সফর বা ভ্রমণের সময় চার রাকাতবিশিষ্ট তিনটি ফরজ সালাতকে (যোহর, আসর এবং ইশা) কসর করে দুই রাকাত পড়া শরিয়তের বিধান। এ সময় ফরজের সাথে যুক্ত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা রাতেবা (যেমন যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সুন্নাত) না পড়াই হলো সুন্নাহ। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: صَحِبْتُ رَسRead more
সফর বা ভ্রমণের সময় চার রাকাতবিশিষ্ট তিনটি ফরজ সালাতকে (যোহর, আসর এবং ইশা) কসর করে দুই রাকাত পড়া শরিয়তের বিধান। এ সময় ফরজের সাথে যুক্ত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা রাতেবা (যেমন যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সুন্নাত) না পড়াই হলো সুন্নাহ।
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ لَا يَزِيدُ فِي السَّفَرِ عَلَى رَكْعَتَيْنِ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَذَلِكَ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করেছি, তিনি সফরে ফরজ দুই রাকাতের বেশি পড়তেন না। আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা.) এর আমলও এমনটিই ছিল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১০২]
তবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এবং বিতরের সালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থাতেও তা কখনো ছাড়তেন না।
প্রথমত, যখন মুসাফির ব্যক্তি রাস্তার মাঝে চলমান অবস্থায় থাকে, তখন তার জন্য ফরজের সাথে অন্য কোনো সুন্নাত না পড়াই উত্তম।
দ্বিতীয়ত, সফর অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে যদি সে কোনো স্থানে সাময়িক অবস্থান করে (যেমন হোটেলে বা আত্মীয়ের বাড়িতে), তখন তার জন্য কসরের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ নফল, চাশত বা তাহাজ্জুদের মতো সালাত আদায় করা জায়েজ এবং উত্তম।
আর আপনার প্রশ্নের মূল অংশটি হলো কসর শেষে মুকিম হওয়ার ব্যাপারে। যখন একজন ব্যক্তি তার সফর শেষ করে নিজ বাড়িতে বা শহরে ফিরে আসেন এবং মুকিম হয়ে যান, তখন তার ওপর থেকে সফরের সকল বিধান উঠে যায়। মুকিম অবস্থায় তাকে অন্যান্য সাধারণ সময়ের মতোই সালাত আদায় করতে হবে এবং নিয়মিত সকল সুন্নাত ও নফল সালাতগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তখন আর সুন্নাত ছাড়ার কোনো অবকাশ থাকে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি যিকির। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যটিকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু মুসা আল আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাRead more
“লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি যিকির। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যটিকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
আবু মুসা আল আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন:
يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ، أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ؟ فَقُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
অর্থ: “হে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস! আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর মধ্য থেকে একটি গুপ্তধনের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তুমি বলো: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৪ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৪]
“হাওলা” (حَوْل) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো পরিবর্তন হওয়া, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া, ফিরে আসা বা আশ্রয় নেওয়া। আর পরিভাষায় এবং এই যিকিরের প্রেক্ষাপটে “লা হাওলা” এর অর্থ হলো, আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় ছাড়া বান্দার নিজের কোনো অবস্থা পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। সালাফে সালেহীনগণ এই বাক্যটির চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই বাক্যটির তাফসিরে বলেন:
لَا حَوْلَ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِلَّا بِعِصْمَتِهِ، وَلَا قُوَّةَ عَلَى طَاعَتِهِ إِلَّا بِمَعُونَتِهِ
অর্থ: “আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপ থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় বা ক্ষমতা (হাওলা) নেই তাঁর সুরক্ষা ও আশ্রয় ছাড়া, এবং তাঁর আনুগত্য করার কোনো শক্তি (কুওয়াহ) নেই তাঁর সাহায্য ছাড়া।” [মুসনাদ আল-বাযযার, হাদিস: ৩৪৭২; হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ও আল্লামা ইরাকি (রহ.) এর সনদকে সহিহ বলেছেন]
