বহুবার বুঝানোর পরও সন্তান সালাত সময়মতো জামাতের সাথে আদায় না করলে পিতার করণীয় কী?
Please briefly explain why you feel this question should be reported.
Please briefly explain why you feel this answer should be reported.
Please briefly explain why you feel this user should be reported.
সন্তানকে দ্বীনের ওপর গড়ে তোলা এবং সালাতে অভ্যস্ত করা পিতা মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলামী শরীয়তে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে সালাতের জন্য নির্দেশ দেওয়ার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ
অর্থ: “তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের নির্দেশ দাও। আর যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়, তখন সালাত আদায় না করলে তাদেরকে প্রহার করো (শাসন করো)।” [সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৫; শায়খ আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে হাসান সহিহ বলেছেন]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই সুন্নাহ অনুযায়ী সন্তানকে শৈশব থেকেই গড়ে তুললে, পরবর্তীতে তাদের সালাতে অমনোযোগী বা বেনামাজি হওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে।
তবে এরপরও যদি কোনো সন্তান সালাতে অবহেলা করে এবং বারবার বোঝানোর পরও জামাতের সাথে সালাত আদায় না করে, তবে পিতার দায়িত্ব হলো হাল না ছেড়ে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কারণ পিতা হলেন তার পরিবারের দায়িত্বশীল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
الرَّجُلُ رَاعٍ فِي أَهْلِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
অর্থ: “পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক, এবং তাকে তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত করা হবে।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯৩]
এ অবস্থায় পিতার করণীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নসিহত ও আখিরাতের ভয় প্রদর্শন: সন্তানকে জাহান্নামের আজাব এবং সালাত তরক করার ভয়াবহ পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও।” [সূরা আত-তাহরীম: ৬]
২. সম্পর্ক ছিন্ন না করে হিকমাহর সাথে শাসন: সালাফে সালেহীন এবং সমসাময়িক উলামায়ে কেরাম (যেমন শায়খ ইবনে বাজ ও শায়খ ইবনে উসাইমিন রহ.) এর ফতোয়া অনুযায়ী, সন্তান বেনামাজি হলে তার সাথে তখনই সম্পর্ক ছিন্ন করা (হাজর করা) উচিত নয়, যদি সম্পর্ক ছিন্ন করলে সে আরও বেশি অবাধ্য বা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বরং তাকে কাছে রেখে, বুঝিয়ে এবং হিকমাহর সাথে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শরীয়তে সম্পর্ক ছিন্ন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সংশোধন করা, যদি তা বৃহত্তর ক্ষতির কারণ হয় তবে তা সাময়িকভাবে পরিহার করে নসিহত চালিয়ে যেতে হবে।
৩. অবিরাম দোয়া করা: পিতা মাতার দোয়া সন্তানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং তা দ্রুত কবুল হয়। সন্তানের হিদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি কান্নাকাটি করে দোয়া করতে হবে। বিশেষ করে রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদের সালাতে সিজদাহরত অবস্থায় দোয়া করা উত্তম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
অর্থ: “বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদাহরত থাকে। সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি দোয়া করো।” [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮২]
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।” [সূরা আল-ফুরকান: ৭৪]
পিতা হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো ধৈর্য ধারণ করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। হিদায়াত দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এভাবে নিরলস চেষ্টা ও দোয়া অব্যাহত রাখলে আশা করা যায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে দ্বীনের প্রতি অনুরাগী করবেন। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।