জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় জিহাদ হলো ‘ফরজে কিফায়া’ বা সামষ্টিক ফরজ। অর্থাৎ, মুসলিমদের মধ্য থেকে একটি দল বা অংশ যদি জিহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দেন, তবে বাকিদের ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউই এই দায়িত্ব পালন না করে, তবে সক্ষম সকল মুসলিমই ফরজ লঙ্ঘনের কারণে গুনাহগার হবে।
তবে সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর ফুকাহায়ে কেরামের ঐকমত্যে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অবস্থায় জিহাদ প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের ওপর ‘ফরজে আইন’ বা ব্যক্তিগত ফরজ হয়ে যায়। এই অবস্থাগুলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করা হলো:
১. মুসলিম ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে:
কোনো মুসলিম ভূখণ্ড যদি কাফির বা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন সেই ভূখণ্ড এবং নিজেদের জান, মাল ও দ্বীন রক্ষা করা ঐ অঞ্চলের সকল মুসলিমের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। ইসলামী ফিকহে একে ‘দাফউস সায়িল’ বা আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা বলা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, “আক্রমণকারী শত্রুকে প্রতিহত করার চেয়ে ঈমানের পর অন্য কোনো ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।” [আল ফাতাওয়া আল কুবরা]
যদি ঐ অঞ্চলের মুসলিমরা তাদের ভূমি রক্ষা করতে সক্ষম না হন, তবে তাদের নিকটবর্তী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মুসলিমদের ওপরও জিহাদ ফরজে আইন হয়। তারাও সক্ষম না হলে তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের ওপর ফরজ হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে শত্রুকে প্রতিহত করা পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর এটি ফরজে আইন হিসেবে বর্তায়।
২. দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করার ক্ষেত্রে:
শত্রুর কবল থেকে দখলকৃত মুসলিম ভূমি উদ্ধার করার জন্যও জিহাদ ফরজে আইন। যতদিন পর্যন্ত না সেই ভূমি সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়, এই ফরজ দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে মুসলিম উম্মাহর ওপর বহাল থাকে।
৩. নির্যাতিত মুসলিমদের সাহায্যার্থে:
যদি কোনো মুসলিম ভাই বোনেরা শত্রু কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে অন্য মুসলিমদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তখন তাদেরকে উদ্ধার করা নিকটবর্তী মুসলিমদের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। তারা সক্ষম না হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মুসলিমদের ওপর তা ফরজ হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদেরকে এই নির্দেশ দিয়ে বলেন:
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ
অর্থ: “তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের রক্ষার্থে যুদ্ধ করছ না?” [সূরা আন-নিসা: ৭৫]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ
অর্থ: “তবে তারা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তবে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য।” [সূরা আল-আনফাল: ৭২]
উম্মাহর এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى
অর্থ: “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দৃষ্টান্ত একটি দেহের ন্যায়। যখন তার কোনো একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন গোটা দেহ জ্বর ও অনিদ্রায় ভুগে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৬]
যে অবস্থায় জিহাদ ফরজে কিফায়া থাকে, তখনও প্রতিটি মুসলিমকে অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় হাদিসের ভাষ্যমতে তার মাঝে মুনাফেকির শাখা থেকে যায়। আর জিহাদ যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি মহান ফরজ ইবাদত, এই দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা সকল সক্ষম মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। যারা জিহাদকে ফরজ ইবাদত হিসেবে স্বীকার করে না বা অস্বীকার করে, তারা আল্লাহর একটি অকাট্য বিধান লঙ্ঘনের কারণে ভয়াবহ অপরাধী হিসেবে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ ইসলামের অন্যতম একটি সর্বোচ্চ ইবাদত। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় জিহাদ হলো ‘ফরজে কিফায়া’ বা সামষ্টিক ফরজ। অর্থাৎ, মুসলিমদের মধ্য থেকে একটি দল বা অংশ যদি জিহাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে আঞ্জাম দেন, তবে বাকিদের ওপর থেকে এর বাধ্যবাধকতা রহিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি কেউই এই দায়িত্ব পালন না করে, তবে সক্ষম সকল মুসলিমই ফরজ লঙ্ঘনের কারণে গুনাহগার হবে।