সুতরাং, “হাওলা” বলতে এখানে নিজের অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষমতা এবং আল্লাহর আশ্রয় ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয় না থাকার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের সম্পূর্ণ অক্ষমতা স্বীকার করে নেন এবং প্রমাণ করেন যে, ভালো কাজ করার শক্তি এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর সাহায্য ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি এই যিকিরটি পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামী শরীয়তে যেকোনো প্রাণীর (যার রূহ বা প্রাণ আছে) ছবি আঁকা, ব্যবহার করা এবং এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর সালাতের মতো পবিত্র ও মহান ইবাদতের সময় এমন পোশাক পরিধান করা আরও বড় অপরাধ। যদি কোনো পোশাকে কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি অঙ্কিত থাকে, তাহলে সেই পোশাক পরে সালাত আদায় করলে সালাতRead more
ইসলামী শরীয়তে যেকোনো প্রাণীর (যার রূহ বা প্রাণ আছে) ছবি আঁকা, ব্যবহার করা এবং এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর সালাতের মতো পবিত্র ও মহান ইবাদতের সময় এমন পোশাক পরিধান করা আরও বড় অপরাধ।
যদি কোনো পোশাকে কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি অঙ্কিত থাকে, তাহলে সেই পোশাক পরে সালাত আদায় করলে সালাত হবে না। ছবিযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ এবং এটি সালাতের খুশু খুজু বা একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়। রহমতের ফেরেশতারাও এমন স্থানে প্রবেশ করেন না যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) এর একটি পর্দা ছিল, যা দিয়ে তিনি ঘরের এক দিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
أَمِيطِي عَنَّا قِرَامَكِ هَذَا، فَإِنَّهُ لَا تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ لِي فِي صَلَاتِي
অর্থ: “তোমার এই পর্দাটি আমার সামনে থেকে সরিয়ে ফেলো। কারণ সালাতরত অবস্থায় এর ছবিগুলো বারবার আমার সামনে ভেসে উঠছে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৪]
তবে ছবির ক্ষেত্রে শরিয়তের একটি সুনির্দিষ্ট ছাড় রয়েছে, যদি ছবির প্রাণকেন্দ্র অর্থাৎ মাথা বা গলার ওপরের অংশ মুছে ফেলা বা কেটে ফেলা হয় এবং বাকি অঙ্গগুলো অস্পষ্ট থাকে, যার ফলে এটি আর কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর আকৃতি বহন করে না (বরং গাছ বা জড় বস্তুর মতো মনে হয়), তবে সেই পোশাক পরিধান করা জায়েজ এবং তা পরে সালাত আদায় করলে সালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে।
এর শক্তিশালী দলিল হলো, জিবরীল (আ.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছবির ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন:
فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِي فِي الْبَيْتِ يُقْطَعُ، فَيَصِيرُ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ
অর্থ: “সুতরাং আপনি ঘরে থাকা মূর্তির (বা প্রাণীর আকৃতির) মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিন, যাতে তা গাছের রূপ ধারণ করে।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২৮০৬; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫৮; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ আসারে এসেছে:
الصُّورَةُ الرَّأْسُ، فَإِذَا قُطِعَ الرَّأْسُ فَلَيْسَ بِصُورَةٍ
অর্থ: “ছবি হলো মূলত মাথা। সুতরাং যখন মাথা কেটে ফেলা হয়, তখন তা আর ছবি থাকে না।” [সুনান আল-বায়হাকি, হাদিস: ১৪৫৮১; শায়খ আলবানি (রহ.) আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ গ্রন্থে (১৯২১ নম্বর) একে সহিহ বলেছেন]
সারসংক্ষেপ হলো, সালাতের জন্য শরীর ও পোশাক পবিত্র এবং শরিয়তসম্মত হওয়া আবশ্যক। তাই প্রাণীর স্পষ্ট ছবিযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিশুদ্ধভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাRead more
ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাজি থাকলে এবং সাক্ষী রাখলেই বিবাহ হয়ে যায়, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং সুন্নাহ পরিপন্থী।
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরুষদেরকে সরাসরি বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ
অর্থ: “আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক স্বাধীন নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিবাহ দিয়ো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২১]
