দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা ‘ইস্তিকামাত’ লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলে ধরা হলো:
১. তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করা:
দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং জীবনে কোনো প্রকার শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটতে না দেওয়া। যাবতীয় ইবাদত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সহিহ তরিকা অনুযায়ী পালন করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।” [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]
২. ফরজ ইবাদত পালন ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে। কারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে।
হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
অর্থ: “আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২]
৩. বেশি বেশি দোয়া করা:
অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাই তাঁর কাছে সর্বদা দোয়া করতে হবে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” [সূরা আলে ইমরান: ৮]
৪. অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখা:
যিকির অন্তরকে সজীব রাখে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আর-রাদ: ২৮]
৫. আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
যেকোনো মূল্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ গুনাহের কারণে অন্তর থেকে ঈমানের নূর কমে যায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর ইস্তিকামাত নসিব করুন।
দ্বীনের উপর স্থির থাকা বা ‘ইস্তিকামাত’ লাভ করা একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া এবং সফলতার মূল চাবিকাঠি। সালাফে সালেহীনদের মানহাজ অনুযায়ী, ফিতনার এই যুগে দ্বীনের উপর অটল থাকতে হলে বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া অতীব জরুরি। নিচে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে বিষয়গুলো গুছিয়ে তুলে ধরা হলো:
১. তাওহীদকে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক ও বিদআত বর্জন করা:
দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রথম শর্ত হলো আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ ঈমান আনা এবং জীবনে কোনো প্রকার শিরক ও বিদআতের অনুপ্রবেশ ঘটতে না দেওয়া। যাবতীয় ইবাদত একমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো সহিহ তরিকা অনুযায়ী পালন করতে হবে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের রব আল্লাহ, অতঃপর এর উপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সুসংবাদ গ্রহণ করো।” [সূরা ফুসসিলাত: ৩০]
২. ফরজ ইবাদত পালন ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা:
নিষ্ঠার সাথে সকল ফরজ বিধানগুলো পালন করতে হবে। এর পাশাপাশি সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি নফল ইবাদত করতে হবে। কারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নৈকট্য লাভ করে।
হাদিসে কুদসিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ
অর্থ: “আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, একপর্যায়ে আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করি।” [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫০২]
৩. বেশি বেশি দোয়া করা:
অন্তরকে দ্বীনের উপর অটল রাখার মালিক একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। তাই তাঁর কাছে সর্বদা দোয়া করতে হবে।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়াটি খুব বেশি বেশি পড়তেন:
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
অর্থ: “হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন।” [সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৪০; আলবানি (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]
এছাড়াও কুরআনে বর্ণিত এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ
অর্থ: “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে হিদায়াত দান করার পর আমাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।” [সূরা আলে ইমরান: ৮]
৪. অন্তরকে সর্বদা আল্লাহর যিকিরে মশগুল রাখা:
যিকির অন্তরকে সজীব রাখে এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” [সূরা আর-রাদ: ২৮]
৫. আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা:
যেকোনো মূল্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ গুনাহের কারণে অন্তর থেকে ঈমানের নূর কমে যায় এবং দ্বীনের উপর স্থির থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে, কোনো অবস্থাতেই আল্লাহর দ্বীন ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে দ্বীনের উপর ইস্তিকামাত নসিব করুন।