তাকে জামাতে আসার সুযোগ দিলে ব্যবসায় বরকত হবে। সম্ভব হলে তাকেও দাওয়াত দিয়ে মসজিদে নিয়ে যান। যদি তিনি একান্তই রাজি না হন, তবে দোকানেই অন্তত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে জামাত করার চেষ্টা করুন। আর যদি এই চাকরি আপনার ফরজ ইবাদতে স্থায়ী বাধার সৃষ্টি করে, তবে এমন কর্মসংস্থান খোঁজা উচিত যেখানে আল্লাহর বিধান পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
৩. ইসলামি লেখাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে যাওয়া:
শরীয়তের মূলনীতি হলো, বাথরুমে বা অপবিত্র স্থানে এমন কিছু নিয়ে যাওয়া মাকরূহ বা নিষিদ্ধ যাতে আল্লাহর নাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম কিংবা কুরআনের কোনো আয়াত লিখিত থাকে।
আপনার হুডিতে ‘Islam is Light’ (ইসলাম হলো আলো) লেখা আছে। এটি একটি সাধারণ ইসলামি বাক্য এবং এতে আল্লাহর নাম (যেমন আল্লাহ, রব, রহমান) কিংবা রাসূলের নাম অথবা কুরআনের আয়াত সরাসরি নেই। সালাফি উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী, এই ধরনের সাধারণ বর্ণনাযুক্ত পোশাক পরে বাথরুমে প্রবেশ করা হারাম নয়। তবে দ্বীনি নিদর্শনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য যদি সম্ভব হয় সেটি ঢেকে রাখা বা পরিবর্তন করা উত্তম।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
ذَلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ شَعَائِرَ اللَّهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوبِ
অর্থ: “এটিই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলিকে সম্মান করলে তা তো তার হৃদয়ের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।” [সূরা আল হাজ্জ: ৩২]
সুতরাং ‘Islam is Light’ লেখা পোশাকে বাথরুমে যাওয়া জায়েজ হলেও আল্লাহর নাম বা কুরআনের আয়াত থাকলে তা কঠোরভাবে পরিহার করতে হবে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
প্রশ্ন নং ৬১ ‣ ইমাম কি "রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ" বলতে পারবেন?
হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর 'সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে 'রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ' পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওযRead more
হ্যাঁ, যিনি সালাতে ইমামতি করবেন, তিনিও রুকু থেকে ওঠার পর ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলার সাথে সাথে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ পড়বেন। সালাফে সালেহীন এবং মুহাদ্দিসীনদের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটিই সুন্নাহ।
See lessআবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ ও প্রসিদ্ধ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সালাতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ، ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ، ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، حِينَ يَرْفَعُ صُلْبَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ، ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ
অর্থ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতে দাঁড়াতেন তখন তাকবির বলতেন, এরপর রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন। অতঃপর যখন রুকু থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন বলতেন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলতেন ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৮৯ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৯২]
যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই ইমামতি করতেন এবং তিনি রুকু থেকে ওঠার পর এই দুটি বাক্যই পাঠ করতেন, তাই প্রত্যেক ইমামের জন্যই এই সুন্নাহটি অনুসরণ করা আবশ্যক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন:
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
অর্থ: “তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১]
প্রখ্যাত সালাফি আলেম শায়খ আবদুল আযীয ইবনে বাজ (রহ.) এবং শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল উসাইমিন (রহ.) এর ফতোয়া অনুযায়ী, ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারী ব্যক্তি রুকু থেকে ওঠার সময় ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ উভয়টিই পাঠ করবেন। আর মুক্তাদি (ইমামের পেছনে সালাত আদায়কারী) শুধু ‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ পাঠ করবেন।
সুতরাং ইমামতির দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি রুকু থেকে উঠে অবশ্যই ‘রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ বলবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী সালাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।