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের ক্ষেত্রে ‘লা তানকিহু’ (تَنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ করো না) ব্যবহার করেছেন, যা নিজে বিবাহ করার নির্দেশ। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ‘লা তুনকিহু’ (تُنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ দিয়ো না) ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নারীদের বিবাহ দেয়।
সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মুহাদ্দিসীনদের মত হলো, অভিভাবক ছাড়া নারীর বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সহিহ হাদিস রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ
অর্থ: “অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ
অর্থ: “যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৩; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ১১০২; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
আর যে নারী নিজেই নিজের বিবাহ দেয়, তার ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে:
لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِيَ الَّتِي تُزَوِّجُ نَفْسَهَا
অর্থ: “এক নারী অন্য নারীকে বিবাহ দিতে পারবে না, আর কোনো নারী নিজেও নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারবে না। কেননা ব্যভিচারিণী নারীই কেবল নিজেই নিজের বিবাহ দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৮২; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
হানাফি মাজহাবে অভিভাবক ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার কথা বলা হলেও, আহলে হাদিস ও সালাফদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুযায়ী উপরের সহিহ হাদিসগুলোর ভিত্তিতে অভিভাবকহীন বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি অভিভাবক ছাড়া এমন বিবাহ হয়েও যায়, তবে পরবর্তীতে অভিভাবক যদি সম্মতি দেন, তাহলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুনরায় শরয়ি আকদ করতে হবে।
পরিশেষে, পালিয়ে বিবাহ করার বিষয়টি শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম। কারণ পালিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়ের মাঝে পূর্ব থেকেই অবৈধ যোগাযোগ, অবাধ মেলামেশা এবং হিজাবের বিধান লঙ্ঘন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা ইসলামে জিনার (ব্যভিচার) দরজা খুলে দেয়। একজন মুমিন নারী ও পুরুষের জন্য এমন ঘৃণ্য পথ অবলম্বন করা কখনোই বৈধ নয়। উপযুক্ত সময়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী দেখে বিবাহ করাই ইসলামের সুন্দরতম বিধান।
দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা 'ইস্তিকামাত' লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলRead more
দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা ‘ইস্তিকামাত’ লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলে ধরা হলো:
১. তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করা:
দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং জীবনে কোনো প্রকার শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটতে না দেওয়া। যাবতীয় ইবাদত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সহিহ তরিকা অনুযায়ী পালন করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।” [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]
২. ফরজ ইবাদত পালন ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে। কারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে।
হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
অর্থ: “আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২]
৩. বেশি বেশি দোয়া করা:
অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাই তাঁর কাছে সর্বদা দোয়া করতে হবে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” [সূরা আলে ইমরান: ৮]
৪. অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখা:
যিকির অন্তরকে সজীব রাখে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আর-রাদ: ২৮]
৫. আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
যেকোনো মূল্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ গুনাহের কারণে অন্তর থেকে ঈমানের নূর কমে যায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর ইস্তিকামাত নসিব করুন।
প্রশ্ন নং ৫৩ ‣ কসর শেষে মুকীম হলে নফল সুন্নত সালাত আদায় করা যাবে কি?