তবে সালাফে সালেহীন এবং জুমহুর ফুকাহায়ে কেরামের ঐকমত্যে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অবস্থায় জিহাদ প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের ওপর ‘ফরজে আইন’ বা ব্যক্তিগত ফরজ হয়ে যায়। এই অবস্থাগুলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোচনা করা হলো:
১. মুসলিম ভূখণ্ড আক্রান্ত হলে:
কোনো মুসলিম ভূখণ্ড যদি কাফির বা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন সেই ভূখণ্ড এবং নিজেদের জান, মাল ও দ্বীন রক্ষা করা ঐ অঞ্চলের সকল মুসলিমের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। ইসলামী ফিকহে একে ‘দাফউস সায়িল’ বা আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা বলা হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, “আক্রমণকারী শত্রুকে প্রতিহত করার চেয়ে ঈমানের পর অন্য কোনো ফরজ অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।” [আল ফাতাওয়া আল কুবরা]
যদি ঐ অঞ্চলের মুসলিমরা তাদের ভূমি রক্ষা করতে সক্ষম না হন, তবে তাদের নিকটবর্তী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মুসলিমদের ওপরও জিহাদ ফরজে আইন হয়। তারাও সক্ষম না হলে তাদের নিকটবর্তী অঞ্চলের ওপর ফরজ হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে শত্রুকে প্রতিহত করা পর্যন্ত সারা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর এটি ফরজে আইন হিসেবে বর্তায়।
২. দখলকৃত ভূমি উদ্ধার করার ক্ষেত্রে:
শত্রুর কবল থেকে দখলকৃত মুসলিম ভূমি উদ্ধার করার জন্যও জিহাদ ফরজে আইন। যতদিন পর্যন্ত না সেই ভূমি সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়, এই ফরজ দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে মুসলিম উম্মাহর ওপর বহাল থাকে।
৩. নির্যাতিত মুসলিমদের সাহায্যার্থে:
যদি কোনো মুসলিম ভাই বোনেরা শত্রু কর্তৃক নির্যাতিত হয়ে অন্য মুসলিমদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তখন তাদেরকে উদ্ধার করা নিকটবর্তী মুসলিমদের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়। তারা সক্ষম না হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মুসলিমদের ওপর তা ফরজ হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদেরকে এই নির্দেশ দিয়ে বলেন:
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ
অর্থ: “তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের রক্ষার্থে যুদ্ধ করছ না?” [সূরা আন-নিসা: ৭৫]
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَإِنِ اسْتَنْصَرُوكُمْ فِي الدِّينِ فَعَلَيْكُمُ النَّصْرُ
অর্থ: “তবে তারা যদি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, তবে তাদেরকে সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য।” [সূরা আল-আনফাল: ৭২]
উম্মাহর এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন:
مَثَلُ الْمُؤْمِنِينَ فِي تَوَادِّهِمْ وَتَرَاحُمِهِمْ وَتَعَاطُفِهِمْ مَثَلُ الْجَسَدِ إِذَا اشْتَكَى مِنْهُ عُضْوٌ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ الْجَسَدِ بِالسَّهَرِ وَالْحُمَّى
অর্থ: “মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহানুভূতির দৃষ্টান্ত একটি দেহের ন্যায়। যখন তার কোনো একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয়, তখন গোটা দেহ জ্বর ও অনিদ্রায় ভুগে।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৬]
যে অবস্থায় জিহাদ ফরজে কিফায়া থাকে, তখনও প্রতিটি মুসলিমকে অন্তরে জিহাদের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতে হবে। অন্যথায় হাদিসের ভাষ্যমতে তার মাঝে মুনাফেকির শাখা থেকে যায়। আর জিহাদ যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি মহান ফরজ ইবাদত, এই দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করা সকল সক্ষম মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। যারা জিহাদকে ফরজ ইবাদত হিসেবে স্বীকার করে না বা অস্বীকার করে, তারা আল্লাহর একটি অকাট্য বিধান লঙ্ঘনের কারণে ভয়াবহ অপরাধী হিসেবে পরিগণিত হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।