যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাদাকা (যাকাত) হচ্ছে ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস বা বন্দি মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদে) এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৬০]
আয়াত অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত হলো:
১. ফকির (দরিদ্র ব্যক্তি যার জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই)।
২. মিসকিন (অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি, যার কিছু সম্পদ থাকলেও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়)।
৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী (যাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায়, সংরক্ষণ ও বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়)।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, যেমন নওমুসলিম)।
৫. দাস বা বন্দি মুক্তি।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যে হালাল প্রয়োজনে ঋণ করেছে কিন্তু পরিশোধে অক্ষম)।
৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় (দ্বীনের বিজয়ের জন্য জিহাদরত মুজাহিদ)।
৮. মুসাফির (সফর অবস্থায় যে ব্যক্তি সম্পদহীন হয়ে পড়েছে)।
যাকাতের অর্থ এই আটটি খাতের যেকোনো একটিতে অথবা একাধিক খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়। তবে আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী আয়াতে প্রথম ৪টি খাতের শুরুতে ‘লাম’ (لِ) অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যা মালিকানা (তামলীক) বোঝায়। আর শেষের ৪টি খাতের শুরুতে ‘ফি’ (فِي) ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাত্র বা ক্ষেত্র (যরফ) বোঝায়। এর মাধ্যমে শেষের খাতগুলোতে, বিশেষ করে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে যাকাত ব্যয়ের বিশালতা ও গুরুত্বকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
যাকাত আদায় ও বণ্টনের মূল দায়িত্ব হলো ইসলামী রাষ্ট্রের। ইসলামী রাষ্ট্র জনগণের যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব রাখবে এবং বছর পূর্ণ হলে তা সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সময়ের চাহিদানুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বণ্টন করবে। আর যাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন এই যাকাতের ফান্ড থেকেই দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন:
تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
অর্থ: “তাদের ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯]
যদি কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তার থেকে জোরপূর্বক যাকাত আদায় করার এবং শাস্তিস্বরূপ তার সম্পদের একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করার। মূল উত্তরে উমর (রা.) এর কথা বলা হলেও, এটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্পষ্ট নির্দেশ।
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ
অর্থ: “যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত আদায় করবে, সে তার প্রতিদান পাবে। আর যে তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমরা তার কাছ থেকে তা জোরপূর্বক আদায় করব এবং সাথে তার অর্ধেক সম্পদও জরিমানা হিসেবে নিয়ে নেব। এটি আমাদের রবের অবশ্য পালনীয় নির্দেশাবলির একটি।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৭৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]
সুতরাং, যাকাত কোনো সাধারণ দান নয়, বরং এটি আল্লাহর ফরজ বিধান, যা নির্দিষ্ট খাতগুলোতেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
যাকাত ইসলামের তৃতীয় রোকন এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকাত ব্যয়ের ৮টি সুনির্দিষ্ট খাত বর্ণনা করেছেন। এই খাতগুলোর বাইরে অন্য কোথাও যাকাতের অর্থ ব্যয় করা শরিয়তসম্মত নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাদাকা (যাকাত) হচ্ছে ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস বা বন্দি মুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে (জিহাদে) এবং মুসাফিরের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ: ৬০]
আয়াত অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত হলো:
১. ফকির (দরিদ্র ব্যক্তি যার জীবনধারণের ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই)।
২. মিসকিন (অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি, যার কিছু সম্পদ থাকলেও প্রয়োজন মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়)।
৩. যাকাত আদায়কারী কর্মচারী (যাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায়, সংরক্ষণ ও বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়)।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, যেমন নওমুসলিম)।
৫. দাস বা বন্দি মুক্তি।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যে হালাল প্রয়োজনে ঋণ করেছে কিন্তু পরিশোধে অক্ষম)।
৭. ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় (দ্বীনের বিজয়ের জন্য জিহাদরত মুজাহিদ)।
৮. মুসাফির (সফর অবস্থায় যে ব্যক্তি সম্পদহীন হয়ে পড়েছে)।
যাকাতের অর্থ এই আটটি খাতের যেকোনো একটিতে অথবা একাধিক খাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা যায়। তবে আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী আয়াতে প্রথম ৪টি খাতের শুরুতে ‘লাম’ (لِ) অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, যা মালিকানা (তামলীক) বোঝায়। আর শেষের ৪টি খাতের শুরুতে ‘ফি’ (فِي) ব্যবহার করা হয়েছে, যা পাত্র বা ক্ষেত্র (যরফ) বোঝায়। এর মাধ্যমে শেষের খাতগুলোতে, বিশেষ করে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ক্ষেত্রে যাকাত ব্যয়ের বিশালতা ও গুরুত্বকে আরও জোরালো করা হয়েছে।
যাকাত আদায় ও বণ্টনের মূল দায়িত্ব হলো ইসলামী রাষ্ট্রের। ইসলামী রাষ্ট্র জনগণের যাকাতযোগ্য সম্পদের হিসাব রাখবে এবং বছর পূর্ণ হলে তা সংগ্রহ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সময়ের চাহিদানুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বণ্টন করবে। আর যাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মচারীদের বেতন এই যাকাতের ফান্ড থেকেই দেওয়া হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) কে ইয়েমেনে পাঠানোর সময় নির্দেশ দিয়েছিলেন:
تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ
অর্থ: “তাদের ধনীদের কাছ থেকে যাকাত আদায় করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩৯৫ এবং সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯]
যদি কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে তার থেকে জোরপূর্বক যাকাত আদায় করার এবং শাস্তিস্বরূপ তার সম্পদের একটি অংশ বাজেয়াপ্ত করার। মূল উত্তরে উমর (রা.) এর কথা বলা হলেও, এটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুস্পষ্ট নির্দেশ।
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ
অর্থ: “যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় যাকাত আদায় করবে, সে তার প্রতিদান পাবে। আর যে তা দিতে অস্বীকৃতি জানাবে, আমরা তার কাছ থেকে তা জোরপূর্বক আদায় করব এবং সাথে তার অর্ধেক সম্পদও জরিমানা হিসেবে নিয়ে নেব। এটি আমাদের রবের অবশ্য পালনীয় নির্দেশাবলির একটি।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৭৫; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন]
সুতরাং, যাকাত কোনো সাধারণ দান নয়, বরং এটি আল্লাহর ফরজ বিধান, যা নির্দিষ্ট খাতগুলোতেই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করা অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিকভাবে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।