সফর বা ভ্রমণের সময় চার রাকাতবিশিষ্ট তিনটি ফরজ সালাতকে (যোহর, আসর এবং ইশা) কসর করে দুই রাকাত পড়া শরিয়তের বিধান। এ সময় ফরজের সাথে যুক্ত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা রাতেবা (যেমন যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সুন্নাত) না পড়াই হলো সুন্নাহ। সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: صَحِبْتُ رَسRead more
সফর বা ভ্রমণের সময় চার রাকাতবিশিষ্ট তিনটি ফরজ সালাতকে (যোহর, আসর এবং ইশা) কসর করে দুই রাকাত পড়া শরিয়তের বিধান। এ সময় ফরজের সাথে যুক্ত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা রাতেবা (যেমন যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সুন্নাত) না পড়াই হলো সুন্নাহ।
See lessসাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ لَا يَزِيدُ فِي السَّفَرِ عَلَى رَكْعَتَيْنِ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَذَلِكَ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করেছি, তিনি সফরে ফরজ দুই রাকাতের বেশি পড়তেন না। আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা.) এর আমলও এমনটিই ছিল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১০২]
তবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এবং বিতরের সালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থাতেও তা কখনো ছাড়তেন না।
প্রথমত, যখন মুসাফির ব্যক্তি রাস্তার মাঝে চলমান অবস্থায় থাকে, তখন তার জন্য ফরজের সাথে অন্য কোনো সুন্নাত না পড়াই উত্তম।
দ্বিতীয়ত, সফর অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে যদি সে কোনো স্থানে সাময়িক অবস্থান করে (যেমন হোটেলে বা আত্মীয়ের বাড়িতে), তখন তার জন্য কসরের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ নফল, চাশত বা তাহাজ্জুদের মতো সালাত আদায় করা জায়েজ এবং উত্তম।
আর আপনার প্রশ্নের মূল অংশটি হলো কসর শেষে মুকিম হওয়ার ব্যাপারে। যখন একজন ব্যক্তি তার সফর শেষ করে নিজ বাড়িতে বা শহরে ফিরে আসেন এবং মুকিম হয়ে যান, তখন তার ওপর থেকে সফরের সকল বিধান উঠে যায়। মুকিম অবস্থায় তাকে অন্যান্য সাধারণ সময়ের মতোই সালাত আদায় করতে হবে এবং নিয়মিত সকল সুন্নাত ও নফল সালাতগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তখন আর সুন্নাত ছাড়ার কোনো অবকাশ থাকে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৫২ ‣ লা-হাওলা ওয়া-লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। এখানে "হাওলা" শব্দের অর্থ কী?
"লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি যিকির। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যটিকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু মুসা আল আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাRead more
“লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ একটি যিকির। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বাক্যটিকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর অন্যতম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
See lessআবু মুসা আল আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন:
يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ، أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الجَنَّةِ؟ فَقُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
অর্থ: “হে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস! আমি কি তোমাকে জান্নাতের গুপ্তধনগুলোর মধ্য থেকে একটি গুপ্তধনের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, হ্যাঁ হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, তুমি বলো: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৪ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৪]
“হাওলা” (حَوْل) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো পরিবর্তন হওয়া, এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়া, ফিরে আসা বা আশ্রয় নেওয়া। আর পরিভাষায় এবং এই যিকিরের প্রেক্ষাপটে “লা হাওলা” এর অর্থ হলো, আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় ছাড়া বান্দার নিজের কোনো অবস্থা পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই। সালাফে সালেহীনগণ এই বাক্যটির চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এই বাক্যটির তাফসিরে বলেন:
لَا حَوْلَ عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ إِلَّا بِعِصْمَتِهِ، وَلَا قُوَّةَ عَلَى طَاعَتِهِ إِلَّا بِمَعُونَتِهِ
অর্থ: “আল্লাহর অবাধ্যতা ও পাপ থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় বা ক্ষমতা (হাওলা) নেই তাঁর সুরক্ষা ও আশ্রয় ছাড়া, এবং তাঁর আনুগত্য করার কোনো শক্তি (কুওয়াহ) নেই তাঁর সাহায্য ছাড়া।” [মুসনাদ আল-বাযযার, হাদিস: ৩৪৭২; হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি ও আল্লামা ইরাকি (রহ.) এর সনদকে সহিহ বলেছেন]
সুতরাং, “হাওলা” বলতে এখানে নিজের অবস্থা পরিবর্তনের ক্ষমতা এবং আল্লাহর আশ্রয় ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয় না থাকার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন মুমিন নিজের সম্পূর্ণ অক্ষমতা স্বীকার করে নেন এবং প্রমাণ করেন যে, ভালো কাজ করার শক্তি এবং মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর সাহায্য ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি এই যিকিরটি পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৫১ ‣ প্রাণীর ছবিযুক্ত কাপড়ে সালাত আদায় করা যাবে কি?
