ফজরের আজানে আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম এর জবাব কি হবে? আর সলাতে ইকামতের উত্তরে কি বলতে হয়?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
আযানের জবাব দেওয়া একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। মুয়াজ্জিন যা বলেন, আযানের জবাবে শ্রোতারও হুবহু তা বলা সুন্নাহ। এর দলিল হলো আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন:
إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ
অর্থ: “যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তার অনুরূপ বলবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৩]
এই সহিহ হাদিসের ব্যাপকতার ভিত্তিতে, ফজরের আযানে মুয়াজ্জিন যখন “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” (ঘুমের চেয়ে সালাত উত্তম) বলবেন, তখন এর জবাবে শ্রোতাকেও হুবহু “আস সালাতু খাইরুম মিনান নাউম” বলতে হবে। আমাদের সমাজে অনেকেই এই বাক্যের জবাবে “সাদাকতা ওয়া বারারতা” বলে থাকেন। কিন্তু সালাফে সালেহীন ও মুহাদ্দিসীনদের মতে এই শব্দগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই, তাই এটি বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ইকামতের জবাবের বিষয়টি। উলামায়ে কেরামের বিশুদ্ধ তাহকিক অনুযায়ী, ইকামতের আলাদা কোনো জবাব শরিয়তে সাব্যস্ত নেই।
ইকামতের সময় “ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ” এর জবাবে “আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা” বলার যে রেওয়ায়েতটি আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, মুহাদ্দিসীনদের সর্বসম্মত মত অনুযায়ী তা যয়িফ বা দুর্বল। শায়খ আলবানি (রহ.) সুনান আবু দাউদের (হাদিস নম্বর: ৫২৮) তাহকিকে এই বর্ণনাটিকে যয়িফ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যেহেতু ইকামতের নির্দিষ্ট জবাবের বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো সনদের দিক থেকে দুর্বল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ইকামতের জবাব দেওয়ার কোনো সহিহ আমল প্রমাণিত নয়, তাই ইকামতের সময় চুপ থাকাই বিশুদ্ধ সুন্নাহ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সহিহ সুন্নাহ জানার এবং তার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।