কসরের সময় শেষে মুকীম হলে নফল সুন্নত সালাত আদায় করা যাবে কি?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
সফর বা ভ্রমণের সময় চার রাকাতবিশিষ্ট তিনটি ফরজ সালাতকে (যোহর, আসর এবং ইশা) কসর করে দুই রাকাত পড়া শরিয়তের বিধান। এ সময় ফরজের সাথে যুক্ত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা রাতেবা (যেমন যোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সুন্নাত) না পড়াই হলো সুন্নাহ।
সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ لَا يَزِيدُ فِي السَّفَرِ عَلَى رَكْعَتَيْنِ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَذَلِكَ
অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সফর করেছি, তিনি সফরে ফরজ দুই রাকাতের বেশি পড়তেন না। আবু বকর, উমর এবং উসমান (রা.) এর আমলও এমনটিই ছিল। [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১০২]
তবে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এবং বিতরের সালাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থাতেও তা কখনো ছাড়তেন না।
প্রথমত, যখন মুসাফির ব্যক্তি রাস্তার মাঝে চলমান অবস্থায় থাকে, তখন তার জন্য ফরজের সাথে অন্য কোনো সুন্নাত না পড়াই উত্তম।
দ্বিতীয়ত, সফর অবস্থায় গন্তব্যে পৌঁছে যদি সে কোনো স্থানে সাময়িক অবস্থান করে (যেমন হোটেলে বা আত্মীয়ের বাড়িতে), তখন তার জন্য কসরের পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ নফল, চাশত বা তাহাজ্জুদের মতো সালাত আদায় করা জায়েজ এবং উত্তম।
আর আপনার প্রশ্নের মূল অংশটি হলো কসর শেষে মুকিম হওয়ার ব্যাপারে। যখন একজন ব্যক্তি তার সফর শেষ করে নিজ বাড়িতে বা শহরে ফিরে আসেন এবং মুকিম হয়ে যান, তখন তার ওপর থেকে সফরের সকল বিধান উঠে যায়। মুকিম অবস্থায় তাকে অন্যান্য সাধারণ সময়ের মতোই সালাত আদায় করতে হবে এবং নিয়মিত সকল সুন্নাত ও নফল সালাতগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হবে। তখন আর সুন্নাত ছাড়ার কোনো অবকাশ থাকে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।