ইসলামী শরীয়তে যেকোনো প্রাণীর (যার রূহ বা প্রাণ আছে) ছবি আঁকা, ব্যবহার করা এবং এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর সালাতের মতো পবিত্র ও মহান ইবাদতের সময় এমন পোশাক পরিধান করা আরও বড় অপরাধ। যদি কোনো পোশাকে কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি অঙ্কিত থাকে, তাহলে সেই পোশাক পরে সালাত আদায় করলে সালাতRead more
ইসলামী শরীয়তে যেকোনো প্রাণীর (যার রূহ বা প্রাণ আছে) ছবি আঁকা, ব্যবহার করা এবং এমন ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আর সালাতের মতো পবিত্র ও মহান ইবাদতের সময় এমন পোশাক পরিধান করা আরও বড় অপরাধ।
See lessযদি কোনো পোশাকে কোনো প্রাণীর স্পষ্ট ছবি অঙ্কিত থাকে, তাহলে সেই পোশাক পরে সালাত আদায় করলে সালাত হবে না। ছবিযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করা নিষিদ্ধ এবং এটি সালাতের খুশু খুজু বা একাগ্রতা নষ্ট করে দেয়। রহমতের ফেরেশতারাও এমন স্থানে প্রবেশ করেন না যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আয়েশা (রা.) এর একটি পর্দা ছিল, যা দিয়ে তিনি ঘরের এক দিক ঢেকে রেখেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
أَمِيطِي عَنَّا قِرَامَكِ هَذَا، فَإِنَّهُ لَا تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ لِي فِي صَلَاتِي
অর্থ: “তোমার এই পর্দাটি আমার সামনে থেকে সরিয়ে ফেলো। কারণ সালাতরত অবস্থায় এর ছবিগুলো বারবার আমার সামনে ভেসে উঠছে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৭৪]
তবে ছবির ক্ষেত্রে শরিয়তের একটি সুনির্দিষ্ট ছাড় রয়েছে, যদি ছবির প্রাণকেন্দ্র অর্থাৎ মাথা বা গলার ওপরের অংশ মুছে ফেলা বা কেটে ফেলা হয় এবং বাকি অঙ্গগুলো অস্পষ্ট থাকে, যার ফলে এটি আর কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রাণীর আকৃতি বহন করে না (বরং গাছ বা জড় বস্তুর মতো মনে হয়), তবে সেই পোশাক পরিধান করা জায়েজ এবং তা পরে সালাত আদায় করলে সালাত শুদ্ধ হয়ে যাবে।
এর শক্তিশালী দলিল হলো, জিবরীল (আ.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ছবির ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন:
فَمُرْ بِرَأْسِ التِّمْثَالِ الَّذِي فِي الْبَيْتِ يُقْطَعُ، فَيَصِيرُ كَهَيْئَةِ الشَّجَرَةِ
অর্থ: “সুতরাং আপনি ঘরে থাকা মূর্তির (বা প্রাণীর আকৃতির) মাথা কেটে ফেলার নির্দেশ দিন, যাতে তা গাছের রূপ ধারণ করে।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২৮০৬; সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪১৫৮; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও প্রখ্যাত সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিশুদ্ধ আসারে এসেছে:
الصُّورَةُ الرَّأْسُ، فَإِذَا قُطِعَ الرَّأْسُ فَلَيْسَ بِصُورَةٍ
অর্থ: “ছবি হলো মূলত মাথা। সুতরাং যখন মাথা কেটে ফেলা হয়, তখন তা আর ছবি থাকে না।” [সুনান আল-বায়হাকি, হাদিস: ১৪৫৮১; শায়খ আলবানি (রহ.) আস-সিলসিলাতুস সহিহাহ গ্রন্থে (১৯২১ নম্বর) একে সহিহ বলেছেন]
সারসংক্ষেপ হলো, সালাতের জন্য শরীর ও পোশাক পবিত্র এবং শরিয়তসম্মত হওয়া আবশ্যক। তাই প্রাণীর স্পষ্ট ছবিযুক্ত পোশাকে সালাত আদায় করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বিশুদ্ধভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
প্রশ্ন নং ৫০ ‣ পালিয়ে বিবাহ করা কি বৈধ?
ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাRead more
ইসলামী শরীয়তে বিবাহের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের বিধানে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নিজের বিবাহের আকদ নিজেই সম্পন্ন করতে পারে। কিন্তু কোনো নারী নিজে নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারে না। নারীর বিবাহের জন্য তার অভিভাবক (ওয়ালি) এর উপস্থিতি ও সম্মতি শর্ত। তাই ছেলে-মেয়ে শুধু নিজেরা রাজি থাকলে এবং সাক্ষী রাখলেই বিবাহ হয়ে যায়, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল এবং সুন্নাহ পরিপন্থী।
See lessকুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পুরুষদেরকে সরাসরি বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তাদের মেয়েদের বিবাহ দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ
অর্থ: “আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাসী একজন মুশরিক স্বাধীন নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে। আর মুমিন না হওয়া পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে (তোমাদের নারীদের) বিবাহ দিয়ো না। অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২২১]
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পুরুষদের ক্ষেত্রে ‘লা তানকিহু’ (تَنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ করো না) ব্যবহার করেছেন, যা নিজে বিবাহ করার নির্দেশ। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ‘লা তুনকিহু’ (تُنْكِحُوا – তোমরা বিবাহ দিয়ো না) ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ অভিভাবকদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নারীদের বিবাহ দেয়।
সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) মুহাদ্দিসীনদের মত হলো, অভিভাবক ছাড়া নারীর বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ও সহিহ হাদিস রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ
অর্থ: “অভিভাবক (ওয়ালি) ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ
অর্থ: “যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ করবে, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২০৮৩; জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ১১০২; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
আর যে নারী নিজেই নিজের বিবাহ দেয়, তার ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে:
لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا فَإِنَّ الزَّانِيَةَ هِيَ الَّتِي تُزَوِّجُ نَفْسَهَا
অর্থ: “এক নারী অন্য নারীকে বিবাহ দিতে পারবে না, আর কোনো নারী নিজেও নিজের বিবাহ সম্পন্ন করতে পারবে না। কেননা ব্যভিচারিণী নারীই কেবল নিজেই নিজের বিবাহ দেয়।” [সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৮২; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
হানাফি মাজহাবে অভিভাবক ছাড়া প্রাপ্তবয়স্কা নারীর বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার কথা বলা হলেও, আহলে হাদিস ও সালাফদের বিশুদ্ধ মানহাজ অনুযায়ী উপরের সহিহ হাদিসগুলোর ভিত্তিতে অভিভাবকহীন বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে। যদি অভিভাবক ছাড়া এমন বিবাহ হয়েও যায়, তবে পরবর্তীতে অভিভাবক যদি সম্মতি দেন, তাহলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নতুন করে মোহরানা নির্ধারণ করে সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুনরায় শরয়ি আকদ করতে হবে।
পরিশেষে, পালিয়ে বিবাহ করার বিষয়টি শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম। কারণ পালিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলে-মেয়ের মাঝে পূর্ব থেকেই অবৈধ যোগাযোগ, অবাধ মেলামেশা এবং হিজাবের বিধান লঙ্ঘন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা ইসলামে জিনার (ব্যভিচার) দরজা খুলে দেয়। একজন মুমিন নারী ও পুরুষের জন্য এমন ঘৃণ্য পথ অবলম্বন করা কখনোই বৈধ নয়। উপযুক্ত সময়ে অভিভাবকদের মাধ্যমে দ্বীনদার পাত্র-পাত্রী দেখে বিবাহ করাই ইসলামের সুন্দরতম বিধান।
প্রশ্ন নং ৪৯ ‣ কীভাবে দ্বীনের উপর স্থির থাকা যায়?
দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা 'ইস্তিকামাত' লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলRead more
দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা ‘ইস্তিকামাত’ লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলে ধরা হলো:
See less১. তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করা:
দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং জীবনে কোনো প্রকার শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটতে না দেওয়া। যাবতীয় ইবাদত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সহিহ তরিকা অনুযায়ী পালন করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।” [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]
২. ফরজ ইবাদত পালন ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে। কারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে।
হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
অর্থ: “আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২]
৩. বেশি বেশি দোয়া করা:
অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাই তাঁর কাছে সর্বদা দোয়া করতে হবে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” [সূরা আলে ইমরান: ৮]
৪. অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখা:
যিকির অন্তরকে সজীব রাখে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আর-রাদ: ২৮]
৫. আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
যেকোনো মূল্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ গুনাহের কারণে অন্তর থেকে ঈমানের নূর কমে যায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর ইস্তিকামাত নসিব করুন।